hadith book logo

পবিত্র কুরআনের আলোকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাত

লেখকঃ ড. মোঃ আব্দুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

৩। আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী

তিনি স্বয়ং ছিলেন দা‘ঈ ইলাল্লাহ। তাঁর আন্দোলন, সংগঠন, সংগ্রাম সবকিছুর সারকথা মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকা, মানুষকে ঘোর তামাশাচ্ছন্ন কুফরী ও শির্কের অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে আহ্বান জানাতেন তিনি। সমগ্র বিশ্ববাসীকে তিনি ইসলামের সুশীতল ছায়ার দিকে আহ্বান জানাতেন। শুধু তাই নয়, সুদীর্ঘ তের বছর একনিষ্ঠভাবে মক্কী জীবনে দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনার পর তিনি মদীনায় হিযরত করেন। সেখানে দাওয়াতী মিশনের তিনি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন। সংগঠিত করলেন মানবজাতিকে, দূত পাঠালেন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে। মহান রাব্বুল আলামীনের একত্ববাদের সুমহান বাণী ছড়িয়ে দিল তাঁর অসংখ্য শিষ্য পৃথিবীর দিক দিগন্তে। চারিদিক ছড়িয়ে পড়ল ইসলামের সুমহান আহ্বান, দাওয়াতের অমীয় সুধা পান করে দলে দলে লোকজন ইসলামের সুমহান ছায়াতলে আশ্রয় নিল। জড় হল একত্ববাদের পতাকাতলে। একাকার হয়ে গেল সব ব্যবধান, ঘুঁচে গেল সব অন্ধকার ও জুলমাত। করতলগত হল সমগ্র বিশ্ব। এ মর্মে পবিত্র কুরআনে এসেছে:

﴿إِذَا جَآءَ نَصۡرُ ٱللَّهِ وَٱلۡفَتۡحُ ١ وَرَأَيۡتَ ٱلنَّاسَ يَدۡخُلُونَ فِي دِينِ ٱللَّهِ أَفۡوَاجٗا ٢﴾ [ النصر : ١، ٢ ]

‘‘যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় তখন আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দীনে প্রবেশ করতে দেখবেন।’’ [সূরা আন-নাসর, আয়াত: ১-২]

ইসলামী দাওয়াহ কার্যক্রমের মাঝেই যে ইসলামের প্রাণশক্তি। সারাজীবন তিনি স্বীয় কর্মকাণ্ড দ্বারা তা প্রমাণ করে গেছেন। জীবন সায়া ‎‎ হ্ন বিদায় হজের ভাষণেও তিনি স্বীয় অনুসারিদেরকে এ কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য দ্ব্যর্থহীনভাবে নির্দেশ দিয়ে গেছেন:

«بلغوا عني ولو آية»

“একটি আয়াত হলেও আমার পক্ষ থেকে (অন্যের নিকট) পৌঁছে দাও।’’ [তিরমিযী, হাদীস নং ২৫৯৩, কিতাবুল ইলম।] সূরা ইউসুফে তো এটাকেই একমাত্র কাজ বা প্রধানতম কাজ হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে:

﴿قُلۡ هَٰذِهِۦ سَبِيلِيٓ أَدۡعُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ﴾ [ يوسف : ١٠٨ ]

বলা এটাই আমার পথ যে, আমি আল্লাহর দিকে আহবান জানাই। [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১০৮] মূলতঃ এটি ছিল রাব্বুল আলামীনের ঘোষণারই প্রতিফলন। তিনি বলেন,

﴿ٱدۡعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِٱلۡحِكۡمَةِ وَٱلۡمَوۡعِظَةِ ٱلۡحَسَنَةِ﴾ [ النحل : ١٢٥ ]

‘‘আল্লাহর পথে মানুষকে হিকমত ও উত্তম উপদেশ সহকারে দাওয়াত দাও।’’ [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১২৫]

﴿فَذَكِّرۡ إِنَّمَآ أَنتَ مُذَكِّرٞ ٢١ لَّسۡتَ عَلَيۡهِم بِمُصَيۡطِرٍ ٢٢﴾ [ الغاشية : ٢١، ٢٢ ]

‘‘হে রাসূল! আপনি তাদেরকে উপদেশ দিন, আপনি কেবল উপদেশদাতা, আপনাকে দারোগা বানিয়ে পাঠানো হয় নি যে আপনি তাদের বাধ্য করবেন।’’ [সূরা আল-গাশিয়াহ, আয়াত: ২১-২২]

অন্যত্র এসেছে:

﴿فَإِنَّمَا عَلَيۡكَ ٱلۡبَلَٰغُ﴾ [ النحل : ٨٢ ]

‘‘অতঃপর নিশ্চয় আপনার দায়িত্ব শুধু পৌঁছানো।” [সূরা আর-রাদ, আয়াত: ৪০]