১
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর উপর আমলের আবশ্যকতা আর তার অস্বীকারকারীর কাফের হওয়া
লেখকঃ আব্দুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বায রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫
এ বিষয়টির উপর কুরআন থেকে প্রমাণ:
এ বিষয়ে যে সব আয়াত এসেছে তন্মধ্যে সূরা- আলে ইমরানের আয়াতটি অন্যতম, যাতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَأَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ لَعَلَّكُمۡ تُرۡحَمُونَ ١٣٢﴾ [ ال عمران : ١٣٢ ]
“আর তোমরা আনুগত্য কর, আল্লাহ ও রাসূলের, যাতে তোমাদেরকে দয়া করা হয়”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩২]
অনুরূপ সূরা আন-নিসাতে আল্লাহর বাণী,
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُواْ ٱلرَّسُولَ وَأُوْلِي ٱلۡأَمۡرِ مِنكُمۡۖ فَإِن تَنَٰزَعۡتُمۡ فِي شَيۡءٖ فَرُدُّوهُ إِلَى ٱللَّهِ وَٱلرَّسُولِ إِن كُنتُمۡ تُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۚ ذَٰلِكَ خَيۡرٞ وَأَحۡسَنُ تَأۡوِيلًا ٥٩ ﴾ [ النساء : ٥٩ ]
হে মুমিনগণ, তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর আনুগত্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্য থেকে কর্তৃত্বের অধিকারীদের। অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ কর তাহলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে প্রত্যার্পণ করাও -যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখ। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর। [সূরা নিসা, আয়াত: ৫৯]
সূরা আন-নিসাতে আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿مَّن يُطِعِ ٱلرَّسُولَ فَقَدۡ أَطَاعَ ٱللَّهَۖ وَمَن تَوَلَّىٰ فَمَآ أَرۡسَلۡنَٰكَ عَلَيۡهِمۡ حَفِيظٗا ٨٠﴾ [ النساء : ٨٠ ]
“যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে বিমুখ হল, তবে আমি তোমাকে তাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক করে প্রেরণ করিনি”। [সূরা নিসা, আয়াত: ৮০]
কিভাবে তার আনুগত্য করা ও বিবদমান বিষয় আল্লাহ ও রাসূলের সুন্নতের দিকে প্রত্যাবর্তন করা সম্ভব হবে যদি সুন্নাতকে প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া না হয় অথবা দাবী করা হয় যে সুন্নাহ্ সংরক্ষিত নয়? সুন্নাহ্ যদি সংরক্ষিত না হয়, তাহলে বুঝতে হবে আল্লাহ তার বান্দাদের এমন বস্তুর দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন যা কোনো অস্তিত্ব নেই। যা সম্পূর্ণ বাতিল, আল্লাহর প্রতি খারাপ ধারণা করা এবং আল্লাহর সাথে কুফরি করার নামান্তর।
আল্লাহ তা‘আলা সূরা আন-নাহলে বলেন,
﴿وَأَنزَلۡنَآ إِلَيۡكَ ٱلذِّكۡرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيۡهِمۡ وَلَعَلَّهُمۡ يَتَفَكَّرُونَ ٤٤ ﴾ [ النحل : ٤٤ ]
“আর আমরা তোমার প্রতি নাযিল করেছি কুরআন; যাতে তুমি মানুষের জন্য স্পষ্ট করে দিতে পার, যা তাদের প্রতি নাযিল হয়েছে। আর যাতে তারা চিন্তা করে।” [সূরা নাহল আয়াত: ৪৪]
একই সূরাতে পরবর্তী অপর একটি আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَمَآ أَنزَلۡنَا عَلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ ٱلَّذِي ٱخۡتَلَفُواْ فِيهِ وَهُدٗى وَرَحۡمَةٗ لِّقَوۡمٖ يُؤۡمِنُونَ ٦٤ ﴾ [ النحل : ٦٤ ]
“আর আমরা তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছি, শুধু এ জন্য যে, যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে, তা তাদের জন্য তুমি স্পষ্ট করে দেবে এবং এটি হিদায়াত ও রহমত সেই কওমের জন্য যারা ঈমান আনে।” [সূরা নাহল, আয়াত: ৬৪]
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলের উপর তাদের জন্য নাযিলকৃত কুরআনের বর্ণনা করার দায়িত্ব কীভাবে দেন যদি রাসূলের সুন্নার কোনো অস্তিত্ব না থাকে? অথবা যদি রাসূলের সুন্নাহকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা না হয়?
অনুরূপভাবে আল্লাহ তা‘আলা সূরা আন-নূরে বলেন,
﴿قُلۡ أَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُواْ ٱلرَّسُولَۖ فَإِن تَوَلَّوۡاْ فَإِنَّمَا عَلَيۡهِ مَا حُمِّلَ وَعَلَيۡكُم مَّا حُمِّلۡتُمۡۖ وَإِن تُطِيعُوهُ تَهۡتَدُواْۚ وَمَا عَلَى ٱلرَّسُولِ إِلَّا ٱلۡبَلَٰغُ ٱلۡمُبِينُ ٥٤﴾ [ النور : ٥٤ ]
বল, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর। তারপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে সে শুধু তার উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য দায়ী এবং তোমাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই দায়ী। আর যদি তোমরা তার আনুগত্য কর, তবে তোমরা হিদায়াত প্রাপ্ত হবে। আর রাসূলের দায়িত্ব শুধু স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া। [সূরা নূর, আয়াত: ৫৪]
আল্লাহ তা‘আলা সূরা নূরে আরও বলেন,
﴿وَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُواْ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَطِيعُواْ ٱلرَّسُولَ لَعَلَّكُمۡ تُرۡحَمُونَ٥٦﴾ [ النور : ٥٦ ]
“আর তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং রাসূলের আনুগত্য কর, যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হতে পার।” [সূরা নূর আয়াত: ৫৪]
আল্লাহ সূরা আ‘রাফে বলেন,
﴿ قُلۡ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنِّي رَسُولُ ٱللَّهِ إِلَيۡكُمۡ جَمِيعًا ٱلَّذِي لَهُۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ يُحۡيِۦ وَيُمِيتُۖ فََٔامِنُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِ ٱلنَّبِيِّ ٱلۡأُمِّيِّ ٱلَّذِي يُؤۡمِنُ بِٱللَّهِ وَكَلِمَٰتِهِۦ وَٱتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمۡ تَهۡتَدُونَ ١٥٨ ﴾ [ الاعراف : ١٥٧ ]
“বল, হে মানুষ, আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল, যার রয়েছে আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নাই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আন ও তার প্রেরিত উম্মী নবীর প্রতি, যে আল্লাহ ও তার বাণীসমূহের প্রতি ঈমান রাখে। আর তোমরা তার অনুসরণ কর, আশা করা যায়, তোমরা হিদায়াত লাভ করবে।” [সূরা আরাফ, আয়াত: ১৫৭]
উল্লেখিত আয়াতগুলো দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, হিদায়াত ও রহমত একমাত্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করার মধ্যেই নিহিত। সুতরাং, তার সুন্নতের অনুসরণ-অনুকরণ ও তদনুযায়ী আমল করা ছাড়া হিদায়াত লাভ কিভাবে সম্ভব? অথবা এ কথা বলা যে, তার সুন্নতের কোনো বিশুদ্ধতা নাই অথবা তার সুন্নতের উপর ভরসা করা যাবে না, তার হিদায়াত কিভাবে অর্জিত হবে?
আল্লাহ তা‘আলা সূরা আন-নূরে বলেন,
﴿فَلۡيَحۡذَرِ ٱلَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنۡ أَمۡرِهِۦٓ أَن تُصِيبَهُمۡ فِتۡنَةٌ أَوۡ يُصِيبَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٌ ٦٣ ﴾ [ النور : ٦٣ ]
“অতএব যারা তার নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন তাদের ওপর বিপর্যয় নেমে আসা অথবা যন্ত্রণাদায়ক আযাব পৌছার ভয় করে।” [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬৩]
সূরা আল-হাশরে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَمَآ ءَاتَىٰكُمُ ٱلرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَىٰكُمۡ عَنۡهُ فَٱنتَهُواْۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ ٧ ﴾ [ الحشر : ٧ ]
রাসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর যা থেকে সে তোমাদের নিষেধ করে, তা থেকে বিরত হও এবং আল্লাহকেই ভয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর। [সূরা হাশর, আয়াত: ৭]
এ বিষয়ে আরও অনেক আয়াত রয়েছে যেগুলো প্রমাণ করে যে আল্লাহর রাসূলের আনুগত্য করা ও তিনি যা নিয়ে দুনিয়াতে আগমন করেছেন তার আনুগত্য করাও ফরয; যেমনটি এর পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহর কিতাবের অনুসরণ-অনুকরণ করা, আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরা, আল্লাহর কিতাবের আদেশ নিষেধ পালন করা ফরয। এ দুটি-কুরআন ও সূন্নাহ-একটি অপরটির সম্পূরক ও অবিচ্ছেদ্য মূল উৎস। দুটির কোনোটিকেই অস্বীকার করা যাবে না। যদি কোনো ব্যক্তি একটিকে অস্বীকার করে, সে অপরটিকেও অস্বীকার করল এবং মিথ্যারোপ করল। আর এ জাতীয় কাজ সকল উম্মতে মুসলিমাহ্র ঈমানদার ও জ্ঞানীদের ঐকমত্যে কুফরি, ভ্রষ্টতা ও ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাওয়া।
﴿وَأَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ لَعَلَّكُمۡ تُرۡحَمُونَ ١٣٢﴾ [ ال عمران : ١٣٢ ]
“আর তোমরা আনুগত্য কর, আল্লাহ ও রাসূলের, যাতে তোমাদেরকে দয়া করা হয়”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩২]
অনুরূপ সূরা আন-নিসাতে আল্লাহর বাণী,
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُواْ ٱلرَّسُولَ وَأُوْلِي ٱلۡأَمۡرِ مِنكُمۡۖ فَإِن تَنَٰزَعۡتُمۡ فِي شَيۡءٖ فَرُدُّوهُ إِلَى ٱللَّهِ وَٱلرَّسُولِ إِن كُنتُمۡ تُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۚ ذَٰلِكَ خَيۡرٞ وَأَحۡسَنُ تَأۡوِيلًا ٥٩ ﴾ [ النساء : ٥٩ ]
হে মুমিনগণ, তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর আনুগত্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্য থেকে কর্তৃত্বের অধিকারীদের। অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ কর তাহলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে প্রত্যার্পণ করাও -যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখ। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর। [সূরা নিসা, আয়াত: ৫৯]
সূরা আন-নিসাতে আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন,
﴿مَّن يُطِعِ ٱلرَّسُولَ فَقَدۡ أَطَاعَ ٱللَّهَۖ وَمَن تَوَلَّىٰ فَمَآ أَرۡسَلۡنَٰكَ عَلَيۡهِمۡ حَفِيظٗا ٨٠﴾ [ النساء : ٨٠ ]
“যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে বিমুখ হল, তবে আমি তোমাকে তাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক করে প্রেরণ করিনি”। [সূরা নিসা, আয়াত: ৮০]
কিভাবে তার আনুগত্য করা ও বিবদমান বিষয় আল্লাহ ও রাসূলের সুন্নতের দিকে প্রত্যাবর্তন করা সম্ভব হবে যদি সুন্নাতকে প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া না হয় অথবা দাবী করা হয় যে সুন্নাহ্ সংরক্ষিত নয়? সুন্নাহ্ যদি সংরক্ষিত না হয়, তাহলে বুঝতে হবে আল্লাহ তার বান্দাদের এমন বস্তুর দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন যা কোনো অস্তিত্ব নেই। যা সম্পূর্ণ বাতিল, আল্লাহর প্রতি খারাপ ধারণা করা এবং আল্লাহর সাথে কুফরি করার নামান্তর।
আল্লাহ তা‘আলা সূরা আন-নাহলে বলেন,
﴿وَأَنزَلۡنَآ إِلَيۡكَ ٱلذِّكۡرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيۡهِمۡ وَلَعَلَّهُمۡ يَتَفَكَّرُونَ ٤٤ ﴾ [ النحل : ٤٤ ]
“আর আমরা তোমার প্রতি নাযিল করেছি কুরআন; যাতে তুমি মানুষের জন্য স্পষ্ট করে দিতে পার, যা তাদের প্রতি নাযিল হয়েছে। আর যাতে তারা চিন্তা করে।” [সূরা নাহল আয়াত: ৪৪]
একই সূরাতে পরবর্তী অপর একটি আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَمَآ أَنزَلۡنَا عَلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ ٱلَّذِي ٱخۡتَلَفُواْ فِيهِ وَهُدٗى وَرَحۡمَةٗ لِّقَوۡمٖ يُؤۡمِنُونَ ٦٤ ﴾ [ النحل : ٦٤ ]
“আর আমরা তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছি, শুধু এ জন্য যে, যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে, তা তাদের জন্য তুমি স্পষ্ট করে দেবে এবং এটি হিদায়াত ও রহমত সেই কওমের জন্য যারা ঈমান আনে।” [সূরা নাহল, আয়াত: ৬৪]
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলের উপর তাদের জন্য নাযিলকৃত কুরআনের বর্ণনা করার দায়িত্ব কীভাবে দেন যদি রাসূলের সুন্নার কোনো অস্তিত্ব না থাকে? অথবা যদি রাসূলের সুন্নাহকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা না হয়?
অনুরূপভাবে আল্লাহ তা‘আলা সূরা আন-নূরে বলেন,
﴿قُلۡ أَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُواْ ٱلرَّسُولَۖ فَإِن تَوَلَّوۡاْ فَإِنَّمَا عَلَيۡهِ مَا حُمِّلَ وَعَلَيۡكُم مَّا حُمِّلۡتُمۡۖ وَإِن تُطِيعُوهُ تَهۡتَدُواْۚ وَمَا عَلَى ٱلرَّسُولِ إِلَّا ٱلۡبَلَٰغُ ٱلۡمُبِينُ ٥٤﴾ [ النور : ٥٤ ]
বল, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর। তারপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে সে শুধু তার উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য দায়ী এবং তোমাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই দায়ী। আর যদি তোমরা তার আনুগত্য কর, তবে তোমরা হিদায়াত প্রাপ্ত হবে। আর রাসূলের দায়িত্ব শুধু স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া। [সূরা নূর, আয়াত: ৫৪]
আল্লাহ তা‘আলা সূরা নূরে আরও বলেন,
﴿وَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُواْ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَطِيعُواْ ٱلرَّسُولَ لَعَلَّكُمۡ تُرۡحَمُونَ٥٦﴾ [ النور : ٥٦ ]
“আর তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং রাসূলের আনুগত্য কর, যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হতে পার।” [সূরা নূর আয়াত: ৫৪]
আল্লাহ সূরা আ‘রাফে বলেন,
﴿ قُلۡ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنِّي رَسُولُ ٱللَّهِ إِلَيۡكُمۡ جَمِيعًا ٱلَّذِي لَهُۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ يُحۡيِۦ وَيُمِيتُۖ فََٔامِنُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِ ٱلنَّبِيِّ ٱلۡأُمِّيِّ ٱلَّذِي يُؤۡمِنُ بِٱللَّهِ وَكَلِمَٰتِهِۦ وَٱتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمۡ تَهۡتَدُونَ ١٥٨ ﴾ [ الاعراف : ١٥٧ ]
“বল, হে মানুষ, আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল, যার রয়েছে আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নাই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আন ও তার প্রেরিত উম্মী নবীর প্রতি, যে আল্লাহ ও তার বাণীসমূহের প্রতি ঈমান রাখে। আর তোমরা তার অনুসরণ কর, আশা করা যায়, তোমরা হিদায়াত লাভ করবে।” [সূরা আরাফ, আয়াত: ১৫৭]
উল্লেখিত আয়াতগুলো দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, হিদায়াত ও রহমত একমাত্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করার মধ্যেই নিহিত। সুতরাং, তার সুন্নতের অনুসরণ-অনুকরণ ও তদনুযায়ী আমল করা ছাড়া হিদায়াত লাভ কিভাবে সম্ভব? অথবা এ কথা বলা যে, তার সুন্নতের কোনো বিশুদ্ধতা নাই অথবা তার সুন্নতের উপর ভরসা করা যাবে না, তার হিদায়াত কিভাবে অর্জিত হবে?
আল্লাহ তা‘আলা সূরা আন-নূরে বলেন,
﴿فَلۡيَحۡذَرِ ٱلَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنۡ أَمۡرِهِۦٓ أَن تُصِيبَهُمۡ فِتۡنَةٌ أَوۡ يُصِيبَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٌ ٦٣ ﴾ [ النور : ٦٣ ]
“অতএব যারা তার নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন তাদের ওপর বিপর্যয় নেমে আসা অথবা যন্ত্রণাদায়ক আযাব পৌছার ভয় করে।” [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬৩]
সূরা আল-হাশরে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَمَآ ءَاتَىٰكُمُ ٱلرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَىٰكُمۡ عَنۡهُ فَٱنتَهُواْۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ ٧ ﴾ [ الحشر : ٧ ]
রাসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর যা থেকে সে তোমাদের নিষেধ করে, তা থেকে বিরত হও এবং আল্লাহকেই ভয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে কঠোর। [সূরা হাশর, আয়াত: ৭]
এ বিষয়ে আরও অনেক আয়াত রয়েছে যেগুলো প্রমাণ করে যে আল্লাহর রাসূলের আনুগত্য করা ও তিনি যা নিয়ে দুনিয়াতে আগমন করেছেন তার আনুগত্য করাও ফরয; যেমনটি এর পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহর কিতাবের অনুসরণ-অনুকরণ করা, আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরা, আল্লাহর কিতাবের আদেশ নিষেধ পালন করা ফরয। এ দুটি-কুরআন ও সূন্নাহ-একটি অপরটির সম্পূরক ও অবিচ্ছেদ্য মূল উৎস। দুটির কোনোটিকেই অস্বীকার করা যাবে না। যদি কোনো ব্যক্তি একটিকে অস্বীকার করে, সে অপরটিকেও অস্বীকার করল এবং মিথ্যারোপ করল। আর এ জাতীয় কাজ সকল উম্মতে মুসলিমাহ্র ঈমানদার ও জ্ঞানীদের ঐকমত্যে কুফরি, ভ্রষ্টতা ও ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাওয়া।