hadith book logo

হজ্জের মর্মার্থ ও শিক্ষা

লেখকঃ ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২

ভূমিকা

আল্লাহর নৈকট্য ও তাঁর সাথে সম্পর্কের গভীরতা তাকওয়া ও ইবাদাতের চেতনায় উদ্বুদ্ধ মুমিনের অমূল্য সম্পদ। আর হজ্জ সে তাকওয়া ও ইবাদাত চর্চার এক রূপময় কর্মশালা এবং শির্ক, কুফর ও বিদ‘আত মুক্ত হয়ে ঈমানের অনুপম মাহত্ম্য অর্জনের এক সমৃদ্ধ পাঠশালা। হজ্জ নামক এ পাঠশালাতেই আল্লাহর সাথে গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে তাঁর প্রিয় বান্দাদের সম্পর্ক, আনুগত্যের নানামুখী সুষমায় সিক্ত হয় তাদের মন, আল্লাহর সামনে দীনতা হীনতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে ঔজ্জ্বল্য পায় তাদের হৃদয়।

হজ্জের মধ্যে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়া ও আখিরাতের নানাবিধ কল্যাণের বিপুল সমারোহ ঘটিয়েছেন বলেই সে সব কল্যাণের অর্জনকে তিনি হজ্জের লক্ষ্যমাত্রা ও মূলমর্ম হিসাবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি কুরআনে ঘোষণা করেছেন,

﴿ وَأَذِّن فِي ٱلنَّاسِ بِٱلۡحَجِّ يَأۡتُوكَ رِجَالٗا وَعَلَىٰ كُلِّ ضَامِرٖ يَأۡتِينَ مِن كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٖ ٢٧ لِّيَشۡهَدُواْ مَنَٰفِعَ لَهُمۡ ﴾ [ الحج : ٢٧، ٢٨ ]

‘‘আর তুমি মানুষের মধ্যে হজ্জের ঘোষণা দাও, তারা তোমার কাছে আসবে পদব্রজে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উষ্ট্রসমূহের পিঠে চড়ে, তারা আসবে দূর দূরান্তের পথ অতিক্রম করে; যাতে তারা প্রত্যক্ষ করতে পারে তাদের জন্য নির্ধারিত সকল কল্যাণ’’। [সুরা আল-হাজ্জ : ২৭-২৮]

সুদীর্ঘকাল ধরে এ সকল কল্যাণের ফল্গুধারা মুসলিম মানসকে করেছে সমৃদ্ধ, চেতনাকে করেছে উজ্জীবিত, ইবাদাতকে করেছে সুষমামন্ডিত এবং প্রাত্যহিক জীবনকে করেছে আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্যে অলংকৃত। হজ্জ নামক ইবাদাতের সুবিশাল পাঠশালায় ছড়িয়ে আছে নানামুখী শিক্ষার মহাসমারোহ। সে সব শিক্ষা অর্জন করতে পারলেই হজ্জের তাৎপর্য ও মর্মার্থ অনুধাবন করা সম্ভব হবে। হজ্জের সে সব কল্যাণমুখী শিক্ষার মহাসম্ভার থেকে আমরা প্রধানতম বিষয়গুলোকে নিচে আলোচনার জন্য বেছে নেব।