hadith book logo

বিশ্ব বাবা দিবস ইসলামী দৃষ্টিকোণ

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

বাবা দিবস খৃষ্টানদের ধর্মীয় আচার:

বাবা দিবস হলো খৃষ্টানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এটা কোন মুসলিম পালন করতে পারে না।

উপরের আলোচনা থেকে আমরা জানলাম এটার উৎপত্তি হয়েছে আমেরিকায়। প্রায় সকল দেশেই তা পালন করা হয় রবিবারে। তারিখ ভিন্ন ভিন্ন হলেও। যে দিনটি হল খৃষ্টানদের সাপ্তাহিক উৎসবের দিন। আমি যতদূর খোঁজ-খবর নিয়ে দেখেছি এ বছর ১৫ জুন রবিবার বাংলাদেশের সকল গির্জায় বাবা দিবস উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান হয়েছে। এমনকি এ দিন সকালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের বাইবেল পাঠ অনুষ্ঠানের পুরোটাই ছিল বাবা দিবসের ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা। যীশু বা বাইবেলে বাবা দিবস সম্পর্কে কোন কথা না থাকলেও খৃষ্টানরা এটা তাদের ধর্মীয় আচার বলে গ্রহণ করে নিয়েছে। আর খৃষ্টানদের ধর্মটা এরকমই। প্রায় একশ ভাগই ভেজাল। তাদের নবী বলেছে কি-না বা তাদের ধর্মগ্রন্থে আছে কি-না সেটা তাদের কাছে কোন বিষয় নয়। পাদ্রীদের পছন্দ হয়েছে তো তা ধর্মের অংশ হয়ে গেছে। তাই মা দিবস, বাবা দিবস তাদেরই প্রচলিত তাদের ধর্মীয় দিবস। কোন মুসলিম, যে ইসলাম পছন্দ করে সে কখনো এ সকল দিবস পালন করতে পারে না। আর যে ইসলাম পছন্দ করে না, আমেরিকার দাসত্বে বিশ্বাসী, তাদের কৃষ্টি-কালচার খুব পছন্দ হয়, পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণ করে, তাদের সম্পর্কে আমাদের এখানে কিছু বলার নেই। এ প্রবন্ধ তাদের জন্য নয়। ইসলামপ্রিয় মুসলমানদের সতর্ক করা আমাদের মিশন। তাদের ইসলামকে নির্ভেজাল ও অবিকৃত রাখা আমাদের কর্তব্যের অংশ। উপরের আলোচনায় আমরা আরো দেখেছি যেসব দেশে বাবা দিবস পালিত হয়, তার প্রায় সবগুলোই খৃষ্টান অধ্যুসিত দেশ।

আরো মজার ব্যাপার হলো বিশ্বে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন তারিখে বাবা দিবস পালন করা হয়। কিন্তু যে দিন আমেরিকাতে বাবা দিবস পালন করা হয় সে দিনটাকে কেন ‘বিশ্ব’ বাবা দিবস বলা হবে? আমেরিকার নাম কি বিশ্ব? না কি এটা সাড়া বিশ্বকে মার্কিনিকরণ কর্মসূচীর অংশ? আমাদের দেশের সরকারী বেসরকারী মিডিয়াগুলো কেন এ দিনটাকে ‘বিশ্ব’ বাবা দিবস বলে প্রচার করে থাকে? তারা কি মার্কিন আধিপত্যবাদ বা সাম্রাজ্যবাদ বিস্তারের কন্ট্র্যাক্ট পেয়ে গেছেন? এ প্রশ্নগুলো তাদের কাছেই থাকলো।