hadith book logo

রমজান ও পরবর্তী সময়ে করণীয়

লেখকঃ আবুল কালাম আজাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১

রমজানের শেষ দশকের ফজিলত

আল্লাহ তাআলা শেষ নবী মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মতকে কিছু উত্তম মৌসুম বা সময়ের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, এর দ্বারা বান্দার মন-প্রাণ আল্লাহর দিকে ধাবিত হয়, ফলে সে নেক আমল করতে আগ্রহী হয়।এমন উত্তম মৌসুম হচ্ছে রমজান মাসের শেষ দশক। এ দিনগুলোতে বান্দা ইচ্ছা করলে তার চেষ্টার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করে নিতে পারে। আর সেটা সম্ভব হবে বেশি বেশি নেক আমল দ্বারা, যেমনটি করতেন আমাদের নবী মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। উম্মুল মোমিনীন আয়েশা (রা.)থেকে বর্ণিত :—

كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يجتهد في العشر الأواخر ما لا يجتهد في غيره . رواه مسلم

রমজান মাসের শেষ দশকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত বেশি এবাদত করেছেন যা অন্য সময়ে করেননি। মুসলিম। আয়েশা (রা.) আরো বর্ণিত—

أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يجتهد بالعمل الصالح فيها أكثر من غيرها ( صحيح مسلم )

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশকে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি করে আমলে সালেহ করতেন। অর্থাৎ বেশি বেশি করে কোরআন তিলাওয়াত, নামাজ, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে রাত জাগতেন। তারপর সেহরি খেতেন। অন্য আরেকটি হাদিসে বর্ণিত: আয়েশা রা. বলেন :—

أنه صلى الله عليه وسلم كان إذا دخل العشر، وأحيا الليل، وأيقظ أهله، وجد و شد المئزر . رواه البخاري ومسلم



রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশকে রাত জেগে এবাদত করতেন এবং পরিবারবর্গকেও জাগিয়ে নিতেন। এবং এবাদতে পূর্ণ রূপে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। বোখারি, মুসলিম

রমজানের শেষ দশকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতেকাফ করতেন এবং এ এতেকাফের জন্য মসজিদের নির্জন স্থান বেছে নিয়ে ল্লাহর নৈকট্য হাসিলের চেষ্টা করতেন। এমনকি দাওয়াত, তালিম ও জিহাদের মত গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বে ও এতেকাফ করতেন। ইবনে উমর রা.-এর হাদিস তা প্রমাণ করে। তিনি বলেন:—

كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعتكف العشر الأواخر من رمضان . رواه مسلم

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন। মুসলিম।

এ ছাড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদকাতুল ফিতর আদায় করতে আদেশ করতেন।