hadith book logo

সৎ মানুষের হৃদয়ে শয়তান প্রবেশের ধরণ ও প্রকৃতি

লেখকঃ ডক্টর আব্দুল্লাহ আল-খাতির • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩

আট: ভীতি প্রদর্শন

মানুষকে দু’পন্থায় শয়তান ভীতি প্রদর্শন করে।

ভীতি প্রদর্শনের প্রথম পন্থাঃ

শয়তানের বন্ধুদের ভয়

শয়তান লোকদেরকে তার সেনা ও সাঙ্গপাঙ্গ, পাপী-ফাসিকদের সম্পর্কে ভয় দেখিয়ে বলে, এদের থেকে সাবধান! এরা সুবিপুল শক্তির অধিকারী। তখন ভয়ে লোকেরা আল্লাহর আনুগত্য পরিত্যাগ করে আমল ছেড়ে দেয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-

﴿ إِنَّمَا ذَٰلِكُمُ ٱلشَّيۡطَٰنُ يُخَوِّفُ أَوۡلِيَآءَهُۥ فَلَا تَخَافُوهُمۡ وَخَافُونِ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ ١٧٥ ﴾ [ ال عمران : ١٧٥ ]

‘‘শয়তানই তোমাদের তার বন্ধুদের ভয় দেখায়। সুতরাং যদি তোমরা মু’মিন হও, তবে তোমরা তাদেরকে ভয় করো না। কেবলমাত্র আমাকেই ভয় কর।’’ (সূরা আলে ইমরান : ১৭৫)

অর্থাৎ শয়তান আপনাদেরকে তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের ভয় দেখায়। কাফের, মুশরিক, মুনাফিক শক্তির ভয় দেখিয়ে আপনাকে দুর্বল করতে চায়।

ভীতি প্রদর্শনের দ্বিতীয় পন্থাঃ

দারিদ্রের ভয়

আল্লাহ তা‘আলা বলেন-

﴿ ٱلشَّيۡطَٰنُ يَعِدُكُمُ ٱلۡفَقۡرَ وَيَأۡمُرُكُم بِٱلۡفَحۡشَآءِۖ ﴾ [ البقرة : ٢٦٨ ]

‘‘শয়তান তোমাদেরকে দারিদ্রের ভয় দেখায় এবং কার্পণ্যের নির্দেশ দেয়।’’ [সূরা আল-বাকারাহ: ২৬৮]

শয়তান লোকদেরকে বলে, এ চাকরিটা ছেড়ে দিলে আরেকটা চাকরি কোথায় পাবে?

তুমি তো নিতন্ত দরিদ্র হয়ে যাবে। তখন লোকেরা দারিদ্রের ভয় করে এবং হারামে লিপ্ত হয়। যে ব্যক্তি মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও মদের কেনা-বেচা, সূদী লেন-দেন, মুসলিমদের শত্রুদের উৎপাদিত পণ্যের ব্যবসা ও বিপনন বৈধ মনে করে এটা তার উদাহরণ। আল্লাহর আশ্বাসে আস্থা না রেখে মুক্তির আশা নিয়ে রিযকের জন্য আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হওয়ায় শয়তান তাকে নিয়ে হাসে। কারণ, রিযকের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা স্বয়ং বলেন-

﴿وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجۡعَل لَّهُۥ مَخۡرَجٗا ٢ وَيَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَيۡثُ لَا يَحۡتَسِبُۚ﴾ [ الطلاق : ٢، ٣ ]

‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহ তার পথ করে দেবেন এবং তাকে তার ধারণাতীত উৎস হতে রিযক দান করবেন।’’ (সূরা আত-তালাক : ২-৩)

আমরা সুদ গৃহীতাকে দারিদ্র শঙ্কায় শঙ্কিত হতে দেখি। সে বলে, কীভাবে বাঁচব? মানুষ তো স্বচ্ছল হয়ে গেল। আর আমি আজো নিঃস্ব!

কখনও শয়তান বাতিলকে ইসলামের দাওয়াতকর্মীদের সামনে সজ্জিত করে উপস্থাপন করে। তখন সে যুক্তির আশ্রয় নিয়ে হারামকে হালাল করে।

‘দাওয়াতের স্বার্থেই তো মিথ্যা বলা’ এ যুক্তিতে সে দাওয়াতকর্মীকে মিথ্যায় লিপ্ত করে।

‘দাওয়াতের স্বার্থই এ বিষয়ের দাবী করে’ - এ ব্যাখ্যা করে শয়তান বাতিলকে এমনভাবে শোভিত করে, যেন মনে হয় সেটাই প্রকৃত হক।

কখনও মুসলিম সমাজে আমরা এ মুসলিম কর্তৃক অপর মুসলিমকে, এক দাওয়াতকর্মী কর্তৃক অপর দাওয়াতকর্মীকে, এক আলেম কর্তৃক আরেকজন আলেমকে কোনঠাসা করতে দেখি, অবমুল্যায়ন করতে দেখি। একজন অন্যজনকে কোনঠাসা করছে, দোষ চর্চা করছে। একজন কাফের, ফাসিক, ফাজিরের সাথে যতনা মন্দ আচরণ করা উচিত, তার চেয়ে অধিক মন্দ আচরণ করে তারা একে অপরের সাথে।