hadith book logo

খলিফা মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে ইনসাফপন্থীদের কিছু বাণী

লেখকঃ আব্দুল মুহসিন ইবন হামদ আল-আব্বাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

সর্বাধিক সাওয়াবের অধিকারী ব্যক্তিবর্গ হচ্ছেন সাহাবীগণ

সহীহ সনদে প্রমাণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«من دعا إلى هدى كان له من الأجر مثل أجور من تبعه لا ينقص ذلك من أجورهم شيئا ومن دعا إلى ضلالة كان عليه من الإثم مثل آثام من تبعه لا ينقص ذلك من آثامهم شيئا»

“যে হিদায়াতের দিকে আহ্বান করে, তার জন্য সেরূপ সাওয়াব হবে যেরূপ সাওয়াব হয় তার ওপর আমলকারীর জন্য, তবে তা আমলকারীদের সাওয়াবকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করবে না; আর যে গোমরাহীর দিকে আহ্বান করে, তার জন্যও সেরূপ পাপ হবে যেরূপ পাপ হয় তার ওপর আমলকারীর জন্য, তবে তার আমলকারীর পাপকে তা বিন্দুমাত্র হ্রাস করবে না”। [সহীহ মুসলিম (৪/২০৬০)।]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের জন্য এ হাদীস প্রথম প্রযোজ্য, যার দাবি হচ্ছে সাওয়াবের বিরাট অংশ ও সৌভাগ্যের অধিক হকদার তারা। কারণ তারাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নূর ও হিদায়াত গ্রহণ করে তাদের পরবর্তীতের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন। অতএব, যে কেউ তার থেকে উপকৃত হবে, সাহাবীগণ তার সমান সাওয়াব পাবেন, যতক্ষণ না আল্লাহ জমিন ও তার ওপর থাকা সব কিছুর একচ্ছত্র মালিক হবেন। আর তাদের সবার আগে সাওয়াবের হকদার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যিনি কল্যাণ ও হিদায়াত নিয়ে এসেছেন, সুতরাং যে হিদায়াত লাভ করে আল্লাহর দীনে দাখিল হবে ও নেক আমল করবে, আল্লাহ তার নবীকে সেরূপ সাওয়াব দিবেন যেরূপ সাওয়াব দিবেন আমলকারীকে, তবে আমলকারীর সাওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না। তার কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে হিদায়াতের দিকে আহ্বান করেছেন। অতএব, তার জন্য তাদের প্রত্যেকের সমান সাওয়াব হবে, যারা তার হিদায়াত লাভ করে উপকৃত হবে। আবার এ হিদায়াত থেকে বিরাট এক অংশ পাবেন তার সাহাবীগণ, কারণ তারাই সর্বপ্রথম হিদায়াত গ্রহণ করেন ও তাদের পরে আগন্তুকদের নিকট পৌঁছে দেন।

সর্বপ্রথম সাহাবীগণ কুরআনুল কারিম হিফয ও সংরক্ষণ করেন এবং তাদের পরবর্তীতের নিকট যথাযথভাবে পৌঁছে দেন। অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতও তারাই সরাসরি গ্রহণ করেন ও তাদের পরবর্তীতের নিকট পৌঁছে দেন, যে কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতের বিরাট সাওয়াব, অনেক প্রতিদান ও সৌভাগ্যের একটি বড় অংশের প্রাপক সাহাবীগণ, সন্দেহ নেই। সহীহ হাদীসে এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«نضر الله امرءا سمع مقالتي فوعاها وأداها كما سمعها»

“আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে তরতাজা করুন, যে আমার কথা শ্রবণ করে সংরক্ষণ করল, অতঃপর যেরূপ শ্রবণ করেছে সেরূপ তা পৌঁছে দিল”। বলার অপেক্ষা রাখে না, সাহাবীগণ তার কথা বিনা মাধ্যমে সরাসরি শ্রবণ করেছেন। এ বৈশিষ্ট্য শুধু তাদের, আল্লাহ তাদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাদেরকে সবাইকে সন্তুষ্ট করুন। অতএব, এসব পুণ্যবান মনীষী ও আদর্শ পূর্ব-পুরুষ আমাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে মজবুত ও সুদৃঢ় এক বন্ধন, যে এ বন্ধনকে দোষারোপ করে সে মূলত উম্মত ও তার নবীর মধ্যবর্তী বন্ধনকে দোষারোপ করে। তাদের গোমরাহী ও লাঞ্ছনার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। আমরা তার থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই।