‘আবদুল কায়স এক ব্যক্তি যার সন্তানদের বানী ‘আবদুল কায়স বলা হয়, যা আরব সম্প্রদায়ের ‘রাবী‘আহ্’ নামীয় একটা বড় গোত্র। উক্ত গোত্রের ১৪ জন ব্যক্তি সওয়ার হয়ে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আগমন করেন। তাদের নেতা ছিলেন “আশাজ্জ আল আসরী” তার সঙ্গে ছিলেন মাযিদাহ বিন মালিক মুহারিবী, ‘উবাইদাহ্ বিন হাম্মাম মুহারিবী। তাদের আগমনের কারণঃ “মুনকায বিন হাইয়্যান” এক ব্যক্তি ব্যবসার জন্য মাদীনায় বেশী আসা যাওয়া করতেন। অজ্ঞতার যুগে সে ব্যক্তি খেজুর ও চাদর নিয়ে মাদীনার এক বস্তি ‘হাজার’' সেখানে আগমন করেন। আর সে সময় আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কাহ্ থেকে মাদীনাহ্ হিজরত করে এসে গেছেন। কোন এক সময় মুনকায রাস্তায় বসে আছেন এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাচ্ছিলেন, তৎক্ষণাৎ মুনকায তোমাদের অবস্থা কেমন রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখে তাদের বড় বড় নেতাদের নাম উল্লেখ শুনে আশ্চর্য হয়ে তখনই সে কালিমা পড়ে মুসলিম হয়ে যায়। আর দু’একটি শিক্ষা লাভ করেন।
অতঃপর মুনকায হাজার (বস্তি) যেতে লাগলেন, সে অবস্থায় ‘আবদুল কায়স গোত্রের নামে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হাতে একটা পত্র দিয়ে পাঠালেন কিন্তু মুনকায তা গোপন রাখলেন, পত্র পৌঁছাননি।
একবার মুনকাযের স্ত্রী যিনি মুনযির বিন আয়যের কন্যা, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুনযিরের নাম আশাজ রাখেন, তার স্বামীর কথা বাবা আশাজকে বলেছেন, যখন সে মাদীনাহ্ থেকে এসেছে তখন থেকে তাঁর পরিবর্তন দেখতে পায়। কোমর ঝোকায়, মাথা মাটিতে লাগায়। এ কথাগুলো শুনে যখন জামাই শ্বশুড় এক জায়গায় হয়ে অনেক কথাবার্তা হলো, তখন আশাজের অন্তরে ইসলামের ভাব দেখা গেল। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুনকাযের হাতে সেই প্রেরিত পত্র নিজ সম্প্রদায়ের নিকট আনেন। পত্র পাঠে সকলের মন ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়।
এখন তাদের একটি দল আশাজের নেতৃত্বে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আগমনের জন্য রওয়ানা হয়ে মাদীনার নিকটবর্তী হয়েছে। সে মতে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সহাবায়ি কিরামগণকে লক্ষ্য করে বলেছেন, তোমাদের নিকট পূর্ব দেশের মধ্য হতে ‘আবদুল কায়সের উত্তম ব্যক্তিগণ আসছে তার মধ্য আশাজও আছে। তারা ইসলাম গ্রহণ না করে ফিরে যাবে না।
[২২] নিষিদ্ধ পাত্রগুলোঃ ‘হানতাম’' মাটির সবুজ পাত্র বিশেষ। ‘দুব্বা’ কদুর বোল দ্বারা প্রস্তুত পাত্র বিশেষ। ‘নাকীর’ কাঠের পাত্র বিশেষ। ‘মুযাফফাত’ তৈলাক্ত পাত্র বিশেষ। এ সকল পাত্রে তখন শরাব ব্যবহার করা হত। উক্ত পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করার উদ্দেশ্য পাত্রগুলো দেখলে শরাব পান করার কথা মনে হবে বা চুপচাপ মদ রেখে পান সম্ভাবনা থাকতে পারে, এ পাত্র নিষেধাজ্ঞা চিরদিনের জন্য নয়। সাময়িকভাবে যাতে সেটা দূর হয়ে যায়।