hadith book logo

হাদিস সম্ভার

১৮. শাসন অধ্যায়

جمع الحديث

১৮/১ পরিচ্ছেদঃ

আল্লাহর বিধান দ্বারা শাসন

১৭৮৭
হাদিস সম্ভার
সহিহ হাদিস
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: قال رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا لَمْ تَحْكُمْ أَئِمَّتُهُمْ بِكِتَابِ اللهِ وَيَتَخَيَّرُوا مِمَّا أَنْزَلَ اللهُ إِلاَّ جَعَلَ اللهُ بَأْسَهُمْ بَيْنَهُمْ
আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “--এবং যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের নেতারা (শাসক গোষ্ঠী ও ইমামগণ) আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী বিধান (ও ফায়সালা) না দেয় এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা বরণ না করে, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তাদের মাঝে গৃহদ্বন্দ্ব বহাল রাখেন।” (ইবনে মাজাহ ৪০১৯, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ১০৫৫০, সহীহ তারগীব ৭৫৯ নং)
১৮/২ পরিচ্ছেদঃ

পদ চাওয়া নিষেধ এবং রাষ্ট্রীয় পদ পরিহার করাই উত্তম; যদি সেই একমাত্র তার যোগ্য অথবা তার নিযুক্ত হওয়া জরুরী না হয়

মহান আল্লাহ বলেন, تِلْكَ الدَّارُ الآخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِينَ لا يُريدُونَ عُلوّاً في الأَرْضِ وَلاَ فَسَاداً وَالعَاقِبَةُ للمُتَّقِينَ অর্থাৎ, এ পরলোকের আবাস; যা আমি নির্ধারিত করি তাদেরই জন্য যারা এ পৃথিবীতে উদ্ধত হতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না। সাবধানীদের জন্য শুভ পরিণাম। (সূরা ক্বাসাস ৮৩ আয়াত)
১৭৮৯
হাদিস সম্ভার
সহিহ হাদিস
وَ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَا أَبَا ذَرٍّ إنِّي أرَاكَ ضَعِيفاً وَإنِّي أُحِبُّ لَكَ مَا أُحِبُّ لِنَفْسِي لاَ تَأَمَّرَنَّ عَلَى اثْنَيْنِ وَلاَ تَوَلَّيَنَّ مَالَ يَتِيمٍرواه مسلم
আবূ যার্র (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
একদা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, “হে আবূ যার্র! আমি তোমাকে দুর্বল দেখছি এবং আমি তোমার জন্য তাই ভালবাসি, যা আমি নিজের জন্য ভালবাসি। (সুতরাং) তুমি অবশ্যই দু’জনের নেতা হয়ো না এবং এতীমের মালের তত্ত্বাবধায়ক হয়ো না।” (মুসলিম ৪৮২৪ নং)
১৭৯১
হাদিস সম্ভার
সহিহ হাদিস
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ أنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَإنَّكُمْ سَتَحْرِصُونَ عَلَى الإمَارَةِ وَسَتَكونُ نَدَامَةً يَوْمَ القِيَامَةِرواه البخاري
আবূ হুরাইরা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা অতি সত্বর নেতৃত্বের লোভ করবে। (কিন্তু স্মরণ রাখো) এটি কিয়ামতের দিন অনুতাপের কারণ হবে। সুতরাং তা কত (ইহলোকে) উৎকৃষ্ট ও (পরলোকে) নিকৃষ্ট বিষয়!” (বুখারী ৭১৪৮ নং, নাসাঈ প্রভৃতি)
১৭৯০
হাদিস সম্ভার
সহিহ হাদিস
وَعَنهُ قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ ألا تَسْتَعْمِلُني ؟ فَضَرَبَ بِيَدِهِ عَلَى مَنْكِبِي ثُمَّ قَالَيَا أَبَا ذَرٍّ إنَّكَ ضَعِيفٌ وَإِنَّهَا أَمَانَةٌ وَإنَّهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ خِزْيٌ وَنَدَامَةٌ إِلاَّ مَنْ أخَذَهَا بِحَقِّهَا وَأدَّى الَّذِي عَلَيْهِ فِيهَارواه مسلم
সাবেক রাবীথেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহ রসূল! আপনি আমাকে (কোন স্থানের সরকারী) কর্মচারী কেন নিযুক্ত করছেন না?’ তিনি নিজ হাত আমার কাঁধের উপর মেরে বললেন, “হে আবূ যার্র! তুমি দুর্বল এবং (এ পদ) আমানত ও এটা কিয়ামতের দিন অপমান ও অনুতাপের কারণ হবে। কিন্তু যে ব্যক্তি তা হকের সাথে (যোগ্যতার ভিত্তিতে) গ্রহণ করল এবং নিজ দায়িত্ব (যথাযথভাবে) পালন করল (তার জন্য এ পদ লজ্জা ও অনুতাপের কারণ নয়)।” (মুসলিম ৪৮২৩ নং)
১৭৮৮
হাদিস সম্ভার
সহিহ হাদিস
وَعَن أَبي سَعِيدٍ عَبدِ الرَّحمَانِ بنِ سَمُرَةَ قَالَ : قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَا عَبْدَ الرَّحمَانِ بنَ سَمُرَةَ لاَ تَسْأَلِ الإمَارَةَ فَإِنّكَ إِنْ أُعْطِيتَهَا عَنْ غَيْرِ مَسْألَةٍ أُعِنْتَ عَلَيْهَا وَإنْ أُعْطِيتَهَا عَنْ مَسْألَةٍ وُكِلْتَ إِلَيْهَا وَإِذَا حَلَفْتَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأيْتَ غَيْرَهَا خَيْراً مِنْهَا فَأتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ وَكَفِّرْ عَنْ يَمِينكَ متفقٌ عَلَيْهِ
আবূ সাঈদ আব্দুর রহমান ইবনে সামুরাহ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, “হে আব্দুর রহমান বিন সামুরাহ! তুমি সরকারী পদ চেয়ো না। কারণ তুমি যদি তা না চেয়ে পাও, তাহলে তাতে তোমাকে সাহায্য করা হবে। আর যদি তুমি তা চাওয়ার কারণে পাও, তাহলে তা তোমাকে সঁপে দেওয়া হবে। (এবং তাতে আল্লাহর সাহায্য পাবে না।) আর যখন তুমি কোন কথার উপর কসম খাবে, অতঃপর তা থেকে অন্য কাজ উত্তম মনে করবে, তখন উত্তম কাজটা কর এবং তোমার কসমের কাফ্ফারা দিয়ে দাও।” (বুখারী ৬৭২২, ৭১৪৬, মুসলিম ৪৩৭০ নং)
১৮/৩ পরিচ্ছেদঃ

যে ব্যক্তি নেতা, বিচারক অথবা অন্যান্য সরকারী পদ চাইবে অথবা পাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করবে অথবা তার জন্য ইঙ্গিত করবে তাকে পদ দেওয়া নিষেধ

১৭৯২
হাদিস সম্ভার
সহিহ হাদিস
عَن أَبي مُوسَى الأَشعَرِيِّ قَالَ : دَخَلْتُ عَلَى النَّبيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أنَا وَرَجُلاَنِ مِنْ بَنِي عَمِّي فَقَالَ أحَدُهُمَا : يَا رَسُولَ اللهِ أمِّرْنَا عَلَى بَعْضِ مَا وَلاَّكَ اللهُ عز وجل - وَقَالَ الآخَرُ مِثلَ ذَلِكَ فَقَالَإنَّا وَاللهِ لاَ نُوَلِّي هَذَا العَمَلَ أحَداً سَألَهُ، أَوْ أحَداً حَرَصَ عَلَيْهِ متفقٌ عَلَيْهِ
আবূ মূসা আশআরী (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
আমি এবং আমার চাচাতো দু’ভাই নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট গেলাম। সে দু’জনের মধ্যে একজন বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! মহান আল্লাহ আপনাকে যে সব শাসন-ক্ষমতা দান করেছেন, তার মধ্যে কিছু (এলাকার) শাসনভার আমাকে প্রদান করুন।’ দ্বিতীয়জনও একই কথা বলল। উত্তরে তিনি বললেন, “আল্লাহর কসম! যে সরকারী পদ চেয়ে নেয় অথবা তার প্রতি লোভ রাখে, তাকে অবশ্যই আমরা এ কাজ দিই না।” (বুখারী ৭১৪৯, মুসলিম ৪৮২১ নং)
১৮/৪ পরিচ্ছেদঃ

ন্যায়-বিচার ও ন্যায়পরায়ণ শাসকের মাহাত্ম্য

আল্লাহ তাআলা বলেন, إنَّ اللهَ يَأمُرُ بِالعَدْلِ وَالإِحْسَانِ অর্থাৎ, নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা ও সদাচরণের নির্দেশ দেন---। (সূরা নাহল ৯০ আয়াত) তিনি অন্য জায়গায় বলেন, وَأَقْسِطُوا إنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ অর্থাৎ, সুবিচার কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালবাসেন। (সূরা হুজুরাত ৩৮১ আয়াত)