hadith book logo

বর্ষাকালের বিবিধ বিধান

লেখকঃ আলী হাসান তৈয়ব • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

পানির জন্য হাহাকার:

গেল শতাব্দীতে পৃথিবীর বড় বড় পরাশক্তিগুলো তেলসম্পদ আহরণ জন্য একের পর যুদ্ধে জড়িয়েছে। তেলের তরল লোভে একে অন্যের পেছনে লেগে থেকেছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ মুসলিম দেশগুলোয় শকুনেরা দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেছে তরলসোনা খ্যাত তেলের প্রতি। বর্তমান শতাব্দীতে দেখা যাচ্ছে যুদ্ধের আড়ালে ভূমিকা রাখছে পরাশক্তিগুলোর অস্ত্র বিক্রির অনৈতিক স্বার্থ। ভূতত্ত্ববিদ ও গবেষকদের মতে, আগামী শতাব্দী পৃথিবীতে যুদ্ধ ও হানাহানি হতে পারে পানি নিয়ে। সাম্প্রতিক সময়গুলোয় উন্নত বিশ্বকে সবচেয়ে বেশি সরব দেখা যাচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে। ক্লাইমেক্স চেঞ্জ এখন জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর অন্যতম প্রধান আলোচ্য। তাদের বক্তব্য, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীর বরফভাণ্ডারসমূহ গলতে শুরু করেছে। এতে হুমকির মুখে রয়েছে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাণ ও প্রকৃতি। এদিকে পৃথিবীতে এখন বিশুদ্ধ পানির স্তর ক্রমনিম্নমুখী। বাংলাদেশের মতো নদীমাতৃক তৃতীয়বিশ্বের দেশেও এখন শহরাঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার পড়ে যায় গ্রীষ্মকালে। স্থানভেদে টাকা দিয়ে কিনে খেতে আল্লাহর দান বিশুদ্ধ পানি। শুধু বোতলজাত মিনারেল ওয়াটার নয়, আজকাল ফুতপাথের রেস্তোরাঁ ও চা-স্টলগুলোতেও পানি কিনে খেতে হয় গ্লাস প্রতি ১ টাকা করে।

আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে প্রায় জায়গায় পানির নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাঁকে নিয়ে চিন্তা করা, তাঁর মারিফাত লাভ এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাবনত হওয়ার কথা বলেছেন। শুধু তাই নয়, অন্যথায় তিনি এ নি‘আমত ছিনিয়ে নিতে পারেন আজ থেকে প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগে তাও বলে দিয়েছেন। তিনি না দিলে এ নি‘আমত মানুষ খুঁজেও পাবে না মর্মে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন নানাভাবে। কয়েক মাস আগে বাংলাদেশে বিরল এক ঘটনা ঘটে। সারা দেশে একযোগে বিদ্যুৎ চলে যায়। দেশজুড়ে নেমে আসে ভীতি জাগানিয়া অন্ধকার। প্রায় চব্বিশ ঘন্টা বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন থাকায় জেনারেটরের মতো বিকল্প ব্যবস্থাগুলোও প্রায় বিকল হয়ে যায়। তখন আমরা স্বচোখে প্রত্যক্ষ করেছি পানির নি‘আমত আল্লাহ সাময়িক সময়ের জন্য তুলে নিলে মানুষের কী করুণ অবস্থা হতে পারে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿وَأَنزَلۡنَا مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءَۢ بِقَدَرٖ فَأَسۡكَنَّٰهُ فِي ٱلۡأَرۡضِۖ وَإِنَّا عَلَىٰ ذَهَابِۢ بِهِۦ لَقَٰدِرُونَ ١٨﴾ [ المؤمنون : ١٨ ]

“আর আমরা আকাশ থেকে পরিমিতভাবে পানি বর্ষণ করেছি। অতঃপর আমরা তা জমিনে সংরক্ষণ করেছি। আর অবশ্যই আমরা সেটাকে অপসারণ করতেও সক্ষম”। [সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত: ১৮]