১
সৎ মানুষের হৃদয়ে শয়তান প্রবেশের ধরণ ও প্রকৃতি
লেখকঃ ডক্টর আব্দুল্লাহ আল-খাতির • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১
ছয়: নিজের সত্ত্বা ও তার সামর্থ্যের সঠিক মূল্যায়ন না করা
নিজের সত্ত্বা ও তার সামর্থ্যের সঠিক মূল্যায়ন না করা।
সত্ত্বার মূল্যানের ক্ষেত্রে শয়তানের দু’টো দৃষ্টিভঙ্গি আছে
দৃষ্টিভঙ্গি-১. আত্মতুষ্টি ও অহমিকাঃ
প্রথমত শয়তান মানুষকে নিজ সত্ত্বার প্রতি বিমুগ্ধদৃষ্টি প্রদানে প্রবৃত্ত করে। তুমি নিজের দিকে তাকিয়ে দেখ, কত কী-ই না করেছ। তখন ঐ ব্যক্তির (মনস্তাত্তিক) পরিবর্তন ঘটে; ক্রমশ সে অহংকারী হয়, অহমিকা তাকে আচ্ছন্ন করে। অন্যদের সে তখন অবজ্ঞা করে, সত্য প্রত্যাখ্যান করে এবং ভুল করলে সংশোধনে অস্বীকৃতি জানায়। অন্যদের থেকে শিখতে, ইলমের আলোচনায় বসতে অনীহা প্রদর্শন করে। এ জাতীয় কোনো কোনো হালকায় (আলোচনা সভায়) আমি প্রত্যক্ষ করেছি যে, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতে যখন কোনো ব্যক্তি ভুল করে, তখন ভুল শুদ্ধ হওয়া পর্যন্ত হালকাগুলো অবধারিত করে নেয়ার পরিবর্তে সে তৎক্ষনাৎ হালকাগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। জন সমক্ষে লজ্জিত হবে, এ ভয়ে গোটা জিন্দেগী সে শেখে না।
একটু চিন্তা করলেই সে বুঝত, যে ভালভাবে পড়তে সক্ষম সে ব্যক্তিও কোনো একদিন তার মতই ছিল। (পড়তে জানতো না) তারপর শিখেছে। ঐ ব্যক্তির এ গুণটি যতদিন রইবে ততদিন তার সঙ্গ দেবে। তার উপকারে আসবে। কবি বলেন- যখনই তুমি কোন রাজপুরুষের সঙ্গ পাবে, তার লোকসমাজে গুপ্ত দোষগুলোও তুমি জানবে।
এ জন্য মন্দ স্বভাব লুকানো নয় বরং এর থেকে নিস্কৃতি পেতে আত্ম প্রশিক্ষণে সচেষ্ট হওয়া আবশ্যক।
দৃষ্টিভঙ্গি-২. বিনয় ও হীনমন্যতা
শয়তান আপনাকে বলবে বিনয় অবলম্বন অত্যন্ত জরুরী। যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য বিনয় অবলম্বন করবে আল্লাহ তার মর্যাদা সমুন্নত করবেন।
আর তুমি এ বিষয়ের যোগ্যও নও। এটাতো মনীষীদের কাজ। এর দ্বারা শয়তানের উদ্দেশ্য, আপনাকে আপনার মিশনচ্যুত করা। আর এটা হবে বিনয়ের মাধ্যমে।
শয়তান আপনাকে হীনমন্যতার এমন পর্যায়ে ঠেলে দেবে, যেন আপনার ধারণা জন্মে যে, আত্মশক্তির উৎকর্ষ সাধনে সত্ত্বাগত শক্তি দিয়ে আপনি কোনরূপ উপকৃত হতে পারবেন না। তাই আত্মশক্তির উন্মেষ ঘটাতে আপনি সচেষ্ট হবেন না। অথচ আমরা প্রত্যেকেই নিজ-নিজ শক্তি ও সামর্থ্যের ব্যাপারে দায়িত্বশীল; এর উৎকর্ষ সাধন অত্যাবশ্যক। যদি উৎকর্ষ সাধন না করা হয়, তাহলে আল্লাহর কাছে এর জন্য জওয়াবদিহি হতে হবে। দিতে হবে হিসাব।
এটা মূলতঃ বিনয় নয়, দায়িত্ব হতে পলায়ন, কর্তব্যে ফাঁকি। কিন্তু শয়তান তাকে বলে, তোমার তুলনায় শ্রেষ্ঠ যারা, তাদের জন্য এ অঙ্গন ছেড়ে দাও। দাওয়াত তো উঁচু কাজ; অন্যান্য সাধারণ ব্যক্তিদের কাজ। কখনও শয়তান এর সহায়ক ভাবনা নিয়েও আসে। দায়িত্ব পালনে কোন ব্যক্তি কখনও ভুল করে। তখন শয়তান তার মনে ভুলের ব্যাপকতার ধারণা সৃষ্টি করে যে, এমন ভুলতো সবাই করে ব্যাপকতার এ ধারণাটাও শয়তানের পথ এবং কাজ।
কখনও সে মানুষকে সত্ত্বাগতভাবে হীনমন্যতায় ভোগায়। তখন মানুষ নিজ বিবেককে এমন ভাবে নিস্ক্রিয় করে যে, নিজে আর চিন্তা-ভাবনা করে না। এ প্রশ্ন তুলে আমি কোথায়, আর পীর সাহেব কোথায়? আলেমদের সামনে আমি কে? নিজের বোধ-বুদ্ধি নিস্ক্রিয় করে পীরের বোধ বুদ্ধিতেই ভাবতে থাকে। পীরের কথা ছাড়া কিছুই করে না। পীরই ঠিক বাকি সবকিছু ভুল, এ প্রবণতা থেকেই শুরু হয় ‘ব্যক্তি পূজা’ আর ‘ব্যক্তিবন্দনা’।
আমাদের মূলনীতি শরীয়তের আশ্রয় গ্রহণ। আপনার সম্মুখস্থ এ ব্যক্তির পক্ষে ভুল করা সম্ভব। তাই ব্যক্তির মতামত ও কথাগুলো আল্লাহ ও রাসূলের কথা দ্বারা পরিমাপ করতে হবে, যা আল্লাহ ও রাসুলের কথার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। তা গ্রহণ করব। আর যা সমাঞ্জস্যপূর্ণ হবে না তা প্রত্যাখান করব।
সত্ত্বার মূল্যানের ক্ষেত্রে শয়তানের দু’টো দৃষ্টিভঙ্গি আছে
দৃষ্টিভঙ্গি-১. আত্মতুষ্টি ও অহমিকাঃ
প্রথমত শয়তান মানুষকে নিজ সত্ত্বার প্রতি বিমুগ্ধদৃষ্টি প্রদানে প্রবৃত্ত করে। তুমি নিজের দিকে তাকিয়ে দেখ, কত কী-ই না করেছ। তখন ঐ ব্যক্তির (মনস্তাত্তিক) পরিবর্তন ঘটে; ক্রমশ সে অহংকারী হয়, অহমিকা তাকে আচ্ছন্ন করে। অন্যদের সে তখন অবজ্ঞা করে, সত্য প্রত্যাখ্যান করে এবং ভুল করলে সংশোধনে অস্বীকৃতি জানায়। অন্যদের থেকে শিখতে, ইলমের আলোচনায় বসতে অনীহা প্রদর্শন করে। এ জাতীয় কোনো কোনো হালকায় (আলোচনা সভায়) আমি প্রত্যক্ষ করেছি যে, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতে যখন কোনো ব্যক্তি ভুল করে, তখন ভুল শুদ্ধ হওয়া পর্যন্ত হালকাগুলো অবধারিত করে নেয়ার পরিবর্তে সে তৎক্ষনাৎ হালকাগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। জন সমক্ষে লজ্জিত হবে, এ ভয়ে গোটা জিন্দেগী সে শেখে না।
একটু চিন্তা করলেই সে বুঝত, যে ভালভাবে পড়তে সক্ষম সে ব্যক্তিও কোনো একদিন তার মতই ছিল। (পড়তে জানতো না) তারপর শিখেছে। ঐ ব্যক্তির এ গুণটি যতদিন রইবে ততদিন তার সঙ্গ দেবে। তার উপকারে আসবে। কবি বলেন- যখনই তুমি কোন রাজপুরুষের সঙ্গ পাবে, তার লোকসমাজে গুপ্ত দোষগুলোও তুমি জানবে।
এ জন্য মন্দ স্বভাব লুকানো নয় বরং এর থেকে নিস্কৃতি পেতে আত্ম প্রশিক্ষণে সচেষ্ট হওয়া আবশ্যক।
দৃষ্টিভঙ্গি-২. বিনয় ও হীনমন্যতা
শয়তান আপনাকে বলবে বিনয় অবলম্বন অত্যন্ত জরুরী। যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য বিনয় অবলম্বন করবে আল্লাহ তার মর্যাদা সমুন্নত করবেন।
আর তুমি এ বিষয়ের যোগ্যও নও। এটাতো মনীষীদের কাজ। এর দ্বারা শয়তানের উদ্দেশ্য, আপনাকে আপনার মিশনচ্যুত করা। আর এটা হবে বিনয়ের মাধ্যমে।
শয়তান আপনাকে হীনমন্যতার এমন পর্যায়ে ঠেলে দেবে, যেন আপনার ধারণা জন্মে যে, আত্মশক্তির উৎকর্ষ সাধনে সত্ত্বাগত শক্তি দিয়ে আপনি কোনরূপ উপকৃত হতে পারবেন না। তাই আত্মশক্তির উন্মেষ ঘটাতে আপনি সচেষ্ট হবেন না। অথচ আমরা প্রত্যেকেই নিজ-নিজ শক্তি ও সামর্থ্যের ব্যাপারে দায়িত্বশীল; এর উৎকর্ষ সাধন অত্যাবশ্যক। যদি উৎকর্ষ সাধন না করা হয়, তাহলে আল্লাহর কাছে এর জন্য জওয়াবদিহি হতে হবে। দিতে হবে হিসাব।
এটা মূলতঃ বিনয় নয়, দায়িত্ব হতে পলায়ন, কর্তব্যে ফাঁকি। কিন্তু শয়তান তাকে বলে, তোমার তুলনায় শ্রেষ্ঠ যারা, তাদের জন্য এ অঙ্গন ছেড়ে দাও। দাওয়াত তো উঁচু কাজ; অন্যান্য সাধারণ ব্যক্তিদের কাজ। কখনও শয়তান এর সহায়ক ভাবনা নিয়েও আসে। দায়িত্ব পালনে কোন ব্যক্তি কখনও ভুল করে। তখন শয়তান তার মনে ভুলের ব্যাপকতার ধারণা সৃষ্টি করে যে, এমন ভুলতো সবাই করে ব্যাপকতার এ ধারণাটাও শয়তানের পথ এবং কাজ।
কখনও সে মানুষকে সত্ত্বাগতভাবে হীনমন্যতায় ভোগায়। তখন মানুষ নিজ বিবেককে এমন ভাবে নিস্ক্রিয় করে যে, নিজে আর চিন্তা-ভাবনা করে না। এ প্রশ্ন তুলে আমি কোথায়, আর পীর সাহেব কোথায়? আলেমদের সামনে আমি কে? নিজের বোধ-বুদ্ধি নিস্ক্রিয় করে পীরের বোধ বুদ্ধিতেই ভাবতে থাকে। পীরের কথা ছাড়া কিছুই করে না। পীরই ঠিক বাকি সবকিছু ভুল, এ প্রবণতা থেকেই শুরু হয় ‘ব্যক্তি পূজা’ আর ‘ব্যক্তিবন্দনা’।
আমাদের মূলনীতি শরীয়তের আশ্রয় গ্রহণ। আপনার সম্মুখস্থ এ ব্যক্তির পক্ষে ভুল করা সম্ভব। তাই ব্যক্তির মতামত ও কথাগুলো আল্লাহ ও রাসূলের কথা দ্বারা পরিমাপ করতে হবে, যা আল্লাহ ও রাসুলের কথার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। তা গ্রহণ করব। আর যা সমাঞ্জস্যপূর্ণ হবে না তা প্রত্যাখান করব।