১
পবিত্র কুরআনের আলোকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাত
লেখকঃ ড. মোঃ আব্দুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৫
১৯। দীনকে বিজয়ী আদর্শরূপে প্রতিষ্ঠা করা
সকল নবী-রাসূল এর দীন এক ও অভিন্ন, আর তা হলো ইসলাম। মহান আল্লাহর নিকট ইসলাম-ই একমাত্র মনোনীত জীবন ব্যবস্থা। যুগে যুগে এ আদর্শকে বিজয়ী আদর্শরূপে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে নবী-রাসূলগণ ব্রতী হন। পৃথিবীতে প্রচলিত মানবরচিত সকল মতাদর্শের ওপর ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করত সে সকল আদর্শের অসারতা প্রমাণ করাই তাদের মহান লক্ষ্য। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার ব্যতিক্রম নন। তিনি সকল ধর্মের উপর ইসলামকে বিজয়ী আদর্শরূপে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তাঁর মাধ্যমেই এ দীন পরিপূর্ণতা লাভ করে। পবিত্র কুরআনে তাঁকে প্রেরণের উদ্দেশ্য বিধৃত করতে গিয়ে মহান আল্লাহ বলেন,
﴿هُوَ ٱلَّذِيٓ أَرۡسَلَ رَسُولَهُۥ بِٱلۡهُدَىٰ وَدِينِ ٱلۡحَقِّ لِيُظۡهِرَهُۥ عَلَى ٱلدِّينِ كُلِّهِۦ وَلَوۡ كَرِهَ ٱلۡمُشۡرِكُونَ ٩﴾ [ الصف : ٩ ]
‘‘তিনি সেই সত্তা যিনি হিদায়াত ও সত্য দীন সহকারে রাসূল প্রেরণ করেছেন, যেন যাবতীয় মতাদর্শের উপর ইসলাম বিজয়ী আদর্শরূপে স্থান পায়। যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করুক।’’ [সূরা আস-সাফ, আয়াত: ৯]
এ বিজয় ছিল বৈষয়িক, আধ্যাত্মিক, জ্ঞানগত এবং বর্ণনাগত। ইসলাম দলীল প্রমাণ এবং জ্ঞানগত শক্তি ও যুক্তি দ্বার প্রতিপক্ষকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। তিনি ছিলেন জ্ঞান ও দর্শনের উৎস। আকীদা-বিশ্বাস, রীতি-নীতি ও শিষ্টাচার, ইবাদত, লেন-দেন, বিবাহ-শাদী, রাষ্ট্রনীতি-পারিবারিক প্রশাসন, আম্বিয়া-ই কিরামের জীবনী ও পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ইতিহাস সম্পর্কিত জ্ঞান দান করে মানুষকে ধন্য করেছেন। তাঁর আগমনের সময় সমগ্র বিশ্ব আমল ও আকিদা, ভ্রান্ত ধারণা, কুসংস্কার ও প্রথা প্রচলনের অন্ধকার গহ্বরে নিমজ্জিত ছিল। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে সাধারণ মানুষের চিন্তা চেতনায় দাসত্ববোধ চাপিয়ে দিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সকল কু-প্রথার মূলে কুঠারাঘাত করেন, আতঙ্ক ও আশঙ্কার পরিবর্তে শান্তি ও নিরাপত্তা, যুলুম-অত্যাচারের পরিবর্তে ন্যায় ও সুবিচার, গোত্র ও শ্রেণি বৈষম্যের পরিবর্তে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সহজ ও সরলপন্থা প্রবর্তন ও প্রচলন করে মানুষের স্কন্ধ হতে ভ্রান্তি ও ভ্রষ্টতার দুর্বহ বোঝা অপসারণ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর এ অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন,
﴿وَيَضَعُ عَنۡهُمۡ إِصۡرَهُمۡ وَٱلۡأَغۡلَٰلَ ٱلَّتِي كَانَتۡ عَلَيۡهِمۡ﴾ [ الاعراف : ١٥٧ ]
‘‘এবং সে মুক্ত করে তাদেরকে তাদের গুরুভার ও শৃঙ্খল হতে, যা তাদের চেপে বসেছিল।’’ [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৫৭]
﴿هُوَ ٱلَّذِيٓ أَرۡسَلَ رَسُولَهُۥ بِٱلۡهُدَىٰ وَدِينِ ٱلۡحَقِّ لِيُظۡهِرَهُۥ عَلَى ٱلدِّينِ كُلِّهِۦ وَلَوۡ كَرِهَ ٱلۡمُشۡرِكُونَ ٩﴾ [ الصف : ٩ ]
‘‘তিনি সেই সত্তা যিনি হিদায়াত ও সত্য দীন সহকারে রাসূল প্রেরণ করেছেন, যেন যাবতীয় মতাদর্শের উপর ইসলাম বিজয়ী আদর্শরূপে স্থান পায়। যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করুক।’’ [সূরা আস-সাফ, আয়াত: ৯]
এ বিজয় ছিল বৈষয়িক, আধ্যাত্মিক, জ্ঞানগত এবং বর্ণনাগত। ইসলাম দলীল প্রমাণ এবং জ্ঞানগত শক্তি ও যুক্তি দ্বার প্রতিপক্ষকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। তিনি ছিলেন জ্ঞান ও দর্শনের উৎস। আকীদা-বিশ্বাস, রীতি-নীতি ও শিষ্টাচার, ইবাদত, লেন-দেন, বিবাহ-শাদী, রাষ্ট্রনীতি-পারিবারিক প্রশাসন, আম্বিয়া-ই কিরামের জীবনী ও পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ইতিহাস সম্পর্কিত জ্ঞান দান করে মানুষকে ধন্য করেছেন। তাঁর আগমনের সময় সমগ্র বিশ্ব আমল ও আকিদা, ভ্রান্ত ধারণা, কুসংস্কার ও প্রথা প্রচলনের অন্ধকার গহ্বরে নিমজ্জিত ছিল। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে সাধারণ মানুষের চিন্তা চেতনায় দাসত্ববোধ চাপিয়ে দিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সকল কু-প্রথার মূলে কুঠারাঘাত করেন, আতঙ্ক ও আশঙ্কার পরিবর্তে শান্তি ও নিরাপত্তা, যুলুম-অত্যাচারের পরিবর্তে ন্যায় ও সুবিচার, গোত্র ও শ্রেণি বৈষম্যের পরিবর্তে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সহজ ও সরলপন্থা প্রবর্তন ও প্রচলন করে মানুষের স্কন্ধ হতে ভ্রান্তি ও ভ্রষ্টতার দুর্বহ বোঝা অপসারণ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর এ অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন,
﴿وَيَضَعُ عَنۡهُمۡ إِصۡرَهُمۡ وَٱلۡأَغۡلَٰلَ ٱلَّتِي كَانَتۡ عَلَيۡهِمۡ﴾ [ الاعراف : ١٥٧ ]
‘‘এবং সে মুক্ত করে তাদেরকে তাদের গুরুভার ও শৃঙ্খল হতে, যা তাদের চেপে বসেছিল।’’ [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৫৭]