১
ঈদে মীলাদুন্নবী
লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯
একটি সংশয় নিরসন
যারা বিদ‘আতে লিপ্ত তারা অনেক সময় তাদের বিদ‘আতী কাজকে সঠিক বলে প্রমাণ করার জন্য কুরআন বা হাদীস থেকেও উদ্ধৃতি দেন, যদিও তার পন্থা-পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য নয়। ঈদে মীলাদের ব্যাপারে তাদের অনেকে বলেন ঈদে মীলাদ বা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম দিন পালন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। হাদীসটি হলো:
আবু কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
«أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل عن صوم يوم الاثنين، فقال : ذلك يوم وُلِدْتُ فيه ويوم بُعِثْتُ فيه أو أنزل علي فيه» .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সোমবারে সাওম পালন করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বললেন, ‘‘এ দিনে আমার জন্ম হয়েছে এবং এ দিনে আমাকে নবুওয়াত দেওয়া হয়েছে বা আমার ওপর কুরআন নাযিল শুরু হয়েছে।’’ [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৬২।]
তারা এ হাদীস পেশ করে বলতে চান যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার দিনে জন্মগ্র্রহণ করেছেন বলে ঐ দিনে সাওম পালন করে তা উদযাপন করাকে সুন্নাত করেছেন। তাই জন্মদিন পালন এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
জওয়াব
এক. আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু জন্ম দিনের কারণে সোমবার সাওম পারন করতে বলেন নি, বরং বৃহস্পতিবারও সাওম পালন করাকে সুন্নাত করেছেন। সেটা তাঁর জন্মদিন নয়।
হাদীসে এসেছে: আবু হুরারা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«تُعْرَضُ الأَعْمَالُ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالخَمِيسِ، فَأُحِبُّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ»
‘‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। কাজেই আমি পছন্দ করি যখন আমার আমল পেশ করা হবে তখন আমি সাওম পালনকারী থাকব।’’ [সুনান তিরমিযী, হাদীস নং ৭৪৭।]
উল্লিখিত হাদীস দ্বারা কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে বুঝে আসে। তা হলো:
দুই. যদি জন্ম দিবসের কারণে সাওম পালন করার বিধান হতো তাহলে শুধু সোমবারে সাওম রাখা সুন্নাত হতো, কিন্তু তা হয় নি; বরং বৃহস্পতিবার ও সোমবার সপ্তাহে দু’দিন সাওম পালন করাকে সুন্নাত করা হয়েছে। তাই এ সাওমের কারণ শুধু জন্ম দিবস নয়।
তিন. এ দু’দিনে সাওম সুন্নাত হওয়ার কারণ হলো, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে আমল পেশ হওয়া।
চার. সোমবারের ফযীলত দু’ কারণে। জন্মদিন ও নবুওয়াতপ্রাপ্তি বা কুরআন নাযিল। শুধু জন্ম দিন হিসেবে নয়।
পাঁচ. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্মদিন সোমবারে ঈদ পালন করতে বলেন নি, বরং ঈদের বিরোধীতা করে সাওম রাখতে বলেছেন।
ছয়. সাওম হলো ঈদের বিপরীত। সাওম পালন করলে সে দিন ঈদ করা যায় না, ঈদ ও সাওম কোনো দিন এক তারিখে হয় না। হাদীসের দাবি হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিনে সাওম রাখা। কিন্তু সাওম না রেখে তার বিপরীতে পালন করার পিছনে কি যুক্তি থাকতে পারে?
সাত. তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া যায় যে, এ হাদীসটিতে রাসূলের জন্মদিন পালনের ইঙ্গিত রয়েছে। তাহলে হাদীস অনুযায়ী প্রতি সোমবার কেন ঈদ পালন করা হচ্ছে না? সোমবারেও নয় বরং ঈদ পালন করা হচ্ছে বছরে একবার রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে। সে দিন সোমবার না হলেও পালিত হয়। এ হাদীসে কি ১২ই রবিউল আউয়ালে জন্মদিন পালন করতে বলা হয়েছে?
আট. যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া হয় উল্লিখিত হাদীসটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন পালন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে তা হলে আমি বলব হ্যাঁ, হাদীসটিতে জন্মদিবস কীভাবে পালন করতে হবে তাও বলে দেওয়া হয়েছে। তা হলো ঐ দিনে সাওম পালন করা। কিন্তু ঐ দিনে সাওম পালন না করে বেশি খাওয়া-দাওয়া করা হয়। ঈদ নাম দিয়ে সাওম পালন করার বিরোধিতা করা হয়। তাহলে তাদের কাছে সাওম পালন করার সুন্নাতের চেয়ে খাওয়া-দাওয়া বেশি প্রিয়? মনে রাখা উচিৎ, প্রেম-মুহাব্বতের সত্যিকার প্রমাণ হলো ত্যাগ ও কুরবানী করা, উপোস থাকা, কষ্ট স্বীকার করা। খাওয়া-দাওয়া ও আমোদ-ফুর্তি নয়। মুখে নবী-প্রেমের দাবি ও কাজ-কর্মে তার আদর্শের বিরোধিতা করার নাম কখনো মুহাব্বত হতে পারে না, বরং বলা চলে ধোকাবাজি।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকেই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য করার তাওফীক দান করুন! আমিন।
সমাপ্ত
আবু কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
«أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل عن صوم يوم الاثنين، فقال : ذلك يوم وُلِدْتُ فيه ويوم بُعِثْتُ فيه أو أنزل علي فيه» .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সোমবারে সাওম পালন করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বললেন, ‘‘এ দিনে আমার জন্ম হয়েছে এবং এ দিনে আমাকে নবুওয়াত দেওয়া হয়েছে বা আমার ওপর কুরআন নাযিল শুরু হয়েছে।’’ [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৬২।]
তারা এ হাদীস পেশ করে বলতে চান যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার দিনে জন্মগ্র্রহণ করেছেন বলে ঐ দিনে সাওম পালন করে তা উদযাপন করাকে সুন্নাত করেছেন। তাই জন্মদিন পালন এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
জওয়াব
এক. আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু জন্ম দিনের কারণে সোমবার সাওম পারন করতে বলেন নি, বরং বৃহস্পতিবারও সাওম পালন করাকে সুন্নাত করেছেন। সেটা তাঁর জন্মদিন নয়।
হাদীসে এসেছে: আবু হুরারা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«تُعْرَضُ الأَعْمَالُ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالخَمِيسِ، فَأُحِبُّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ»
‘‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। কাজেই আমি পছন্দ করি যখন আমার আমল পেশ করা হবে তখন আমি সাওম পালনকারী থাকব।’’ [সুনান তিরমিযী, হাদীস নং ৭৪৭।]
উল্লিখিত হাদীস দ্বারা কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে বুঝে আসে। তা হলো:
দুই. যদি জন্ম দিবসের কারণে সাওম পালন করার বিধান হতো তাহলে শুধু সোমবারে সাওম রাখা সুন্নাত হতো, কিন্তু তা হয় নি; বরং বৃহস্পতিবার ও সোমবার সপ্তাহে দু’দিন সাওম পালন করাকে সুন্নাত করা হয়েছে। তাই এ সাওমের কারণ শুধু জন্ম দিবস নয়।
তিন. এ দু’দিনে সাওম সুন্নাত হওয়ার কারণ হলো, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে আমল পেশ হওয়া।
চার. সোমবারের ফযীলত দু’ কারণে। জন্মদিন ও নবুওয়াতপ্রাপ্তি বা কুরআন নাযিল। শুধু জন্ম দিন হিসেবে নয়।
পাঁচ. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্মদিন সোমবারে ঈদ পালন করতে বলেন নি, বরং ঈদের বিরোধীতা করে সাওম রাখতে বলেছেন।
ছয়. সাওম হলো ঈদের বিপরীত। সাওম পালন করলে সে দিন ঈদ করা যায় না, ঈদ ও সাওম কোনো দিন এক তারিখে হয় না। হাদীসের দাবি হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিনে সাওম রাখা। কিন্তু সাওম না রেখে তার বিপরীতে পালন করার পিছনে কি যুক্তি থাকতে পারে?
সাত. তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া যায় যে, এ হাদীসটিতে রাসূলের জন্মদিন পালনের ইঙ্গিত রয়েছে। তাহলে হাদীস অনুযায়ী প্রতি সোমবার কেন ঈদ পালন করা হচ্ছে না? সোমবারেও নয় বরং ঈদ পালন করা হচ্ছে বছরে একবার রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে। সে দিন সোমবার না হলেও পালিত হয়। এ হাদীসে কি ১২ই রবিউল আউয়ালে জন্মদিন পালন করতে বলা হয়েছে?
আট. যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া হয় উল্লিখিত হাদীসটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন পালন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে তা হলে আমি বলব হ্যাঁ, হাদীসটিতে জন্মদিবস কীভাবে পালন করতে হবে তাও বলে দেওয়া হয়েছে। তা হলো ঐ দিনে সাওম পালন করা। কিন্তু ঐ দিনে সাওম পালন না করে বেশি খাওয়া-দাওয়া করা হয়। ঈদ নাম দিয়ে সাওম পালন করার বিরোধিতা করা হয়। তাহলে তাদের কাছে সাওম পালন করার সুন্নাতের চেয়ে খাওয়া-দাওয়া বেশি প্রিয়? মনে রাখা উচিৎ, প্রেম-মুহাব্বতের সত্যিকার প্রমাণ হলো ত্যাগ ও কুরবানী করা, উপোস থাকা, কষ্ট স্বীকার করা। খাওয়া-দাওয়া ও আমোদ-ফুর্তি নয়। মুখে নবী-প্রেমের দাবি ও কাজ-কর্মে তার আদর্শের বিরোধিতা করার নাম কখনো মুহাব্বত হতে পারে না, বরং বলা চলে ধোকাবাজি।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকেই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য করার তাওফীক দান করুন! আমিন।
সমাপ্ত