hadith book logo

সৎ মানুষের হৃদয়ে শয়তান প্রবেশের ধরণ ও প্রকৃতি

লেখকঃ ডক্টর আব্দুল্লাহ আল-খাতির • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২

সাত: সন্দেহ সৃষ্টি ‘সন্দেহ সৃষ্টি’ শয়তানের ভয়ঙ্কর পথসমূহের অন্যতম

‘সন্দেহ সৃষ্টি’ শয়তানের ভয়ঙ্কর পথসমূহের অন্যতম। যে পথে শয়তান মানুষের অভ্যন্তরে, আবির্ভূত হয়। কিন্তু কীভাবে তা করে?

নিষিদ্ধকৃত বস্তু থেকে দূরে, আল্লাহর নির্দেশের অনুগামী, নিষ্ঠাবান এমন এক ব্যক্তির অনুসৃত জীবন পদ্ধতির শুদ্ধতার ব্যাপারে শয়তান সন্দেহের সৃষ্টি করে।

কিভাবে?

শয়তান প্রথমে তার কাছে আসে। তারপর তার অনুসৃত পথের শুদ্ধতার ব্যাপারে তাকে সন্দিহান করে। বিশেষ করে যখন অসৎ মানুষটি মন্দলোকদের যারা আল্লাহর নির্দেশ মানে না তাদের সাথে মেশে, তখন শয়তান তাঁকে কু-মন্ত্রণা দেয় ‘এত মানুষ! সবাই জাহান্নামী!! আর তুমি একা জান্নাতী?!

সঠিক কথা হল, সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও সংখ্যা লঘিষ্টতাকে মাপকাঠি না বানানো। বরং আল্লাহ ও রাসূলের কথানুযায়ী হলে সেটাই হক।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মাপকাঠি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়; সত্যানুবর্তিতা। তাই আপনি যদি একাই সত্যানুবর্তী হন, তবুও আপনিই আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত। আল্লাহ তা‘আলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন-

﴿ وَمَآ أَكۡثَرُ ٱلنَّاسِ وَلَوۡ حَرَصۡتَ بِمُؤۡمِنِينَ ١٠٣ ﴾ [ يوسف : ١٠٣ ]

‘‘আপনি যতই কামনা করেন না কেন, অধিকাংশ লোকই ঈমান আনবার নয়।’’ (অর্থাৎ কম সংখ্যক লোকই ঈমানের দৌলত পেয়ে থাকে।)

তাবেয়ী নু‘আইম ইবন হাম্মাদ রহ. বলেন, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত তাই, যা আল্লাহর আনুগত্য মোতাবেক চলে। জামা‘আত যদি পথচ্যুত হয়, তাহলে আপনার কর্তব্য, জামা‘আত পথচ্যুত হওয়ার পূর্বে পোষিত আকীদাকেই আঁকড়ে থাকা। এ ক্ষেত্রে যদি আপনি একাও হন তবুও আপনিই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত।’

নিয়্যতে সন্দেহ সৃষ্টি শয়তানের প্রবেশ পথের অন্যতম। তাই নিয়্যাতে সন্দেহ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লোকদেরকে সে বলে, আপনি রিয়াকার (লোক দেখানো ভাবনা পোষণকারী) আপনি প্রদর্শন প্রিয়, আপনি কপট। আপনি নেক আমল বা সৎকর্ম করেছেন মানুষের কারণে। ব্যক্তিকে আমল পরিত্যাগী করাতে সে এসব বলে কুমন্ত্রণা দিয়ে থাকে।

এর একটা উদাহরণ :

এক ব্যক্তি সাদকা করার ইচ্ছা পোষণ করল। অন্য এক ব্যক্তি তাকে দেখে ফেললো। তখন সে মনে মনে বললো, যদি সে আমাকে দেখে তাহলে রিয়াকার ভাববে। তারচে’ সাদকা না করাই ভাল। (এভাবে নিয়্যাতে সন্দেহ সৃষ্টি করে নেক আমল পরিত্যাগ করায় শয়তান।)

নিয়্যতের ক্ষেত্রে আমরা আত্ম-সমালোচনা ও আত্ম যাচাইয়ের প্রতি আদিষ্ট, যাতে নিয়্যতটা একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়।

বিখ্যাত তাবেয়ী ইবরাহীম ইবন আদহাম রহ. বলেন, ‘আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ত্রিশজন সাহাবীকে পেয়েছি প্রত্যেকেই নিজের ব্যাপারে ইখলাসহীন আমলের আশঙ্কা করেছেন।

আত্মযাচাই ও আত্নসমালোচনা কাম্য। তবে এমন আত্মযাচাই নয়, যা আপনাকে আমল পরিত্যাগকারীতে পরিণত করবে। বরং আমলের মান ও পরিমাণ বৃদ্ধি করবে এমন আত্মযাচাই ও আত্ম-সমালোচনাই কাম্য।

হারেস ইবন কায়েস রা. বলেন- ‘‘আপনি নামাযরত এ অবস্থায় শয়তান এসে যদি আপনাকে বলে ‘তুমি তো মানুষকে দেখানোর জন্য নামায পড়ছো’ তাহলে নামায আরো দীর্ঘ করুন।’’