‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, তারপর আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে হাস্সান-এর ব্যাপারে বলতে শুনেছি যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ ও তাঁর রসূলের তরফ হতে কাফিরদের দাঁতভাঙ্গা উত্তর দিতে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত ‘রূহুল কুদুস’ অর্থাৎ-জিব্রীল (‘আঃ) সারাক্ষণ তোমাকে সহযোগিতা করতে থাকবেন।
আর তিনি [‘আয়িশা (রাঃ)] বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, হাস্সান তাদের (কাফিরদের বিরুদ্ধে) ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করে মু’মিনদের অন্তরে প্রশান্তি এনে দিলেন এবং কাফিরদের মান-সম্মানকে ভূলুণ্ঠিত করে আত্মতৃপ্তি লাভ করলেন।
হাস্সান (রাঃ) বললেন:
তুমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুর্নাম করছ,
আর আমি তাঁর পক্ষ হতে জবাব দিচ্ছি।
এর পুরস্কার প্রতিদান আল্লাহর কাছে।
তুমি দুর্নাম করছ এমন মুহাম্মাদের,
যিনি নেক লোক, সর্বশ্রেষ্ঠ পরেহযগার;
তিনি হচ্ছেন আল্লাহর রসূল,
যাঁর চরিত্র মাধুর্য অনুপম।
আমার পিতা-মাতা আমার ইয্যত-আবরু
মুহাম্মাদের সম্মানের খাতিরে উৎসর্গিত হোক।
আমি শপথ করে বলছি, কাদ্দা নামক পাহাড়ের দু’পান্তে (মুসলিম মুজাহিদ বাহিনীর) বিজয় ধূলি উড়বে
তা তোমরা দেখতে পাবে, কিংবা আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাব।
আনসারগণ পর্বত শৃঙ্গ থেকে কাঁধে ধারণ করবেন বর্শা
এবং তাঁরা থাকবেন তৃষ্ণা-কাতর জানোয়ারের মতো ওঁৎ পেতে
(অর্থাৎ- আনসারগণ শত্রু মুকাবিলায় সতত প্রস্তুত থাকেন)।
আমাদের অশ্বারোহীরা এত দ্রুতবেগে চলে যেন মুষলধারে বারি বর্ষিত হচ্ছে।
আর নারীরা তা হতে মুক্ত হওয়ার জন্যে পর্দা করে তাদের মুখমণ্ডল ঢেকে নিচ্ছে।
তোমরা যদি আমাদের (ইসলামের) বিমুখ হও,
তাহলেও ইসলামের বিজয় নিশান উড়বে
আর অন্ধকার চিরদিনের জন্য বিদূরিত হয়ে যাবে।
কিংবা তোমরা অপেক্ষায় থাকো ঐ সময়ের,
যেদিন মুসলিমদের সঙ্গে কাফিরদের মুকাবিলা হবে;
আর সেদিন আল্লাহ যাকে চান বিজয় মালা পরাবেন।
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন, আমি আমার বান্দাকে রসূল হিসেবে প্রেরণ করেছি;
আর তিনি সবসময় লোকদের সত্যের দিকে ডাকেন, যাঁর মধ্যে নেই কোন কপটতা, অস্পষ্টতা।
আল্লাহ তা‘আলা আরও ইরশাদ করেন,
আমি এমন মুজাহিদদের মদদ করি, যারা আনসার
এবং যাদের একমাত্র লক্ষ হচ্ছে শত্রু মুকাবিলা করা।
প্রত্যহ তারা শত্রু মুকাবিলায় থাকে সতত প্রস্তুত।
কক্ষনো বা গাল-মন্দ, যুদ্ধ-বিগ্রহ অথবা নিন্দাবাদ দ্বারা।
তোমাদের মাঝে এমন কারো দুঃসাহস আছে যে, আল্লাহর রসূলের বিদ্রূপ করে;
অথচ মাখলুকাত ব্যতীতও এক মহান সত্তা রয়েছেন, যিনি তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ এবং সর্বাবস্থায় তাঁর সহায়ক।
জিব্রীল(‘আঃ) আমাদের জন্য আল্লাহর তরফ হতে নির্বাচিত সম্মানিক বাণীবাহক (দূত) এবং তিনি রূহুল কুদুস (পূতঃ-পবিত্র আত্মা) যাঁর সাদৃশ্য ফেরেশ্তাকুলে দ্বিতীয় কেউ নেই। (ই.ফা. ৬১৭০, ই.সে. ৬২১৪)