hadith book logo

ঈদে মীলাদুন্নবী

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

ঈদে মীলাদুন্নবী [শরী‘আতের দৃষ্টিতে কতটুকু শুদ্ধ]

কয়েক বছর পূর্বে রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকার এক মসজিদে উপস্থিত হলাম প্রতিদিনের মতো এশার সালাত আদায় করতে। দেখলাম আজ মসজিদ কানায় কানায় পূর্ণ। অন্য দিনের চেয়ে কম হলেও মুসল্লীদের সংখ্যা দশগুণ বেশি। সাধারণত এ দৃশ্য চোখে পড়ে রমযান ও শবে কদরে। মনে করলাম আজ হয়তো কারো বিবাহ অনুষ্ঠান কিংবা জানাযা। এত লোক সমাগমের কারণ জিজ্ঞেস করলাম ইমাম সাহেবকে। তিনি বললেন, আজ ১২ই রবিউল আউয়ালের রাত। মীলাদুন্নবীর উৎসবের রাত।

সম্মানিত পাঠক!

এ রাত ও পরবর্তী দিন ১২ই রবিউল আউয়াল অত্যন্ত জাকজমকপূর্ণভাবে এক সময় পালিত হত বৃহত্তর চট্রগ্রাম, নোয়াখালী ও সিলেটের কিছু অঞ্চলে। দেশের অন্যান্য এলাকায়ও পালিত হত, তবে তুলনামুলক কম গুরুত্বে। এ রাতে খাওয়া-দাওয়া, আনন্দ উৎসবে মুখর হয়ে উঠে অনেক পাড়া-মহল্লা। যারা এটি পালন করে তাদের উৎসব মুখরতা দেখলে মনে হবে নিশ্চয় এটি হবে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় উৎসবের দিন। আর এটি তাদের অনেকে বিশ্বাসও করে। তাই তো শ্লোগান দেয়, দেয়ালে লিখে ‘‘সকল ঈদের সেরা ঈদ, ঈদে মীলাদ।’’

কিন্তু বাস্তবে কি তাই? দীন ইসলামে ঈদে মীলাদ বলতে কি কিছু আছে? ইসলামে ঈদ কয়টি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম দিবস কি ১২ই রবিউল আউয়াল? নিশ্চিত ও সর্বসম্মতভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত বা মৃত্যু দিবস কি ১২ই রবিউল আউয়াল নয়? যে দিনে রাসূলে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারা গেলেন সে দিনে আনন্দ উৎসব করা কি নবী প্রেমিক কোনো মুসলিমের কাজ হতে পারে? শরী‘আতের দৃষ্টিতে ঈদে মীলাদ পালন করা কি জায়েয? এটি কি বিধর্মীদের অনুকরণ নয়?

এ সকল প্রশ্নের উত্তর খুজতে যেয়ে এ সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা।