hadith book logo

কুরআনুল কারিমে সম্পদ ও নফসের জিহাদ একসাথে উল্লেখ করার হিকমত

লেখকঃ ড. তাওফিক আলী যাবাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

সম্পদের জিহাদ দু’প্রকার :

প্রথম প্রকার : মুজাহিদ ও তাদের পরিবারে অনুদান দিয়ে জিহাদে অংশ গ্রহণ করা।

দ্বিতীয় প্রকার : দখলদার সীমালঙ্ঘনকারীদের অর্থনৈতিকভাবে ও সম্পদ ব্যয় করে বয়কট করা, এটাও অর্থনৈতিক জিহাদের অন্তর্ভুক্ত। কারণ মানুষ যদি কৃপণ অথবা অক্ষম অথবা দুর্বল হয়, তাহলে সে সম্পদ ব্যয় করে এসব পবিত্র ভূমি মুক্ত করার জিহাদে অংশ গ্রহণ করতে পারে না। অতএব কমপক্ষে দখলকারীদের সুযোগ-সুবিধা ও অনুদান বন্ধ করে জিহাদে অংশ গ্রহণ করা জরুরি”। {শাইখ মুহাম্মদ হাসান আদ্দাদাও শানকিতি, ‘আল-জাজিরা’কে দেয়া “শরিয়ত ও হায়াত প্রোগ্রামে”-র সাক্ষাৎকার, তারিখ: ২১/৪/২০০২ই.}

শাইখ ইবন উসাইমিন –রাহিমাহুল্লাহ-কে জনৈক প্রশ্নকারী বলেন : আমরা দেখি যে, আল্লাহ তাআলা জিহাদের অধিকাংশ আয়াতেই নফসের আগে সম্পদের উল্লেখ করেছেন, এর হিকমত কি?

তিনি উত্তরে বলেন : -আল্লাহ ভাল জানেন- স্পষ্টত বুঝে আসে যে, মুসলিম সেনাবাহিনী ব্যক্তির চেয়ে সম্পদের মুখাপেক্ষী বেশি হয়, কারণ নফসের তুলনায় সম্পদ দ্বারা জিহাদ করা সহজ”। {মাজমুউ ফাতাওয়া ও রাসায়েল ইবন উসাইমিন : (২৫/৩১২)}

জিহাদের হাদিসেও সম্পদের উল্লেখ আগে এসেছে :

عَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه - قال : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم : جَاهِدُوا الـمُشْرِكِينَ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ وَأَلْسِنَتِكُمْ .

আনাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “তোমরা মুশরিকদের সাথে জিহাদ কর, তোমাদের সম্পদ, নফস ও জবান দ্বারা”। {মুসনাদ ইমাম আহমদ, মুসনাদে আনাস ইব্‌ন মালেক : (১১৭৯৮)}