hadith book logo

কুফুরের পরিণতি

লেখকঃ জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

(৩) সংঘাতময় জীবন:

যে কুফুরী করে, সে তার আত্মা এবং সৃষ্টি-জগতের যা তার চতুঃপার্শ্বে তার সাথে সংঘাতের মধ্যে জীবনযাপন করে। কারণ, তার আত্মাকে সৃষ্টি করা হয়েছে তাওহীদ তথা একত্ববাদের ওপর। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿فِطۡرَتَ ٱللَّهِ ٱلَّتِي فَطَرَ ٱلنَّاسَ عَلَيۡهَاۚ ٣٠﴾ [ الروم : ٣٠ ]

“আল্লাহর প্রকৃতি, যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন।” [সূরা আর-রূম, আয়াত: ৩০]

আর তার শরীর তার প্রতিপালকের জন্য আত্মসমর্পণ করে এবং তার নিয়মে চলে। কিন্তু কাফের তার সৃষ্টি তথা প্রকৃতির বিরোধিতা করে এবং সে তার স্বেচ্ছামুলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে তার প্রভুর আদেশের বিপক্ষ হয়ে বেঁচে থাকে। ফলে তার শরীর আত্মসমর্পণকারী হলেও তার পছন্দ হয় বিপক্ষ। সে তার চারপাশের সৃষ্টি জগতের সাথে সংঘাতের মধ্যে রয়েছে। কারণ, এই বিশ্বজগতের সব চেয়ে বড় থেকে আরম্ভ করে সব চেয়ে ছোট কীট-পতঙ্গ পর্যন্ত সব কিছু ঐ নীতি নির্ধারণের ওপর চলে, যা তাদের প্রতিপালক তাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ثُمَّ ٱسۡتَوَىٰٓ إِلَى ٱلسَّمَآءِ وَهِيَ دُخَانٞ فَقَالَ لَهَا وَلِلۡأَرۡضِ ٱئۡتِيَا طَوۡعًا أَوۡ كَرۡهٗا قَالَتَآ أَتَيۡنَا طَآئِعِينَ ١١﴾ [ فصلت : ١١ ]

“অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেন যা ছিল ধূম্র বিশেষ। তারপর তিনি এটাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে এসো (আমার বশ্যতা স্বীকার কর) ইচ্ছা অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা অনুগত হয়ে আসলাম”। [সূরা ফুস্সিলাত, আয়াত: ১১]

বরং এই বিশ্বজগত ঐ ব্যক্তিকে পছন্দ করে যে আল্লাহর জন্য আত্মসমর্পণ করার ক্ষেত্রে তার সাথে মিলে যায় এবং যে তার বিরোধিতা করে তাকে সে অপছন্দ করে। আর কাফের তো হলো এই সৃষ্টি জগতের মাঝে অবাধ্য, যেহেতু সে নিজেকে প্রকাশ্যভাবে তা প্রভুর বিরোধী হিসাবে দাঁড় করিয়েছে। এ জন্য ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডল এবং সমস্ত সৃষ্টিকুলের জন্য; তাকে, তার কুফুরীকে এবং তার নাস্তিকতাকে ঘৃণা করা আবশ্যক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَقَالُواْ ٱتَّخَذَ ٱلرَّحۡمَٰنُ وَلَدٗا ٨٨ لَّقَدۡ جِئۡتُمۡ شَيۡ‍ًٔا إِدّٗا ٨٩ تَكَادُ ٱلسَّمَٰوَٰتُ يَتَفَطَّرۡنَ مِنۡهُ وَتَنشَقُّ ٱلۡأَرۡضُ وَتَخِرُّ ٱلۡجِبَالُ هَدًّا ٩٠ أَن دَعَوۡاْ لِلرَّحۡمَٰنِ وَلَدٗا ٩١ وَمَا يَنۢبَغِي لِلرَّحۡمَٰنِ أَن يَتَّخِذَ وَلَدًا ٩٢ إِن كُلُّ مَن فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ إِلَّآ ءَاتِي ٱلرَّحۡمَٰنِ عَبۡدٗا٩٣﴾ [ مريم : ٨٨، ٩٣ ]

“আর তারা বলে, দয়াময় আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তোমরা তো এক বীভৎস কথার অবতারণা করেছ। এতে যে আকাশসমূহ বিদীর্ণ হয়ে যাবে, পৃথিবী খণ্ড-বিখণ্ড হবে এবং পর্বতসমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে আপতিত হবে। যেহেতু তারা দয়াময় আল্লাহর ওপর সন্তান আরোপ করে। অথচ সন্তান গ্রহণ করা আল্লাহর জন্য শোভনীয় নয়। আকাশসমুহে এবং পৃথিবীতে যারাই রয়েছে তারা সবাই আল্লাহর নিকট উপস্থিত হবে বান্দা হিসেবে”। [সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৮৮-৯৩]

মহান আল্লাহ ফির‘আউন এবং তার সৈন্যদল সম্পর্কে বলেন,

﴿فَمَا بَكَتۡ عَلَيۡهِمُ ٱلسَّمَآءُ وَٱلۡأَرۡضُ وَمَا كَانُواْ مُنظَرِينَ ٢٩﴾ [ الدخان : ٢٩ ]

“আকাশ এবং পৃথিবী কেউই তাদের জন্যে অশ্রুপাত করে নি এবং তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হয় নি।” [সূরা আদ-দুখান, আয়াত: ২৯]