hadith book logo

সালাত বর্জনকারীর বিধান

লেখকঃ মুহাম্মদ ইবন সালেহ আল-‘উসাইমীন • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

দ্বিতীয়ত: মুরতাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য পরকালীন বিধানসমূহ:

১. ফিরিশতাগণ কর্তৃক তাকে ধমকের সুরে তিরস্কার ও আঘাত করা বরং তারা তাদের মুখমণ্ডলে ও পিঠে আঘাত করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:

﴿وَلَوۡ تَرَىٰٓ إِذۡ يَتَوَفَّى ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ يَضۡرِبُونَ وُجُوهَهُمۡ وَأَدۡبَٰرَهُمۡ وَذُوقُواْ عَذَابَ ٱلۡحَرِيقِ ٥٠ ذَٰلِكَ بِمَا قَدَّمَتۡ أَيۡدِيكُمۡ وَأَنَّ ٱللَّهَ لَيۡسَ بِظَلَّٰمٖ لِّلۡعَبِيدِ ٥١﴾ [ الانفال : ٥٠، ٥١ ]

“আর আপনি যদি দেখতে পেতেন যখন ফিরিশতাগণ যারা কুফুরী করেছে তাদের প্রাণ হরণ করছিল, তাদের মুখমণ্ডলে ও পিঠে আঘাত করছিল, আর বলছিল তোমরা দহনযন্ত্রণা ভোগ কর। এটা তো সে কারণে যা তোমাদের হাত আগে পাঠিয়েছিল, আর আল্লাহ তো তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যাচারী নন।” [সূরা আল-আনফাল আয়াত: ৫০-৫১]

২. তার হাশর হবে কাফির ও মুশরিকদের সাথে। কেননা সে তাদেরই একজন। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:

﴿ٱحۡشُرُواْ ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ وَأَزۡوَٰجَهُمۡ وَمَا كَانُواْ يَعۡبُدُونَ ٢٢ مِن دُونِ ٱللَّهِ فَٱهۡدُوهُمۡ إِلَىٰ صِرَٰطِ ٱلۡجَحِيمِ ٢٣﴾ [ الصافات : ٢٢، ٢٣ ]

“(ফিরিশতাদেরকে বলা হবে) ‘একত্র কর যালিম ও তাদের সহচরদেরকে এবং তাদেরকে যাদের ‘ইবাদাত করত তারা আল্লাহর পরিবর্তে। আর তাদেরকে পরিচালিত কর জাহান্নামের পথে।” [সূরা আস-সাফ্ফাত আয়াত: ২২-২৩] আর আয়াতে উল্লিখিত أزواج শব্দট زوج শব্দের বহুবচন, আর তা হলো الصنف (শ্রেণী বা প্রকার) অর্থাৎ যারা যালিম এবং তাদের শ্রেণীভুক্ত কাফির ও যালিমদেরকে একসাথে হাশরের ময়দানে একত্রিত করা হবে।

৩. তারা জাহান্নামে স্থায়ীভাবে চিরদিন অবস্থান করবে; কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:

﴿إِنَّ ٱللَّهَ لَعَنَ ٱلۡكَٰفِرِينَ وَأَعَدَّ لَهُمۡ سَعِيرًا ٦٤ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدٗاۖ لَّا يَجِدُونَ وَلِيّٗا وَلَا نَصِيرٗا ٦٥ يَوۡمَ تُقَلَّبُ وُجُوهُهُمۡ فِي ٱلنَّارِ يَقُولُونَ يَٰلَيۡتَنَآ أَطَعۡنَا ٱللَّهَ وَأَطَعۡنَا ٱلرَّسُولَا۠ ٦٦﴾ [ الاحزاب : ٦٤، ٦٦ ]

“নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদেরকে করেছেন অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন জ্বলন্ত আগুন। সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে এবং তারা কোন অভিভাবক পাবে না কোন সাহায্যকারীও নয়। যেদিন তাদের মুখমণ্ডল আগুনে উলট-পালট করা হবে সেদিন তারা বলবে হায়! আমরা যদি আল্লাহকে মানতাম আর রাসূলকে মানতাম!” [সূরা আল-আহযাব আয়াত: ৬৪-৬৬]

আর এখানেই সমাপ্ত হয়ে গেল এই বিরাট মাসআলার ব্যাপারে আমি যা বলতে চেয়েছিলাম যে সমস্যায় বহু লোকজন জর্জরিত।

* আর যে ব্যক্তি তাওবা করতে চায় তার জন্য তাওবার দরজা খোলা রয়েছে। সুতরাং হে মুসলিম ভাই! অতীতের পাপের প্রতি লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে একনিষ্ঠতার সাথে আল্লাহ তা‘আলার নিকট তাওবা করুন এবং দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন যে আমি আর পাপের কাজে যাব না এবং খুব বেশি বেশি সৎ কাজ করব। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:

﴿إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ عَمَلٗا صَٰلِحٗا فَأُوْلَٰٓئِكَ يُبَدِّلُ ٱللَّهُ سَيِّ‍َٔاتِهِمۡ حَسَنَٰتٖۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورٗا رَّحِيمٗا ٧٠ وَمَن تَابَ وَعَمِلَ صَٰلِحٗا فَإِنَّهُۥ يَتُوبُ إِلَى ٱللَّهِ مَتَابٗا ٧١﴾ [ الفرقان : ٦٩، ٧٠ ]

“তবে যে তাওবা করে ঈমান আনে ও সৎকাজ করে ফলে আল্লাহ তাদের গুণাহসমূহ নেক দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। আর যে তাওবা করে ও সৎকাজ করে সে তো সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর অভিমুখী হয়।” [সূরা আল-ফুরকান আয়াত: ৭০-৭১]

মহান আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদেরকে স্বীয় কাজে যোগ্যতা দান করেন আর আমাদের সকলকে তাঁর সঠিক ও সোজা পথ প্রদর্শন করেন, তাদের পথ যাদের প্রতি আল্লাহ নি‘আমত দান করেছেন। তারা হচ্ছেন: নবীগণ এবং সিদ্দীক (সত্যবাদী) শহীদ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ, যারা অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্ট তাদের পথে নয়।

আল্লাহ তা‘আলার এক নগণ্য বান্দার কলমে লেখা:

মুহাম্মদ সালেহ আল-‘উসাইমীন

২৩/০২/১৪০৭ হি.