hadith book logo

আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল গুরুত্ব ও তাৎপর্য

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আবদুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৭

হাদীসের শিক্ষা ও মাসায়েল:

এক. হাদীসে দেখা যায় এক ভাই জীবিকা অন্বেষণে ব্যস্ত থাকত আর অন্য ভাই জীবিকা অর্জনে কাজ করত না, তবে সে শিক্ষা অর্জনের জন্য নবী কারীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসা যাওয়া করত। কিন্তু এটা জীবিকা অর্জনে নিয়োজিত ভাইয়ের পছন্দ হতো না। তার কথা ছিল, আমি একা কেন উপার্জন করব। এ কারণে সে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নালিশ দিয়েছিল।

দুই. নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিযোগকারীকে বললেন, তুমি যা অর্জন করে থাক সম্ভবত তা তোমার সেই ভাইয়ের কারণে আল্লাহ দিয়ে থাকেন, যে উপার্জন না করে আমার কাছে আসা যাওয়া করে থাকে।

তিন. যে উপার্জন না করে নবীজির দরবারে যাওয়া আসা করত সে জীবিকার জন্য আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করেছিল বলে আল্লাহর তার ভাইয়ের মাধ্যমে তাকে রিযিক দিয়েছেন।

চার. এ হাদীস থেকে এ শিক্ষা দেওয়া উদ্দেশ্য নয় যে, এক ভাই উপার্জন করবে আর অন্যজন আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করার নামে তার উপার্জন থেকে খেয়ে যাবে। বরং উদ্দেশ্য হলো, কর্ম বন্টন। যদি উভয়ে উপার্জনে লিপ্ত হয়ে পড়ে তাহলে শিক্ষা অর্জন করবে কে? আবার উভয়ে যদি নবীজির দরবারে শিক্ষা অর্জনের জন্য আসা যাওয়া করতে লাগে তাহলে উপার্জন করবে কে? তাই একজন উপার্জন করবে আর অন্য জন শিক্ষা অর্জন করবে। যাতে উভয়ে একে অপর থেকে লাভবান হতে পারে।

পাঁচ. জীবিকা অর্জনে লিপ্ত হওয়ার চেয়ে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে দীনি ইলম অর্জনে মনোযোগ দেওয়া অধিকতর ফযীলতের কাজ।

ছয়. যে সকল দুর্বল, অসহায়, প্রতিবন্ধী মানুষকে আমরা লালন পালন করে থাকি তাদেরকে নিজেদের ওপর বোঝা মনে করা মোটেই সঙ্গত নয়। তাদেরকে বোঝা মনে না করে আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভের একটি মাধ্যম মনে করাই শ্রেয়। এটা এ হাদীসের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য হাদীসে বলেছেন:

«هل ترزقون وتنصرون إلا بضعفائكم»

‘‘তোমরা তো রিযিক ও সাহায্য পাচ্ছ একমাত্র তোমাদের দুর্বলদের মাধ্যমে’’। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৮৯৬।]

অর্থাৎ আল্লাহ বহুমানুষকে রিযিক দিয়ে থাকেন তার অধীনস্থ দুর্বল, অসহায় মানুষের কারণে।

সমাপ্ত