hadith book logo

দুআ-মুনাজাতে নবী রাসূলের অসীলা দেয়া একটি পর্যালোচনা

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১

এ হাদীসটি কেন প্রত্যাখ্যান করতে হবে ?

যদি কোন হাদীসে সরাসরি আল কুরআনের বিপরীত কথা বলা হয়, তাহলে হাদীসটি প্রত্যাখ্যান করা হবে।

মুস্তাদরাক হাকেমে বর্ণিত, আদম আ. এর অসীলা গ্রহণের এ হাদীসটি আল কুরআনে আল্লাহ তাআলা যা বলেছেন, তার বিরোধী।

এ হাদীসে বলা হয়েছে, 'নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামের অসীলা দেয়ার কারণে আদম আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার ক্ষমা লাভ করেছিলেন।' কিন্তু আল কুরআন বলছে অন্য কথা।

দেখুন আল্লাহ তাআলা বলেন :

(আরবি)

অতপর আদম তার রবের পক্ষ থেকে কিছু বাণী পেল। ফলে তখনই আল্লাহ তার তাওবা কবুল করলেন। নিশ্চয় তিনি তাওবা কবুলকারী অতি দয়ালু। (সূরা বাকারা, আয়াত ৩৭)

এ আয়াত থেকে আমরা জানলাম, আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাওবা ও ইস্তেগফার করার কিছু বাক্য আদম আলাইহিস সালামের অন্তরে ঢেলে দেয়া হল। তিনি এ কথাগুলো বলার সাথে সাথে আল্লাহ তাআলা তার তাওবা কবুল করে নিলেন।

সেই কথাগুলো কি ছিল?

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা তা বলে দিয়েছেন।

ইরশাদ হচ্ছে :

(আরবি)

তারা উভয়ে বলল, হে আমাদের প্রভূ! আমরা নিজেদের উপর জুলুম করেছি। আর যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের উপর দয়া না করেন তাহলে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।

(সূরা আল আরাফ, আয়াত ২৩)

সকল মুফাসসিরে কুরআন এ বিষয়ে একমত, তাওবা করার জন্য আল্লাহ যে বাণী আদম আলাইহিস সালামকে শিখিয়েছিলেন তা হল সূরা আরাফে বর্ণিত উপরোল্লেখিত দুআ।

অতএব এখন যদি কেউ বলে নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসীলা দেয়ার কারণে তার তাওবা কবুল হয়েছে, তাহলে সে আল কুরআনের বিপরীত কথা বিশ্বাস করল ও প্রচার করল। এটা কুরআন প্রত্যাখ্যান অর্থাৎ হিজরুল কুরআনের অপরাধ বলে গণ্য হবে। আর কুরআন প্রত্যাখ্যান করা যে কবীরা গুনাহ তাতে চুল পরিমাণ সন্দেহ নেই।