hadith book logo

নারীর প্রাকৃতিক রক্তস্রাব

লেখকঃ শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-উসাইমীন • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৭

উপসংহার

সম্মানিত পাঠক-পাঠিকা!

এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আপনাদের কাছে যা উপস্থাপন করার ইচ্ছা পোষণ করে লিখার সূচনা করেছিলাম তা এখানেই শেষ। এই পুস্তিকাতে আমি শুধুমাত্র মৌলিক মাসআলাসমূহ এবং তার নিয়ম-কানূন বর্ণনা করেছি। অন্যথায় বর্ণিত মাসআলাসমূহের শাখা-প্রশাখা, আনুষঙ্গিক বিষয়াদি এবং হায়েয, নিফাস ও ইস্তেহাযার কারণে নারী জাতির বহুমুখী অবস্থার পূর্ণ বিবরণ কিনারাবিহীন সমুদ্রের মতো। তবে কোনো সমস্যার আবির্ভাব ঘটলে বিচক্ষণ ব্যক্তি মূল বিষয় ও তার নিয়ম-কানূনের ওপর ভিত্তি করে সমাধান দিতে পারবে এবং এক বিষয়কে সমপর্যায়ের অন্য মাসআলার ওপর অনুমান করে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হবে।

একজন মুফতীর একথা স্মরণ থাকা উচিৎ যে, তিনি রাসূলগণের আনীত দীন, শরী‘আত ও মতাদর্শ প্রচার এবং প্রসারের জন্য আল্লাহ তা‘আলা ও মানব জাতির মাঝে একজন মধ্যস্থতাকারীর সমতুল্য। কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত নিয়ম-নীতি ও বিধি-বিধানের আলোকে কোনো প্রশ্নের সমাধান দেওয়া তাঁরই দায়িত্ব। কেননা কুরআন ও সুন্নাহ এমন দু’টি মূল উৎস যে দু’টিকে বুঝে তার ওপর আমল করার জন্য সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং যে কথা, যে অভিমত এবং যে সমাধান কুরআন ও সুন্নাহ পরিপন্থী হবে তা ভুল বলে প্রমাণিত হবে, যা গ্রহণ করা জায়েয হবে না, বরং প্রত্যাখ্যান করা ওয়াজিব। যদি ভুল সমাধানদাতা মুজতাহিদ অপারগ হয়ে থাকেন তাহলে তাকে তার ইজতেহাদের কারণে প্রতিদান দেওয়া হবে কিন্তু যে ব্যক্তি তার এ ভুল সম্পর্কে অবগত হবে তার জন্য তা গ্রহণ করা জায়েয হবে না।

একজন মুফতীর জন্য কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত করা, নতুন কোনো বিষয় সামনে আসলে আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা এবং তার কাছে সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য সাহায্য ও তাওফীক কামনা করা অত্যাবশ্যক। যে কোনো বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহ’র ভিত্তিতে আলোচনা ও চিন্তা-ভাবনা করা উচিত অথবা এমন কিছুর ভিত্তিতে আলোচনা ও চিন্তা-ভাবনা করা উচিৎ যা কুরআন ও হাদীস বুঝার জন্য সহায়ক হয়।

অনেক সময় দেখা যায় যে, একটা মাসআলা সামনে আসলে ওলামায়ে কেরামের অভিমত নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করা হয়। ফলে মাসআলাটির সুনিশ্চিত কোনো সমাধান পাওয়া যায় না এবং সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যও প্রকাশিত হয় না। কিন্তু পরক্ষণে যখন কুরআন ও হাদীসের দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয় তখন মাসআলার সমাধান ও হুকুম স্পষ্ট হয়ে যায়। আর এমনটি ইখলাস, ইলম ও সঠিক অনুভুতির ভিত্তিতেই হয়ে থাকে। কোনো প্রকার মাসআলার সম্মুখীন হলে বিলম্বে উত্তর দেওয়া একজন মুফতীর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাড়াহুড়া করা মোটেই উচিৎ নয়। অনেক ক্ষেত্রে তাড়াতাড়ি উত্তর দেওয়ার পর আবার গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করলে তা ভুল বলে প্রমাণিত হয়, যার ফলে উত্তরদাতাকে লজ্জিত হতে হয় এবং এ ভুলের ক্ষতিপূরণ করা অনেক সময় সম্ভব হয় না।

কোনো মুফতীর মধ্যে অত্যন্ত চিন্তা-ভাবনা করে ধীর গতিতে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মানসিকতা থাকলে এবং তার মধ্যে দৃঢ়তা লক্ষ্য করা গেলে তার কথার প্রতি মানুষের বিশ্বাস আসবে এবং জনসাধারণ তাড়াতাড়ি উত্তর দেওয়ার অভ্যাস লক্ষ্য করলে তার প্রতি মানুষের কোনো বিশ্বাস থাকবে না। কেননা যে কোনো কাজ তাড়াহুড়ো করে করলে ভুল হয়েই থাকে আর এ ধরনের দ্রুতগামীতা ও ভুলের কারণে তার জ্ঞান প্রদীপের আলো থেকে সে নিজে বঞ্চিত হবে এবং অপরকেও বঞ্চিত করবে।

সর্বশেষে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদেরকে সরল ও সঠিক পথের সন্ধান দেন, অনুগ্রহ করে আমাদের তত্ত্বাবধান গ্রহণ করেন এবং পদস্খলন থেকে আমাদের হিফাযত করেন। তিনিই অসীম দাতা এবং পরম দয়ালু।

সমাপ্ত