‘উমার বললেন, আপনারা একটু অপেক্ষা করুন। আমি আপনাদের সে মহান আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যার নির্দেশে আকাশ এবং পৃথিবী যথাস্থানে অবস্থিত। আপনাদের কি জানা নেই যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমরা (নাবীগণ) কাউকে ওয়ারিস বানিয়ে যাই না, আমরা যা রেখে যাই তা হবে সদাকাহ। তখন তাঁরা বললেন, হ্যাঁ, আমরা তা জানি। এবার তিনি ‘আলী এবং ‘আব্বাস (রাঃ)- এর দিকে লক্ষ্য করে বললেন, আমি আপনাদের উভয়কেই সে মহান আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যাঁর নির্দেশে আকাশ এবং পৃথিবী যথাস্থানে অবস্থিত। আপনারা কি জানেন না যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমরা (নাবী সম্প্রদায়) কাউকে উত্তরাধিকার করে যাই না। আমরা যা রেখে যাই, তা হবে সদাকাহ। তখন তাঁরা উভয়েই বললেন, হ্যাঁ। আমরা তা জানি। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ তা’আলা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছেন, যা তাকে ছাড়া অন্য কাউকে প্রদান করেননি। তিনি বলেন, “আল্লাহ তা’আলা জনপদ বা নগরবাসীর নিকট থেকে মালে ফাই [৩৭] হিসেবে স্বীয় রসূলকে যা প্রদান করেছেন- তা আল্লাহ ও তদীয় রসূলের জন্য নির্দিষ্ট। আমার জানা নেই যে, তিনি এ পঠিত আয়াতের পূর্বেও কোন আয়াত পাঠ করছিলেন কি-না? অতঃপর ‘উমার (রাঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তো তোমাদেরকে বানী নাযীর গোত্র থেকে প্রাপ্ত সম্পদ বন্টন করে দিয়েছেন। আল্লাহর শপথ! তিনি সম্পদকে নিজের জন্যে জমা করে রেখে যাননি। আর তিনি এমনও করেননি যে, নিজে সম্পদ নিয়েছেন এবং তোমাদেরকে তা দেননি। পরিশেষে যে সম্পদ রইল তা থেকে আপন পরিবারের এক বছরের ভরণ পোষণের খরচ রেখে অবশিষ্ট সম্পদ বাইতুল মালে জমা দেন। এরপর ‘উমার (রাঃ) বললেন, আপনাদেরকে সে মহান আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যার নির্দেশে আকাশ ও পৃথিবী যথাস্থানে অবস্থিত। আপনারা কি সেসব কথা অবগত আছেন। তখন তাঁরা বলেন, হ্যাঁ, আমরা তা জানি। এরপর তিনি ‘আব্বাস এবং ‘আলী (রাঃ) উভয়কে অনুরূপ শপথ প্রদান করলেন, যেরূপ তিনি ইতোপূর্বে আগত সম্প্রদায়ের লোকদেরকে শপথ প্রদান করেছিলেন। তিনি বললেন, আপনারা উভয়ই কি এসব কথা জানেন? তখন তাঁরা উভয়েই বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) বললেন, যখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর ইনতিকাল হলো তখন আবূ বাকর (রাঃ) বললেন যে, আমিই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওয়ালী। আর আপনারা উভয়েই এসেছেন, আপনি আপনার ভাতিজা থেকে মীরাস দাবী করতে। আর আপনি এসেছেন, আপনার স্ত্রীর (ফাতিমার) পিতা থেকে মীরাস গ্রহন করতে। এরপর আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমাদের নাবীগনের সম্পত্তিতে কোন উত্তরাধিকারিত্ব নেই। আমরা যা রেখে যাই- তা হয় সদাকাহ। আপনারা উভয়েই তো তাকে মিথ্যাবাদী, অপরাধী, বিশ্বাসঘাতক এবং খিয়ানতকারী মনে করবেন। অতঃপর প্রকৃতপক্ষে নিশ্চয়ই তিনি [আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)] সত্যবাদী, পুণ্যবান, সত্তপথ প্রদর্শক এবং সত্যের অনুসারী যা আল্লাহ জানেন। অতঃপর আবূ বাকর (রাঃ) মৃত্যুবরণ করলেন। তখন আমি ওয়ালী হলাম রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ও আবূ বাকর (রাঃ)-এর। সুতরাং আপনারা উভয়েই আমাকেও তার মত মিথ্যাবাদী, পাপী, বিশ্বাসঘাতক এবং খিয়ানতকারী মনে করছেন। আল্লাহ অবগত আছেন যে, নিশ্চয়ই আমি সত্যবাদী, পুণ্যবান, সত্য পথ-প্রদর্শক এবং সত্যের অনুসারী। আমি সে সম্পদেরও ওলী ও অভিভাবক। অতঃপর আপনি এবং ইনি এসেছেন। আপনারা উভয়েই এক এবং আপনাদের দাবীও এক। সুতরাং আপনারা বলছেন যে, এসব আমাদের কাছে দিয়ে দিন।
আমি বলি- যদি আপনারা চান, তবে আমি তা আপনাদেরকে দিয়ে দেব- এ শর্তে যে, আপনারা এ সম্পদ দ্বারা সে কাজ করবেন, যা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) করতেন। অতএব আপনারা এ শর্তে আমার নিকট থেকে তা গ্রহন করেছেন। এরপর ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমার কথা কি যথার্থ? তখন উভয়েই বললেন, হ্যাঁ। ‘উমার (রাঃ) বললেন, তারপরও আপনারা দুজন আমার কাছে এসেছেন, আপনাদের মাঝে (সম্পদের) মীমাংসা করে দেয়ার জন্য। আল্লাহর কসম! আমি আপনাদের উভয়ের মাঝে এটা ছাড়া আর কোন মীমাংসা করতে পারবো না কিয়ামাত পর্যন্ত। আর যদি আপনারা সে মালের দায়িত্ব পালনে অপারগ হন, তবে তা আপনারা আমার কাছে ফেরত দিয়েছেন। (ই.ফা. ৪৪২৫, ই.সে. ৪৪২৭)
[৩৭] যুদ্ধবিহীন প্রাপ্ত সম্পদকে মালে ফাই বলে।