hadith book logo

আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যাকাতের ভূমিকা

লেখকঃ মোঃ এনামুল হক • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬

যাকাতের গুরুত্ব

ইসলামের ৫টি স্তম্ভ বা ভিত্তির একটি যাকাত। ঈমান ও নামাযের পরেই যাকাতের স্থান। আল্লাহর কালাম আল কুরআনে যাকাতের ব্যাপারে বারবার গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আল-কুরআনের নামায কায়েমের কথা বলার সাথে সাথে অনেক স্থানে যাকাত আদায়ের প্রসঙ্গটিও এসেছে। [. আল্লামা ইবন হাজর আসকালানী, ফাতহুল বারী শরহি বুখারী, ৩য় খন্ড, পৃ. ১৭১।] আল্লাহর বাণী

﴿ وَٱلَّذِينَ هُمۡ لِلزَّكَوٰةِ فَٰعِلُونَ ﴾ [ المؤمنون :4]

অর্থাৎ যারা যাকাতদানে সক্রিয়। [. আল কুরআনুল কারীম, সূরা আল মুমিনুন, আয়াত ৪।]

যাকাত পূর্ববর্তী উম্মতের ওপরও ফরয ছিল।

স্মর্তব্য যে, যাকাত ব্যবস্থা শুধু উম্মতে মুহাম্মদী (সা.) এর উপর নয় বরং অতীতের সকল নবীদের উম্মতের ওপরও অপরিহার্য পালনীয় ও প্রচলিত ছিল। তবে সম্পদের পরিমাণ এবং ব্যয়ের খাত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ছিল। আল কুরআনুল কারীমে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে। যেমন সাইয়্যেদুনা ইবরাহীম (আ.) এবং তার বংশের নবীদের কথা উল্লেখ করার পর আল্লাহ রাববুল আলামীন বলেন:

﴿وَجَعَلۡنَٰهُمۡ أَئِمَّةٗ يَهۡدُونَ بِأَمۡرِنَا وَأَوۡحَيۡنَآ إِلَيۡهِمۡ فِعۡلَ ٱلۡخَيۡرَٰتِ وَإِقَامَ ٱلصَّلَوٰةِ وَإِيتَآءَ ٱلزَّكَوٰةِ﴾ [ الأنبياء :73]

এবং তাদেরকে করেছিলাম নেতা। তারা আমার নির্দেশ অনুসারে মানুষকে পথ প্রদর্শন করতো। তাদেরকে ওহী প্রেরণ করেছিলাম সৎকর্ম করতে, সালাত কায়েম করতে এবং যাকাত প্রদান করতে। [. আল কুরআন, সূরা আল আম্বিয়া: ৭৩।]

ইসমাঈল (আ) সম্পর্কে বলা হয়েছে

﴿وَكَانَ يَأۡمُرُ أَهۡلَهُۥ بِٱلصَّلَوٰةِ وَٱلزَّكَوٰةِ﴾ [ مريم :55]

সে তার পরিজনর্বগকে সালাত ও যাকাতের নির্দেশ দিত। [. আল কুরআন, সূরা মারয়াম: ৫৫।]

মূসা (আ) এর প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন,

﴿وَرَحۡمَتِي وَسِعَتۡ كُلَّ شَيۡءٖۚ فَسَأَكۡتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ وَيُؤۡتُونَ ٱلزَّكَوٰة﴾ [ الأعراف :156]

َ আর আমি আমার দয়া তা-তো প্রত্যেক বস্তুতে ব্যপ্ত। সুতরাং আমি তা তাদের জন্য নির্ধারিত করব, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, যাকাত দেয় ও আমার নিদর্শনে বিশ্বাস করে। [. আল কুরআন, সূরা আল- আরাফ:১৫৬।]

ঈসা (আ.) এর সময়কার অবস্থা বর্ণনায় রাববুল আলামীন,

﴿وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيۡنَ مَا كُنتُ وَأَوۡصَٰنِي بِٱلصَّلَوٰةِ وَٱلزَّكَوٰةِ مَا دُمۡتُ حَيّٗا﴾ [ مريم :31].

যেখানেই আমি থাকি না কেন তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি ততোদিন সালাত ও যাকাত আদায় করতে। [. আল কুরআন, সূরা মারয়াম: ৩১।]

মোটকথা, সে প্রাচীন যামানা থেকেই সকল নবী-রাসূলদের উম্মতের ওপর নামায ও যাকাত ফরয হিসেবে পালনীয় ছিলো। কোন নবীর সময়কালেই দ্বীন ইসলাম দুটো ফরয থেকে মুক্ত ছিল না। তবে উম্মতে মুসলিমার বর্তমান পর্যায়ে ধনীদের সম্পদ পুঙ্খানুপুঙ্খরুপে হিসেব করত: প্রতিবছর যাকাত আদায় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। [. আব্দুল খালেক, অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় যাকাত: ইসলামে যাকাত ব্যবস্থা (ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২০০৩ ইং) পৃ. ৬৮।] যাকাত দরিদ্র ও অভাবগ্রস্থদের মধ্যে আল্লাহ নির্ধারিত অবশ্য কর্তব্য ও বাধ্যতামুলক প্রদেয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।