(১) ঐ ব্যক্তি যে ইসলামের জন্য কাফিরের সাথে জিহাদ করে মারা যাবে। সে তো দুনিয়া ও আখিরাতে এ নির্দেশাবলীর দিক দিয়ে তাকে গোসল দিতে হবে না। আর আখিরাতে সে শাহীদের দরজা পাবে।
(২) যে ব্যক্তি আখিরাতে সাওয়াবের দিক দিয়ে শাহীদ হবে সে দুনিয়ার নির্দেশাবলীতে শাহীদ হবে না। যেমন মহামারী বা পেটের অসুখে অথবা বাড়ী ধ্বসে বা নিজ মাল রক্ষা করতে গিয়ে মারা যাবে। এদের উপর হাদীসে শাহীদ বলে উল্লেখ এসেছে। কিন্তু এদের গোসল দিতে হবে এবং সালাতে জানাযাও পড়তে হবে। আখিরাতে এরা শাহীদের সাওয়াব পাবে। তবে এটা জরুরী নয় যে, প্রথম প্রকারের শাহীদদের সমতুল্য হবে।
(৩) ঐ ব্যক্তি যাকে দুনিয়ার নির্দেশাবলীর দিক দিয়ে শাহীদ বলা হবে। তবে শাহাদাতের পুরাপুরি সাওয়াব পাবে না। যেমন ঐ ব্যক্তি যে গনীমাতের মাল খিয়ানাত করেছে। এ ধরনের লোকের সম্পর্কে বলা হয়েছে শাহীদ নয়। তবে যেহেতু কাফিরদের সঙ্গে যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেছে। দুনিয়ার নির্দেশাবলীর দিক দিয়ে শাহীদের মত তাকে গোসল দিতে হবে না। জানাযার সলাত আদায় করবে না। আখিরাতে সে পূর্ণ সাওয়াব পাবে না। প্রশ্ন শাহীদকে শাহীদ কেন বলা হয়? উত্তর শাহীদকে শাহীদ এজন্য বলা হয় যে, (‘আলামে বারযাখে) তারা জীবিত আছেন এবং তাদের রূহ্ (আত্মা) জান্নাতে উপস্থিত আছে। (অবশ্য শাহীদদের সালাতে জানাযা আদায় করা ও না করা নিয়ে মতভেদ রয়েছে)
ইবনু ‘আম্মার বলেছেন : শাহীদকে এজন্য শাহীদ বলা হয়ে যে, শাহীদের জন্য মহান আল্লাহ এবং ফেরেশতাগণ শাহাদাত বা সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর কেউ কেউ বলেছেন : শাহীদের আত্মা বের হওয়ার সময় তার উচ্চ মর্যাদা দেখতে পায়। এজন্য শাহীদ বলা হয়। আরও কেউ কেউ বলেছেন : শাহীদের রক্তও তাদের জন্য সাক্ষ্য হবে। কেননা কিয়ামাদের দিন তাদের এমন অবস্থায় উঠানো হবে যে, তাদের ক্ষতস্থান হতে তাজা রক্ত প্রবাহিত হতে থাকবে। (সংক্ষিপ্ত নাবাবী)