hadith book logo

আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যাকাতের ভূমিকা

লেখকঃ মোঃ এনামুল হক • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

যাকাতের ব্যাপারে খুলাফায়ে রাশেদীন ও ইসলামী চিন্তাবিদদের অভিমত

যাকাতের ফরযিয়্যাত বিষয়ে ইসলামের সোনালী যুগের মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ (সা.) এর সান্নিধ্যে ধন্য সাহাবায়ে কিরাম বিশেষ করে খুলাফায়ে কিরামগণ গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছেন। পাশাপাশি পরবর্তীকালীন ইসলামী চিন্তাবিদগণ তাদের অভিমত ব্যক্ত করেছেন। যেমন: হযরত আবু বকর (রা) বলেন, ‘যারা যাকাত দিতে ছল চাতুরীর আশ্রয় নেবে আমি তাদের কাছ থেকে যাকাত এবং সম্পদের অর্ধেক আদায় করবো।’ ওমর (রা.) বলেন, ‘‘আমি যদি আগে বুঝতে পারতাম তাহলে বিত্তশালীদের অতিরিক্ত সম্পদ গরীব ও মুহাজিরদের মাঝে ভাগ করে দিতাম।’’ [. মোহাল্লাহ ইবন হাজম, উদ্ধৃত।]

আলী (রা.) বলেন, ‘‘অভাবগ্রস্থদের অভাব দূরীকরণে বিত্তশালীদের ধন-সম্পদের ওপর অনেক দায়িত্ব বর্তায়। যদি ক্ষধার্ত ও নাঙ্গা মানুষ থাকে তাহলে বুঝতে হবে যে সম্পদশালীরা তাদের দায়িত্ব পালন করছে না।’’ [. Mirza Mohammad Hussain, Islam and socialism.]

আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) বলেন, ‘‘তোমাদের সম্পত্তিতে যাকাত এবং এর অতিরিক্ত আরো দাবি আছে।’’

ইমাম কুরতুবী লিখেছেন, ‘‘মুসলিম জনসমষ্টির ওপর বিপদ বা অভাব দেখা দিলে যাকাত দেয়া এবং অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা ধনী লোকদের জন্য ওয়াজিব।’’ [. ইমাম কুরতুবী, তাফসীর কুরতবী।]

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা বলেন, ‘বুভুক্ষকে খাবার খাওয়ানো, বস্ত্রহীনকে পরিধেয় দেওয়া ফরযে কিফায়া হিসেবে জরুরী হয়ে পড়ে।’’ [. ইবন তাইমিয়া, মাজমূ‘উল ফতোয়া।] আল্লামা ইউসুফ আল কারযাভী বলেন, ‘‘যাকাত ব্যবস্থার মাধ্যমে সব অভাবগ্রস্থ ও দুদর্শাগ্রস্থ মানুষের অভাব দূর করা ও অর্থনৈতিকভাবে পূর্ণবাসন করা সম্ভব। যাকাত অভাবগ্রস্থকে পর্যাপ্ত পরিমাণে দিতে হবে যাতে সে আর অভাবগ্রস্থ না থাকে।’’ [. আল্লামা ইউসুফ আল কারযাভী, ফিকহুত যাকাত, ইসলামের যাকাত বিধান, অনুবাদ: মাওলানা আব্দুর রহীম, (ই.ফা. ২য় প্রকাশ ২০০৮), ২য় খন্ড।]

মূলত যাকাত ব্যবস্থার দ্বারা ধনীদের সম্পদে গরীবদের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা দারিদ্রমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন। যাকাত দুস্থ গরীবদের প্রতি ধনীদের কোন দয়া বা অনুগ্রহ নয়, বরং অধিকার বা হক, এটাই প্রকৃত সত্য ও শাশ্বত কথা।