hadith book logo

আল-কুরআনুল কারীম মর্যাদা, শিক্ষা ও বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা

লেখকঃ ইকবাল হুসাইন মাসুম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪

দ্বিতীয়ত: কুরআনুল কারীমের মূল্যায়ন ও গুরুত্ব প্রদান:

পৃথিবীতে অনেক মুসলিম আছেন, যারা তার পক্ষে যতটুকু সহজ ততটুকু শুধু তিলাওয়াতকেই কুরআনের যথাযথ হক আদায় ও মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট মনে করেন। তাদের সম্পর্কে প্রখ্যাত আল্লাহওয়ালা আলেম ও আবেদ ইমাম ফুদাইল ইবন ‘আইয়াদ্ব রহ. চমৎকার বলেছেন:

إنما نزل القرآن ليعمل به، فاتخذ الناس قراءته عملا .

“কুরআন-তদনুযায়ী-আমল করার জন্য অবতীর্ণ হলো আর লোকেরা শুধু তিলাওয়াতকেই আমল বানিয়ে বসে আছে।” [আখলাকু হামালাতিল কুরআন লিল-আজুররী, ৩৮] বলা হলো, কিভাবে আমল করবে? তিনি বললেন, তার হালালকে হালাল করবে, হারামকে হারাম করবে, আদেশ পালন করবে, নিষেধ থেকে বিরত থাকবে, আশ্চর্য বিষয়গুলো যথাযথভাবে অবহিত হবে।” এ কথাটি হাসান বসরী রহ. থেকেও বর্ণিত আছে।

সুতরাং শুধু তিলাওয়াতই কুরআনের হক আদায়ের জন্য যথেষ্ট নয়; বরং যথাযথ মূল্যায়নের জন্য তিলাওয়াতের পাশাপাশি একে বুঝতে হবে, বুঝার চেষ্টা করতে হবে, হিফয করতে হবে, বর্ণিত বিষয়াদিতে চিন্তা-গবেষণা করতে হবে, তদনুযায়ী ‘আমল করতে হবে শাসন বিচার ও বিরোধ-মীমাংসার জন্য তার শরণাপন্ন হতে হবে। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো লোকেরা এর তিলাওয়াতকেই যথাযথ মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট মনে করছে। এর চেয়েও দুঃখজনক হচ্ছে-যারা তিলাওয়াতকে যথেষ্ট মনে করছে তাদের অধিকাংশ এ তিলাওয়াতের ব্যাপারে অবহেলা-উপেক্ষা করছে।

ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم .

বৎসর অতিক্রান্ত হয়ে যায় অথচ পূর্ণ বৎসরে একবারও কুরআন খতম করতে পারে না। একটিমাত্র সূরাও মুখস্থ করে না। রমযান মাস যখন সকল মুসলিম পূর্ণোদ্দমে কুরআন অধ্যয়নসহ সকল ইসলামী কর্মকাণ্ড সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে সম্পাদন করে তখনও কিছু মুসলিমকে আপনি দেখতে পাবেন যারা এর তিলাওয়াত থেকে দূরে, এ বরকতময় মাসেও এর খতম পূর্ণ করার জন্য চেষ্টা করে না।