১
জুমু‘আর দিনের বিধান
লেখকঃ জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২
ভূমিকা
জুমু‘আর দিন একটি বরকত পূর্ণ দিন। আল্লাহ তা‘আলা এ দিনটিকে সমস্ত দিনের উপর ফযিলত দিয়েছেন এবং উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য এ দিনটিকে নেয়ামত স্বরূপ নির্বাচন করেছেন। ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের এ দিবসটি থেকে আল্লাহ তা‘আলা দূরে সরিয়ে রেখেছেন। ফলে তারা এ দিবসটি সম্পর্কে ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত। শনিবার ও রবিবারের তুলনায় জুমু’আর দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি। পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ দিনে আল্লাহ তা‘আলা অসংখ্য ঘটনা রাজির জন্ম দিয়েছেন এবং পৃথিবীতে অনেক কিছুই এ দিবসটিতে সংঘটিত হয়েছে। অত:পর আল্লাহ তা‘আলা আমাদের-উম্মতে মুহাম্মদী-কে পাঠান এবং আমাদেরকে জুমু’আর দিনের প্রতি পথ দেখান।
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু উভয় সাহাবী হতে বর্ণিত, তারা বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«أضل الله عز وجل عن الجمعة من كان قبلنا؛ فكان لليهود يوم السبت، وكان للنصارى يوم الأحد، فجاء الله عز وجل بنا فهدانا ليوم الجمعة، فجعل الجمعة والسبت والأحد، وكذلك هُم لنا تبع يوم القيامة، ونحن الآخِرون من أهل الدنيا، والأولون يوم القيامة، المقضي لهم قبل الخلائق» [ رواه مسلم، والنسائي، ابن ماجة ].
“আল্লাহ তা‘আলা আমাদের পূর্ববর্তীদেরকে জুমু‘আ থেকে বঞ্চিত করেন। ইয়াহুদীদের জন্য শনিবার এবং খৃষ্টানদের জন্য রবিবারকে নির্ধারণ করেন। অত:পর আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে পাঠান এবং আমাদেরকে জুমু‘আর দিবসটির প্রতি পথ দেখান। জুমু‘আর পর শনিবার এবং তারপর রবিবার নির্ধারণ করেন। যেভাবে দিবসের দিক দিয়ে তারা আমাদের পিছনে আছে, কিয়ামতের দিনও তারা আমাদের পিছনে থাকবে। দুনিয়াতে আমাদের আগমন পরে হলেও কিয়ামতের দিন আমরাই প্রথম হব। সমস্ত মাখলুকের পূর্বে আমাদের ফায়সালা করা হবে”। [মুসলিম, হাদিস: ৮৫৬; নাসায়ী, হাদিস: ১৩৬৮; ইবনু মাযা, হাদিস: ১০৮৩]
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«خير يوم طلعت فيه الشمس يوم الجمعة؛ فيه خلق آدم عليه السلام، وفيه أدخل الجنة، وفيه أخرج منها» [ رواه مسلم، والترمذي، والنسائي ].
“সূর্য উদয় হয়েছে এমন দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন জুমু‘আর দিন। এ দিন আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং এ দিনে তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়”। [মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪; হাদিস: ৮৫৪,১৮; তিরমিযি, হাদিস: ৪৮৮; নাসায়ী, হাদিস: ৮৯/৩]
জুমু‘আর দিনের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব অনেক বেশি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হাদিসে এর বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। মুসলিম জ্ঞানীরা এ দিবসের বিভিন্ন ধরনের ফযিলত ও গুরুত্ব তার স্বীয় লিখনি ও কিতাব সমূহে আলোচনা করেছেন। এ দিবসের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল, জুমু‘আর সালাত। জুমু‘আর সালাত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরয এবং মুসলিম ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জুমু‘আর সালাতের সাথে সম্পৃক্ত।
বর্তমানে আমরা মানুষের মধ্যে জুমু‘আর সালাতে উপস্থিত হতে শিথিলতা এবং জুমু‘আর দিন সম্পর্কে উদাসীনতা লক্ষ্য করি। মানুষ জুমু‘আর দিন সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার কারণে, জুমু‘আর সালাতে উপস্থিত হতে দেরী করে, জুমু‘আর দিনের করনীয় ও বর্জনীয় কি তার প্রতি গুরুত্ব দেয় না এবং জুমু‘আর দিনের আদব গুলো যথাযথ পালন করে না। জুমু‘আর দিনের তাৎপর্য সম্পর্কে আলোচনা করা এবং তা উম্মতে মুসলিমাকে জানিয়ে দেয়া খুবই জরুরি মনে করি। বিশেষ করে বাংলা ভাষায় জুমু‘আর দিন সম্পর্কে দলীল ভিত্তিক বই খুব কম পাওয়া যায়। যার কারণে বাংলা ভাষীদের মধ্যে জুমু‘আর দিন সম্পর্কে সচেতনা খুব বেশি লক্ষ্য করা যায় না। কুরআন ও হাদিসের আলোকে জুমু‘আ সম্পর্কে একটি বই থাকা খুবই জরুরি। এ জন্য আমি জুমু‘আ সম্পর্কে একটি সংকলনের চেষ্টা করি। বইটির প্রতিটি বিষয় কুরআন ও সূন্নাহের অকাট্য প্রমাণাদি থেকে সংগৃহীত।
এ বইটিতে সংক্ষেপে জুমু‘আর দিনের ফযিলত, জুমু‘আর সালাতের ফযিলত, জুমু‘আর দিনের করনীয়, বর্জনীয়, জুমু‘আর সালাতের বিধান এবং আদব সমূহ সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে। এ বইটির নাম রাখা হয়েছে ‘জুমু‘আর দিনের বিধান’ করে।
আল্লাহর নিকট প্রার্থনা এই যে, তিনি যেন এ বইটি দ্বারা মানুষের উপকার সাধন করেন এবং আমার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে কবুল করেন এবং তা যেন কেবল আল্লাহর জন্য করার তাওফীক দেন।
বইটির মধ্যে ভূল ত্রুটি থাকা একেবারেই স্বাভাবিক। যদি কোন পাঠকের নিকট কোন প্রকার ভূল ধরা পড়ে বা কোন বিষয় সংযোজন বা বিয়োজন করার প্রয়োজন পড়ে তাহলে আমাকে সে বিষয়ে জানালে তা ধন্যবাদান্তে গ্রহণ করা হবে। আল্লাহর নিকট তাওফীক কামনা আল্লাহ যেন আমাকে আমার উদ্দেশ্যে সফল করেন। আল্লাহর উপরই ভরসা করি এবং আল্লাহর দিকেই আমাদের ফিরে যেতে হবে।
সংকলক
জাকের উল্লাহ আবুল খায়ের
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু উভয় সাহাবী হতে বর্ণিত, তারা বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«أضل الله عز وجل عن الجمعة من كان قبلنا؛ فكان لليهود يوم السبت، وكان للنصارى يوم الأحد، فجاء الله عز وجل بنا فهدانا ليوم الجمعة، فجعل الجمعة والسبت والأحد، وكذلك هُم لنا تبع يوم القيامة، ونحن الآخِرون من أهل الدنيا، والأولون يوم القيامة، المقضي لهم قبل الخلائق» [ رواه مسلم، والنسائي، ابن ماجة ].
“আল্লাহ তা‘আলা আমাদের পূর্ববর্তীদেরকে জুমু‘আ থেকে বঞ্চিত করেন। ইয়াহুদীদের জন্য শনিবার এবং খৃষ্টানদের জন্য রবিবারকে নির্ধারণ করেন। অত:পর আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে পাঠান এবং আমাদেরকে জুমু‘আর দিবসটির প্রতি পথ দেখান। জুমু‘আর পর শনিবার এবং তারপর রবিবার নির্ধারণ করেন। যেভাবে দিবসের দিক দিয়ে তারা আমাদের পিছনে আছে, কিয়ামতের দিনও তারা আমাদের পিছনে থাকবে। দুনিয়াতে আমাদের আগমন পরে হলেও কিয়ামতের দিন আমরাই প্রথম হব। সমস্ত মাখলুকের পূর্বে আমাদের ফায়সালা করা হবে”। [মুসলিম, হাদিস: ৮৫৬; নাসায়ী, হাদিস: ১৩৬৮; ইবনু মাযা, হাদিস: ১০৮৩]
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«خير يوم طلعت فيه الشمس يوم الجمعة؛ فيه خلق آدم عليه السلام، وفيه أدخل الجنة، وفيه أخرج منها» [ رواه مسلم، والترمذي، والنسائي ].
“সূর্য উদয় হয়েছে এমন দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন জুমু‘আর দিন। এ দিন আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং এ দিনে তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়”। [মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪; হাদিস: ৮৫৪,১৮; তিরমিযি, হাদিস: ৪৮৮; নাসায়ী, হাদিস: ৮৯/৩]
জুমু‘আর দিনের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব অনেক বেশি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হাদিসে এর বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। মুসলিম জ্ঞানীরা এ দিবসের বিভিন্ন ধরনের ফযিলত ও গুরুত্ব তার স্বীয় লিখনি ও কিতাব সমূহে আলোচনা করেছেন। এ দিবসের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল, জুমু‘আর সালাত। জুমু‘আর সালাত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরয এবং মুসলিম ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জুমু‘আর সালাতের সাথে সম্পৃক্ত।
বর্তমানে আমরা মানুষের মধ্যে জুমু‘আর সালাতে উপস্থিত হতে শিথিলতা এবং জুমু‘আর দিন সম্পর্কে উদাসীনতা লক্ষ্য করি। মানুষ জুমু‘আর দিন সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার কারণে, জুমু‘আর সালাতে উপস্থিত হতে দেরী করে, জুমু‘আর দিনের করনীয় ও বর্জনীয় কি তার প্রতি গুরুত্ব দেয় না এবং জুমু‘আর দিনের আদব গুলো যথাযথ পালন করে না। জুমু‘আর দিনের তাৎপর্য সম্পর্কে আলোচনা করা এবং তা উম্মতে মুসলিমাকে জানিয়ে দেয়া খুবই জরুরি মনে করি। বিশেষ করে বাংলা ভাষায় জুমু‘আর দিন সম্পর্কে দলীল ভিত্তিক বই খুব কম পাওয়া যায়। যার কারণে বাংলা ভাষীদের মধ্যে জুমু‘আর দিন সম্পর্কে সচেতনা খুব বেশি লক্ষ্য করা যায় না। কুরআন ও হাদিসের আলোকে জুমু‘আ সম্পর্কে একটি বই থাকা খুবই জরুরি। এ জন্য আমি জুমু‘আ সম্পর্কে একটি সংকলনের চেষ্টা করি। বইটির প্রতিটি বিষয় কুরআন ও সূন্নাহের অকাট্য প্রমাণাদি থেকে সংগৃহীত।
এ বইটিতে সংক্ষেপে জুমু‘আর দিনের ফযিলত, জুমু‘আর সালাতের ফযিলত, জুমু‘আর দিনের করনীয়, বর্জনীয়, জুমু‘আর সালাতের বিধান এবং আদব সমূহ সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে। এ বইটির নাম রাখা হয়েছে ‘জুমু‘আর দিনের বিধান’ করে।
আল্লাহর নিকট প্রার্থনা এই যে, তিনি যেন এ বইটি দ্বারা মানুষের উপকার সাধন করেন এবং আমার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে কবুল করেন এবং তা যেন কেবল আল্লাহর জন্য করার তাওফীক দেন।
বইটির মধ্যে ভূল ত্রুটি থাকা একেবারেই স্বাভাবিক। যদি কোন পাঠকের নিকট কোন প্রকার ভূল ধরা পড়ে বা কোন বিষয় সংযোজন বা বিয়োজন করার প্রয়োজন পড়ে তাহলে আমাকে সে বিষয়ে জানালে তা ধন্যবাদান্তে গ্রহণ করা হবে। আল্লাহর নিকট তাওফীক কামনা আল্লাহ যেন আমাকে আমার উদ্দেশ্যে সফল করেন। আল্লাহর উপরই ভরসা করি এবং আল্লাহর দিকেই আমাদের ফিরে যেতে হবে।
সংকলক
জাকের উল্লাহ আবুল খায়ের