hadith book logo

ঈদে মীলাদুন্নবী

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

ইসলামে ঈদ কয়টি?

ইসলামে ঈদ হলো দু’টি। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা।

আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ وَلَهُمْ يَوْمَانِ يَلْعَبُونَ فِيهِمَا، فَقَالَ : مَا هَذَانِ الْيَوْمَانِ؟ قَالُوا : كُنَّا نَلْعَبُ فِيهِمَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَبْدَلَكُمْ بِهِمَا خَيْرًا مِنْهُمَا : يَوْمَ الْأَضْحَى، وَيَوْمَ الْفِطْرِ»

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আসলেন তখন দেখলেন বছরের দু’টি দিনে মদীনাবাসীরা আনন্দ-ফুর্তি করছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এ দিন দু’টো কী? তারা বলল যে আমরা ইসলামপূর্ব মুর্খতার যুগে এ দু’দিন আনন্দ-ফুর্তি করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘‘আল্লাহ তা‘আলা এ দু’দিনের পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম দু’টি দিন তোমাদের দিয়েছেন। তা হলো ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর।” [আবূ দাঊদ, হাদীস নং ১১৩৪।]

ইসলামে ঈদ শুধু দু’টি এ বিষয়টি শুধু সহীহ হাদীস দ্বারাই প্রমাণিত নয়, তা রবং ইজমায়ে উম্মত দ্বারাও প্রতিষ্ঠিত। যদি কেউ ইসলামে তৃতীয় আরেকটি ঈদের প্রচলন করে তবে তা কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না। বরং তা দীনের মধ্যে একটা বিদ‘আত ও বিকৃতি বলেই গণ্য হবে। যখন কেউ বলে ‘সকল ঈদের সেরা ঈদ- ঈদে মীলাদ’ তখন স্বাভাবিকভাবেই এর অর্থ হয় ইসলামে যতগুলো ঈদ আছে তার মধ্যে ঈদে মীলাদ হলো শ্রেষ্ঠ ঈদ। কীভাবে এটি সম্ভব? যে ঈদকে আল্লাহ ও তার রাসূল স্বীকৃতি দেন নি। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও ইমামগণ যে ঈদকে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা ইসলামে শ্রেষ্ঠ ঈদ বলে বিবেচিত হতে পারে কীভাবে? কোনোভাবেই নয়। আর যে ঈদ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচলন করে গেলেন তা শ্রেষ্ঠ হবে না। এটি কীভাবে মেনে নেওয়া যায়? কোনোভাবেই নয়, তবে শুধু একদিক থেকে মেনে নেওয়া যায়, আর তা হলো যত ভূয়া ও ভেজাল ঈদ আছে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো এই ঈদ!

তা সত্ত্বেও যদি ঈদ পালন করতেই হয় তবে তা ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখে না করে ৯ই রবিউল আউয়ালে করা যেতে পারে। তাহলে অন্তত সাইয়্যিদুল মুরসালীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু দিবসে ঈদ পালন করার মতো ধৃষ্ঠতা ও বেয়াদবির পরিচয় দেওয়া হবে না। অবশ্য এটাও কিন্তু বিদ‘আত বলে গণ্য হবে।

সার কথা ১২ই রবিউল আউয়ালে ঈদে-মীলাদ উদযাপন করা শরী‘আত বিরোধী কাজ। এ ধরণের কাজ হতে যেমন নিজেদের বাঁচাতে হবে তেমনি অন্যকে বিরত রাখার চেষ্টা করতে হবে।