১
ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম-১ ঈমান
লেখকঃ শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-উসাইমীন • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪
শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-উসাইমীন রহ.-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
নাম ও জন্ম তারিখ:
তার নাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ ইবন মুহাম্মাদ আত-তামীমী। তিনি হিজরী ১৩৪৭ সালের ২৭ রামাযানের রাত্রিতে সঊদী আরবের আল-ক্বাসীম প্রদেশের উনাইযা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
শিক্ষা জীবন:
শিক্ষা জীবনের শুরুতে তিনি তার নানার কাছ থেকে কুরআন শিক্ষা করেন। অতঃপর আরবী ভাষা ও অন্যান্য বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পর মাদ্রাসায় ভর্তি হন। তিনি অতি অল্প বয়সেই কুরআন মজীদ মুখস্থ করেন এবং হাদীস ও ফিকহসহ কতিপয় পুস্তিকাও মুখস্থ করেন।
অতঃপর তিনি তাওহীদ, ফিকহ এবং নাহু শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করার পর শাইখ আবদুর রাহমান ইবন নাসির আল-সা‘দী রহ.-এর পাঠশালায় যোগদান করেন। সেখানে তিনি তাফসীর, হাদীস, ফারায়েয, ফিকহ, উসূলে ফিকহ এবং আরবী ব্যকরণ অধ্যয়ন করেন। যে সমস্ত শাইখদের ইলম, আকীদা এবং পাঠদান পদ্ধতির দ্বারা তিনি সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে শাইখ আব্দুর রাহমান ইবন নাসের আল-সা‘দী রহ. সর্বপ্রথম।
উনাইযাতে থাকাবস্থায় তিনি শাইখ আব্দুর রাহমান ইবন আলী ইবন আওদান রহ.-এর নিকট ইলমে ফারায়েয এবং শাইখ আব্দুর রাযযাক আফীফী রহ. এর নিকট ইলমে নাহু এবং ইলমে বালাগাত শিক্ষা করেন।
রিয়াদ শহরে ইসলামিক শিক্ষা ইন্সটিটিউট খোলা হলে তিনি বন্ধুদের পরামর্শক্রমে এবং তাঁর উস্তাদ শাইখ আব্দুর রাহমান সা‘দীর অনুমতিক্রমে তথায় ভর্তি হন। সেখানে তিনি দু’বছর অধ্যয়ন কালে শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন শানকীতী, আব্দুল আযীয ইবন নাসের আর-রাশীদ এবং শাইখ আব্দুর রাহমান আল-আফ্রিকীসহ অন্যান্য উস্তাদদের নিকট থেকে শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পান। এ সময়ই আল্লামা ইবন বায রহ.-এর কাছে উপস্থিত হয়ে সহীহ বুখারী এবং ইমাম ইবন তাইমীয়া রহ.-এর লিখিত বিভিন্ন কিতাব অধ্যয়ন করেন। তিনি তার কাছ থেকে হাদীস এবং ফিকহী মাযহাব সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করেন। ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে যাদের দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছেন ইবন বায রহ. ছিলেন তাদের মধ্যে দ্বিতীয়।
অতঃপর তিনি ইমাম মুহাম্মাদ ইবন সঊদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে একাডেমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষা সমাপ্ত করে উনাইযায় ফেরত এসে উনাইযা জামে মসজিদে পাঠ দান শুরু করেন। তার উস্তাদ আব্দুর রাহমান আস-সা‘দী মারা যাবার পর উনায়যা জামে মসজিদের ইমাম ও খতীবের দায়িত্ব পালনসহ উস্তাদের প্রতিষ্ঠিত উনাইযা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে শিক্ষা দানের দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে লাইব্রেরিতে স্থান দেওয়া অসম্ভব হওয়ায় মসজিদেই ক্লাশ নেওয়া শুরু করেন। এ পর্যায়ে সঊদী আরবের বাইরে থেকেও বিপুল সংখক ছাত্রের আগমণ ঘটতে থাকে। জীবনের শেষ কাল পর্যন্ত তিনি অত্র মসজিদে শিক্ষা দানে ব্যস্ত ছিলেন। সাঊদী সরকারের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদেরও তিনি সদস্য ছিলেন।
ব্যক্তিগত আমল-আখলাক:
শাইখ একজন উঁচু মানের আলিম হওয়ার সাথে সাথে উন্নত চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্য্যশীল, বিনয়ী, নম্র এবং আল্লাহ ভীরু। জীবনের প্রতিটি কাজে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকতেন। ফাতওয়া দানের ক্ষেত্রে তিনি তাড়াহুড়া না করে ধীরস্থীরতা অবলম্বন করতেন। তিনি মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা শুনতেন এবং সাধ্যানুসারে তাদের প্রয়োজন পূরণ করতে সচেষ্ট থাকতেন। বিভিন্ন সমাজ সেবা মূলক সংগঠনকে তিনি বিশেষভাবে সহযোগিতা প্রদান করতেন।
দাওয়াতী কর্মতৎপরতা:
তিনি ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত একজন আলিম এবং দাঈ‘। পৃথিবীতে এমন কোনো তালেবে ইলম পাওয়া যাবে না, যে শাইখ ইবন উছাইমীন সম্পর্কে অবগত নয়। প্রচণ্ড রোগে আক্রান্ত অবস্থায়ও তিনি মক্কা শরীফে দারস এবং তা‘লীমের কাজ আঞ্জাম দিতেন। মৃত্যুর ছয়মাস পূর্বে তিনি চিকিৎসার জন্য আমেরিকা সফরে গিয়ে বিভিন্ন ইসলামী সেন্টারে উপস্থিত হয়ে লেকচার প্রদান করেন। তথায় তিনি জুমু‘আর খুৎবা দেন এবং ইমামতি করেন। সাঊদী আরব আল কুরআন রেডিওতেও তিনি নিয়মিত শ্রোতাদের প্রশ্নের উত্তর প্রদান করতেন।
ইলমী খিদমত:
‘ফাতওয়া আরকানুল ইসলাম’ ছাড়াও তার রচিত কিতাব ও পুস্তিকার সংখ্যা অনেক। তার লেখনীর মধ্যে রয়েছেঃ
১) শারহুল আকীদা আল-ওয়াসিতীয়্যাহ। ২) শারহু কাশফুশ শুবহাত। ৩) আল কাওয়ায়েদুল মুছলা ৪) শারহুল আরবাঈন আন নাবুবীয়্যাহ। ৫) কিতাবুল ইলম। ৬) আশ-শারহুল মুমতি‘ (সাত ভলিওম) ৭) শারহু ছালাছাতুল উসূল ৮) আল উছূল মিন ঈলমিল উছূল। এছাড়া রয়েছে তার আরো অসংখ্য ক্যাসেট ও ছোট ছোট পুস্তিকা, যা তার নামে প্রতিষ্ঠিত ইবন উসাইমীন কল্যাণ সংস্থা বিশেষ গুরুত্ব সহকারে প্রচার করে থাকে। বর্তমানে তার ইসলামের খিদমতসমূহ ওয়েব সাইটেও পাওয়া যায়।
ঠিকানা: www.binothaimeen.com
মৃত্যু:
এ স্বনামধন্য ও বিশ্ববরেণ্য আলিমে দীন দীর্ঘ দিন ইসলামের খেদমত আঞ্জাম দেওয়ার পর ১৪২১ হিজরী শাওয়াল মাসের ১৫ তারিখ মাগরিবের সালাতের সামান্য পূর্বে ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে সঊদী আরবের বাদশাহসহ রাজ পরিবারের সকল সদস্য, সে দেশের সকল আলিম এবং সর্বস্তরের জনগণ শোকাহত হন। বিশ্ব এক অপূরণীয় ক্ষতি অনুভব করে।
আল্লাহর কাছে দো‘আ করি তিনি যেন শাইখের সমস্ত দীনি খেদমত কবূল করেন এবং তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান প্রদান করেন। আমীন।
তার নাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ ইবন মুহাম্মাদ আত-তামীমী। তিনি হিজরী ১৩৪৭ সালের ২৭ রামাযানের রাত্রিতে সঊদী আরবের আল-ক্বাসীম প্রদেশের উনাইযা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
শিক্ষা জীবন:
শিক্ষা জীবনের শুরুতে তিনি তার নানার কাছ থেকে কুরআন শিক্ষা করেন। অতঃপর আরবী ভাষা ও অন্যান্য বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পর মাদ্রাসায় ভর্তি হন। তিনি অতি অল্প বয়সেই কুরআন মজীদ মুখস্থ করেন এবং হাদীস ও ফিকহসহ কতিপয় পুস্তিকাও মুখস্থ করেন।
অতঃপর তিনি তাওহীদ, ফিকহ এবং নাহু শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করার পর শাইখ আবদুর রাহমান ইবন নাসির আল-সা‘দী রহ.-এর পাঠশালায় যোগদান করেন। সেখানে তিনি তাফসীর, হাদীস, ফারায়েয, ফিকহ, উসূলে ফিকহ এবং আরবী ব্যকরণ অধ্যয়ন করেন। যে সমস্ত শাইখদের ইলম, আকীদা এবং পাঠদান পদ্ধতির দ্বারা তিনি সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে শাইখ আব্দুর রাহমান ইবন নাসের আল-সা‘দী রহ. সর্বপ্রথম।
উনাইযাতে থাকাবস্থায় তিনি শাইখ আব্দুর রাহমান ইবন আলী ইবন আওদান রহ.-এর নিকট ইলমে ফারায়েয এবং শাইখ আব্দুর রাযযাক আফীফী রহ. এর নিকট ইলমে নাহু এবং ইলমে বালাগাত শিক্ষা করেন।
রিয়াদ শহরে ইসলামিক শিক্ষা ইন্সটিটিউট খোলা হলে তিনি বন্ধুদের পরামর্শক্রমে এবং তাঁর উস্তাদ শাইখ আব্দুর রাহমান সা‘দীর অনুমতিক্রমে তথায় ভর্তি হন। সেখানে তিনি দু’বছর অধ্যয়ন কালে শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন শানকীতী, আব্দুল আযীয ইবন নাসের আর-রাশীদ এবং শাইখ আব্দুর রাহমান আল-আফ্রিকীসহ অন্যান্য উস্তাদদের নিকট থেকে শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পান। এ সময়ই আল্লামা ইবন বায রহ.-এর কাছে উপস্থিত হয়ে সহীহ বুখারী এবং ইমাম ইবন তাইমীয়া রহ.-এর লিখিত বিভিন্ন কিতাব অধ্যয়ন করেন। তিনি তার কাছ থেকে হাদীস এবং ফিকহী মাযহাব সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করেন। ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে যাদের দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছেন ইবন বায রহ. ছিলেন তাদের মধ্যে দ্বিতীয়।
অতঃপর তিনি ইমাম মুহাম্মাদ ইবন সঊদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে একাডেমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষা সমাপ্ত করে উনাইযায় ফেরত এসে উনাইযা জামে মসজিদে পাঠ দান শুরু করেন। তার উস্তাদ আব্দুর রাহমান আস-সা‘দী মারা যাবার পর উনায়যা জামে মসজিদের ইমাম ও খতীবের দায়িত্ব পালনসহ উস্তাদের প্রতিষ্ঠিত উনাইযা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে শিক্ষা দানের দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে লাইব্রেরিতে স্থান দেওয়া অসম্ভব হওয়ায় মসজিদেই ক্লাশ নেওয়া শুরু করেন। এ পর্যায়ে সঊদী আরবের বাইরে থেকেও বিপুল সংখক ছাত্রের আগমণ ঘটতে থাকে। জীবনের শেষ কাল পর্যন্ত তিনি অত্র মসজিদে শিক্ষা দানে ব্যস্ত ছিলেন। সাঊদী সরকারের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদেরও তিনি সদস্য ছিলেন।
ব্যক্তিগত আমল-আখলাক:
শাইখ একজন উঁচু মানের আলিম হওয়ার সাথে সাথে উন্নত চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্য্যশীল, বিনয়ী, নম্র এবং আল্লাহ ভীরু। জীবনের প্রতিটি কাজে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকতেন। ফাতওয়া দানের ক্ষেত্রে তিনি তাড়াহুড়া না করে ধীরস্থীরতা অবলম্বন করতেন। তিনি মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা শুনতেন এবং সাধ্যানুসারে তাদের প্রয়োজন পূরণ করতে সচেষ্ট থাকতেন। বিভিন্ন সমাজ সেবা মূলক সংগঠনকে তিনি বিশেষভাবে সহযোগিতা প্রদান করতেন।
দাওয়াতী কর্মতৎপরতা:
তিনি ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত একজন আলিম এবং দাঈ‘। পৃথিবীতে এমন কোনো তালেবে ইলম পাওয়া যাবে না, যে শাইখ ইবন উছাইমীন সম্পর্কে অবগত নয়। প্রচণ্ড রোগে আক্রান্ত অবস্থায়ও তিনি মক্কা শরীফে দারস এবং তা‘লীমের কাজ আঞ্জাম দিতেন। মৃত্যুর ছয়মাস পূর্বে তিনি চিকিৎসার জন্য আমেরিকা সফরে গিয়ে বিভিন্ন ইসলামী সেন্টারে উপস্থিত হয়ে লেকচার প্রদান করেন। তথায় তিনি জুমু‘আর খুৎবা দেন এবং ইমামতি করেন। সাঊদী আরব আল কুরআন রেডিওতেও তিনি নিয়মিত শ্রোতাদের প্রশ্নের উত্তর প্রদান করতেন।
ইলমী খিদমত:
‘ফাতওয়া আরকানুল ইসলাম’ ছাড়াও তার রচিত কিতাব ও পুস্তিকার সংখ্যা অনেক। তার লেখনীর মধ্যে রয়েছেঃ
১) শারহুল আকীদা আল-ওয়াসিতীয়্যাহ। ২) শারহু কাশফুশ শুবহাত। ৩) আল কাওয়ায়েদুল মুছলা ৪) শারহুল আরবাঈন আন নাবুবীয়্যাহ। ৫) কিতাবুল ইলম। ৬) আশ-শারহুল মুমতি‘ (সাত ভলিওম) ৭) শারহু ছালাছাতুল উসূল ৮) আল উছূল মিন ঈলমিল উছূল। এছাড়া রয়েছে তার আরো অসংখ্য ক্যাসেট ও ছোট ছোট পুস্তিকা, যা তার নামে প্রতিষ্ঠিত ইবন উসাইমীন কল্যাণ সংস্থা বিশেষ গুরুত্ব সহকারে প্রচার করে থাকে। বর্তমানে তার ইসলামের খিদমতসমূহ ওয়েব সাইটেও পাওয়া যায়।
ঠিকানা: www.binothaimeen.com
মৃত্যু:
এ স্বনামধন্য ও বিশ্ববরেণ্য আলিমে দীন দীর্ঘ দিন ইসলামের খেদমত আঞ্জাম দেওয়ার পর ১৪২১ হিজরী শাওয়াল মাসের ১৫ তারিখ মাগরিবের সালাতের সামান্য পূর্বে ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে সঊদী আরবের বাদশাহসহ রাজ পরিবারের সকল সদস্য, সে দেশের সকল আলিম এবং সর্বস্তরের জনগণ শোকাহত হন। বিশ্ব এক অপূরণীয় ক্ষতি অনুভব করে।
আল্লাহর কাছে দো‘আ করি তিনি যেন শাইখের সমস্ত দীনি খেদমত কবূল করেন এবং তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান প্রদান করেন। আমীন।