১
নামাযে আমরা কীভাবে দু‘আ করব
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫
সিজদায়
বেশিরভাগ নামাযী সিজদায় গিয়ে শুধুমাত্র ‘‘সুবহা-না রাবিবয়াল আ‘লা’’ এ তাসবীহটি পড়ে থাকেন। কিন্তু নবী ﷺ সিজদায় গিয়ে শুধুমাত্র এ তাসবীহটিই পাঠ করতেন না; বরং আরো অনেক তাসবীহ ও দু‘আ পাঠ করতেন, যা বান্দার দৈনন্দিন জীবনে অতি গুরুত্বপূর্ণ। নিচে এগুলো উল্লেখ করা হলো :
১. সিজদায় নবী ﷺ ক্ষমাপ্রার্থনা করতেন :
আয়েশা (রাঃ) বলেন, সূরা নাসর নাযিল হওয়ার পর নবী ﷺ বেশি করে রুকূ ও সিজদার মধ্যে এ দু‘আ পড়তেন-
سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ
উচ্চারণ : সুব্হা-নাকা আল্লা-হুম্মা রাববানা ওয়াবিহামদিকা আল্লা-হুম্মাগ্ফিরলী।
অর্থ : হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার প্রশংসার সাথে আমরা তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দাও। [সহীহ বুখারী, হা/৭৯৪; সহীহ মুসলিম, হা/১১১৩; আবু দাউদ, হা/৮৭৭; নাসাঈ, হা/১১২২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪২০৯।]
২. সিজদায় নবী ﷺ বিনয় প্রকাশ করতেন :
اَللّٰهُمَّ لَكَ سَجَدْتُّ وَبِكَ اٰمَنْتُ وَلَكَ اَسْلَمْتُ سَجَدَ وَجْهِىَ لِلَّذِىْ خَلَقَهٗ وَشَقَّ سَمْعَهٗ وَبَصَرَهٗ تَبَارَكَ اللهُ اَحْسَنُ الْخَالِقِيْنَ
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা লাকা সাজাত্তু, ওয়াবিকা আ-মানতু, ওয়া লাকা আসলামতু, সাজাদা ওয়াজ্হীয়া লিল্লাযী খালাকাহু ওয়া শাক্কা সামআহু ওয়া বাসারাহু, তাবা-রাকাল্লা-হু আহসানুল খা-লিকীন।
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার জন্য আমি সিজদা করছি। আপনার প্রতি ঈমান এনেছি এবং আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি। আমার চেহারা সিজদা করছে ঐ সত্তাকে- যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং সুন্দর আকৃতি দান করেছেন এবং তাতে কান ও চক্ষু স্থাপন করেছেন। বরকতময় সেই মহান সত্তা, যিনি অনেক উত্তম সৃষ্টিকর্তা। [সহীহ মুসলিম, হা/১৮৪৮; আবু দাউদ, হা/৭৬০; তিরমিযী, হা/৩৪২১।]
৩. সিজদায় নবী ﷺ সকল প্রকার পাপ থেকে ক্ষমা চাইতেন :
নবী ﷺ সিজদায় গিয়ে এ দু‘আ পড়তেন-
اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِىْ ذَنْبِىْ كُلَّهٗ دِقَّهٗ وَجِلَّهٗ وَاَوَّلَهٗ وَاٰخِرَهٗ وَعَلَانِيَّتَهٗ وَسِرَّهٗ
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মাগ্ফির্লী যাম্বী কুল্লাহু দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু ওয়া আওয়ালাহু ওয়া আ-খিরাহু ওয়া আলা-নিয়্যাতাহু ওয়া সিররাহু।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমার ছোট-বড়, আগের-পরের, প্রকাশ্য ও গোপন সকল প্রকার গোনাহ ক্ষমা করে দিন। [সহীহ মুসলিম, হা/১১১২; আবু দাউদ, হা/৮৭৮; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৬৭২; সহীহ ইবনে হিববান, হা/১৯৩১।]
৪. সিজদায় নবী ﷺ আল্লাহর অসমত্মুষ্টি ও শাস্তি হতে আশ্রয় চাইতেন :
আয়েশা (রাঃ) বলেন, একরাতে আমি রাসূল ﷺ এর কাছে আসলাম এবং মসজিদ স্পর্শ করলাম। তখন তিনি সিজদারত অবস্থায় ছিলেন এবং তাঁর দু’পা একত্রিত ছিল। আর তখন তিনি এ দু‘আ পাঠ করছিলেন।
اَعُوْذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَاَعُوْذُ بِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوْبَتِكَ وَاَعُوْذُ بِكَ مِنْكَ لَا اُحْصِىْ ثَنَاءً عَلَيْكَ اَنْتَ كَمَا اَثْنَيْتَ عَلٰى نَفْسِكَ
উচ্চারণ : আউযু বিরিযা-কা মিন সাখাত্বিকা ওয়া আঊযু বিমু‘আ-ফা-তিকা মিন ‘উকূবাতিকা ওয়া আঊযু বিকা মিনকা লা-উহ্সী ছানা-আন আলাইকা আনতা কামা- আছনাইতা ‘আলা নাফসিকা।
অর্থ : আমি তোমার সমত্মুষ্টির মাধ্যমে তোমার অসমত্মুষ্টি হতে আশ্রয় চাই। আমি তোমার ক্ষমার মাধ্যমে তোমার শাস্তি হতে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই, তোমার প্রশংসা করে আমি শেষ করতে পারব না। তুমি যেভাবে তোমার নিজের প্রশংসা করেছ তেমনি আছ। [সহীহ মুসলিম, হা/১১১৮; আবু দাউদ, হা/৮৭৯; তিরমিযী, হা/৩৪৯৩।]
১. সিজদায় নবী ﷺ ক্ষমাপ্রার্থনা করতেন :
আয়েশা (রাঃ) বলেন, সূরা নাসর নাযিল হওয়ার পর নবী ﷺ বেশি করে রুকূ ও সিজদার মধ্যে এ দু‘আ পড়তেন-
سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ
উচ্চারণ : সুব্হা-নাকা আল্লা-হুম্মা রাববানা ওয়াবিহামদিকা আল্লা-হুম্মাগ্ফিরলী।
অর্থ : হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার প্রশংসার সাথে আমরা তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দাও। [সহীহ বুখারী, হা/৭৯৪; সহীহ মুসলিম, হা/১১১৩; আবু দাউদ, হা/৮৭৭; নাসাঈ, হা/১১২২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪২০৯।]
২. সিজদায় নবী ﷺ বিনয় প্রকাশ করতেন :
اَللّٰهُمَّ لَكَ سَجَدْتُّ وَبِكَ اٰمَنْتُ وَلَكَ اَسْلَمْتُ سَجَدَ وَجْهِىَ لِلَّذِىْ خَلَقَهٗ وَشَقَّ سَمْعَهٗ وَبَصَرَهٗ تَبَارَكَ اللهُ اَحْسَنُ الْخَالِقِيْنَ
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা লাকা সাজাত্তু, ওয়াবিকা আ-মানতু, ওয়া লাকা আসলামতু, সাজাদা ওয়াজ্হীয়া লিল্লাযী খালাকাহু ওয়া শাক্কা সামআহু ওয়া বাসারাহু, তাবা-রাকাল্লা-হু আহসানুল খা-লিকীন।
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার জন্য আমি সিজদা করছি। আপনার প্রতি ঈমান এনেছি এবং আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি। আমার চেহারা সিজদা করছে ঐ সত্তাকে- যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং সুন্দর আকৃতি দান করেছেন এবং তাতে কান ও চক্ষু স্থাপন করেছেন। বরকতময় সেই মহান সত্তা, যিনি অনেক উত্তম সৃষ্টিকর্তা। [সহীহ মুসলিম, হা/১৮৪৮; আবু দাউদ, হা/৭৬০; তিরমিযী, হা/৩৪২১।]
৩. সিজদায় নবী ﷺ সকল প্রকার পাপ থেকে ক্ষমা চাইতেন :
নবী ﷺ সিজদায় গিয়ে এ দু‘আ পড়তেন-
اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِىْ ذَنْبِىْ كُلَّهٗ دِقَّهٗ وَجِلَّهٗ وَاَوَّلَهٗ وَاٰخِرَهٗ وَعَلَانِيَّتَهٗ وَسِرَّهٗ
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মাগ্ফির্লী যাম্বী কুল্লাহু দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু ওয়া আওয়ালাহু ওয়া আ-খিরাহু ওয়া আলা-নিয়্যাতাহু ওয়া সিররাহু।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমার ছোট-বড়, আগের-পরের, প্রকাশ্য ও গোপন সকল প্রকার গোনাহ ক্ষমা করে দিন। [সহীহ মুসলিম, হা/১১১২; আবু দাউদ, হা/৮৭৮; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/৬৭২; সহীহ ইবনে হিববান, হা/১৯৩১।]
৪. সিজদায় নবী ﷺ আল্লাহর অসমত্মুষ্টি ও শাস্তি হতে আশ্রয় চাইতেন :
আয়েশা (রাঃ) বলেন, একরাতে আমি রাসূল ﷺ এর কাছে আসলাম এবং মসজিদ স্পর্শ করলাম। তখন তিনি সিজদারত অবস্থায় ছিলেন এবং তাঁর দু’পা একত্রিত ছিল। আর তখন তিনি এ দু‘আ পাঠ করছিলেন।
اَعُوْذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَاَعُوْذُ بِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوْبَتِكَ وَاَعُوْذُ بِكَ مِنْكَ لَا اُحْصِىْ ثَنَاءً عَلَيْكَ اَنْتَ كَمَا اَثْنَيْتَ عَلٰى نَفْسِكَ
উচ্চারণ : আউযু বিরিযা-কা মিন সাখাত্বিকা ওয়া আঊযু বিমু‘আ-ফা-তিকা মিন ‘উকূবাতিকা ওয়া আঊযু বিকা মিনকা লা-উহ্সী ছানা-আন আলাইকা আনতা কামা- আছনাইতা ‘আলা নাফসিকা।
অর্থ : আমি তোমার সমত্মুষ্টির মাধ্যমে তোমার অসমত্মুষ্টি হতে আশ্রয় চাই। আমি তোমার ক্ষমার মাধ্যমে তোমার শাস্তি হতে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই, তোমার প্রশংসা করে আমি শেষ করতে পারব না। তুমি যেভাবে তোমার নিজের প্রশংসা করেছ তেমনি আছ। [সহীহ মুসলিম, হা/১১১৮; আবু দাউদ, হা/৮৭৯; তিরমিযী, হা/৩৪৯৩।]