hadith book logo

সৎ মানুষের হৃদয়ে শয়তান প্রবেশের ধরণ ও প্রকৃতি

লেখকঃ ডক্টর আব্দুল্লাহ আল-খাতির • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

এক: মুসলিমদের পরস্পরকে পরস্পরের বিরুদ্ধে উস্কে দেয়া এবং অন্যের সম্পর্কে কু-ধারণা সৃষ্টি করা

মুসলিমদের পরস্পরকে পরস্পরের বিরুদ্ধে উস্কে দেয়া এবং অন্যের সম্পর্কে কু-ধারণা সৃষ্টি করা।

ইমাম মুসলিম রহ. বর্ণিত পবিত্র হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

«إنَّ إبْلِيْسَ قَدْ يَئِسَ أنْ يَعْبُدُهُ الصَّالِحُوْنَ ... وَلَكِن يَسْعَى بَيْنَهُمْ فِي التَّحْرِيشِ» . مسلم ২৮১৬

‘‘আল্লাহ ওয়ালারা ইবলীসের বন্দেগী করবে এর থেকে সে নিরাশ হয়ে গেছে, তবে সে তাদের পরস্পরকে পরস্পরের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করার চেষ্টা করে।’ (বর্ণনায় মুসলিম : ২৮১৬)

অর্থাৎ পরস্পরের মাঝে কলহ-বিদ্বেষ- গোলযোগ সৃষ্টির প্রয়াস চালায় এবং পরস্পরকে পরস্পরের পিছনে লাগায়।

ভিন্নসূত্রে বণিত হয়েছে

«أنه قد يئس الشيطان أن يعبده المصلون في جزيرة العرب . . .»

‘‘আরব উপদ্বীপে ইবাদত গুজার ব্যক্তিরা শয়তানের উপাসনা করবে, এ থেকে সে নিরাশ হয়ে গেছে।’’

কু ধারণার উৎস মূলত শয়তান।

উম্মুল মু’মিনীন সফিয়্যা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে এতেকাফরত ছিলেন। রাতে তাঁর সাথে সাক্ষাতে এলাম। কথা বললাম। বাড়ি ফেরার জন্য উঠলাম, তিনিও বিদায় দেবার জন্য আমার সাথে উঠলেন। দু’জন আনসারী সাহাবী রা. তখন আমাদেরকে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন। যখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলেন, চলার গতি দ্রুত করলেন। রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাললাম বললেন,

«على رسلكما، إنها صفية بنت حيي» .

‘‘আরে তোমরা থাম! সে তো (আমার স্ত্রী) সফিয়্যা বিনতে হুয়াই।’’

ছাহাবাদ্বয় (সসংকোচে) বললেন, ছুবহানাল্লাহ! ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!!

-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

«إن الشيطان يجري من بني آدم مجرى الدم، وإني خفت أن يقذف في قلوبكما شرا، فيقال شيئا»

‘শয়তান মানবদেহে রক্ত প্রবাহের ন্যায় শিরা-উপশিরায় চলাচল করে। তাই আশংকা করলাম যে, তোমাদের অন্তরে সে কু-ধারণা ঢেলে দিতে পারে, যার ফলে কোন কিছু বলা হতে পারে।

(বর্ণনায়ঃ বুখারী ও মুসলিম)

রাতে একজন পুরুষ একজন নারীর সাথে চলছে, স্বভাবতই এখানে সন্দেহ ও কুধারণার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মন্দ ধারণার সম্ভাবনা দূর করার জন্য বললেন- তোমরা থাম, ইনিতো (আমার স্ত্রী) সফিয়্যা রা.। এ কারণেই সন্দেহের সম্ভাবনা আছে, এমন অবস্থার সম্মুখীন হলে, দর্শন শ্রোতাদের কাছে অবস্থান এমনভাবে সুস্পষ্ট করা আবশ্যক, যাতে কু-ধারণার কোনো অবকাশই না থাকে।

মন্দ ধারণা শয়তানের অন্যতম প্রবেশপথ। তাই সর্বদা সে আপনাকে এ মনোভাবাপন্ন করবে যে, কোন কথা শুনলেই যেন আপনি তার নেতিবাচক ব্যাখ্যা করেন।

শয়তান মানুষের মাঝে উস্কানিও দেয়। সুলাইমান ইবন সরদ রা. বর্ণিত হাদীস এর প্রমাণ। তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (স.) এর সাথে বসা ছিলাম। দু’ব্যক্তি পরস্পরে গালাগালি করছিল। ইতোমধ্যে একজনের মুখমন্ডল ক্রোধে রক্তিমবর্ণ ধারণ করল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন ইরশাদ করলেন- ‘আমি এমন একটা কালেমা জানি, যদি সে তা বলত, তাহলে তার ক্রোধ দূরীভূত হয়ে যেত। যদি সে বলত

«أعوذ بالله من الشيطان الرجيم» .

বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় নিচ্ছি।