hadith book logo

পবিত্র কুরআনের আলোকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাত

লেখকঃ ড. মোঃ আব্দুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

ক. রিসালাতের পরিচয়

রিসালাত আরবী শব্দ, যার মূল ধাতু হলো ( ر س ل ) রা, সিন, লাম। সাধারণ অর্থে যা কিছু প্রেরণ করা হয় তাকেই আমরা রিসালাত বলে জানি। যেমন কোনো চিঠি প্রেরণ। এটি একবচন, বহুবচনে الرسالات বা رسائل ব্যবহৃত হয়। আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে রিসালাতের শাব্দিক অর্থ হলো: বার্তাবহন বা দৌত্যকার্য। [অধ্যাপক মুহাম্মাদ ফজলুর রহমান, আকায়েদুল ইসলাম, ঢাকা: কুতুবখানায়ে রশীদিয়া, দ্বিতীয় সংস্করণ, জুন, ১৯৯৭, পৃ. ৪৭।] সম্বোধন বা খিতাব, কিতাব, [ড. ইবরাহীম মাদকুর, আল-মু‘জামুল ওসীত, দিল্লী, দারুল কলম, তাবি, পৃ. ৩৪৪।] লিখিত ছহীফা, [আল-মুনজিদ লুইস মালুক আল ইয়াসু’য়ী, ২৪তম সংস্করণ, বৈরুত: দারু ইহইয়াইত তুরাছিল আরাবী, তাবি, পৃ. ২০৯।] লিখিত বিষয়বস্তু বা মাকতুব। [মনির আল বা‘লাবাক্কী, আল-মাওরিদ, বৈরুত: দারুল ইলমি লিল মালাইন, ১৯৭৬, পৃ. ৫৮৩।] বক্তব্য যা কোনো ব্যক্তি অন্যের নিকট প্রাপ্ত হয়ে বহন করে নিয়ে আসে, চাই সেটা লিখিত হোক অথবা অলিখিত [মু‘জামু লুগাতিল ফুকাহা, পৃ. ২২২।] প্রভৃতি। ইংরেজীতে একে Message, letter, Note, dispatch, communication বলা হয়। [মনির আল-বালাবাক্কী, প্রাগুক্ত, পৃ. ৫৮৩।]

ইসলামী শরী‘আতের পরিভাষায় আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন স্বীয় বান্দাদের হিদায়াত লাভের নিমিত্তে তাদের মধ্যে মনোনীত বান্দার মাধ্যমে যে বাণী পাঠিয়েছেন তাকেই রিসালাত বলে। আর যারা এর বাহক তারা হলেন রাসূল। মহান আল্লাহ্ একান্ত স্বীয় ইচ্ছায়ই তাদের মনোনয়ন দিয়ে থাকেন। এ সম্পর্কে কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন,

﴿وَإِنَّهُمۡ عِندَنَا لَمِنَ ٱلۡمُصۡطَفَيۡنَ ٱلۡأَخۡيَارِ ٤٧﴾ [ص: ٤٧ ]

‘‘অবশ্যই তারা ছিল আমার মনোনীত উত্তম বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।’’[সূরা ছোয়াদ, আয়াত: ৪৭]

অতএব, আল্লাহ তা‘আলা যাঁদেরকে মনোনীত করেন তাঁদের মধ্যে দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা ও গুণাবলী জন্মগত ও স্বভাবগতভাবেই সৃষ্টি করে দেন। মক্কার কাফিররা নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের অস্বীকৃতি জানাতে চাইলে অত্যন্ত দীপ্ত কণ্ঠে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন:

﴿ٱللَّهُ أَعۡلَمُ حَيۡثُ يَجۡعَلُ رِسَالَتَهُ﴾ [ الانعام : ١٢٤ ]

“আর আল্লাহ তাঁর রিসালাতের ভার কার ওপর অর্পণ করবেন তা তিনিই ভালো জানেন।’’ [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১২৪]

সুতরাং এটি কোনো অর্জনীয় বিষয় নয়। বরং মহান আল্লাহ প্রদত্ত মানবজাতির প্রতি এক সীমাহীন নি‘আমত।

সুতরাং মহান রাব্বুল ‘আলামীনের তরফ থেকে জগতবাসী বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন জীবের নিকট বার্তা পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমকে বলা হয় রিসালাত। এই দৌত্যকার্য সম্পন্ন করার কাজে দু-শ্রেণির লোক নিয়োজিত রয়েছেন। তারা হলেন- ফিরিশতা ও মানুষ, যাদেরকে রাসূল বা দূত হিসেবে অভিহিত করা হয়। আদিকাল হতেই আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক জাতির প্রতিই তাদের হিদায়াতের জন্য সতর্ককারী রাসূল পাঠিয়েছেন। এ মর্মে আল-কুরআনে এসেছে:

﴿وَإِن مِّنۡ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٞ﴾ [ فاطر : ٢٤ ]

‘‘আর এমন কোনো জাতি নেই যাদের কাছে সতর্ককারী বা ভীতি প্রদর্শক প্রেরিত হয় নি।’’ [সূরা ফাতির , আয়াত: ২৪]

অন্যত্রে এসেছে:

﴿وَلِكُلِّ أُمَّةٖ رَّسُولٞ﴾ [ يونس : ٤٧ ]

‘‘আর প্রত্যেক উম্মতের জন্যই রয়েছে রাসূল।’’ [সূরা ইউনুস, আয়াত: ৪৭]