hadith book logo

কিয়ামতের আলামত

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২৩

মানুষকে কোথায় একত্রিত করা হবে?

আখেরী যামানায় ইয়ামানের আদন নামক গর্ত থেকে আগুনটি বের হয়ে সকল মানুষকে হাশরের দিকে হাঁকিয়ে নিবে। হাশরের স্থান হবে শাম দেশ। তৎকালে সিরিয়া, ফিলিস্তীন, লেবানন এবং জর্ডান অঞ্চল শাম দেশ হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিল। এমর্মে অনেক সহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে।

১) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

هَاهُنَا تُحْشَرُونَ هَاهُنَا تُحْشَرُونَ هَاهُنَا تُحْشَرُونَ ثَلَاثًا رُكْبَانًا وَمُشَاةً وَعَلَى وُجُوهِكُمْ فَأَشَارَ بِيَدِهِ إِلَى الشَّام

তোমাদেরকে এখানে একত্রিত করা হবে তোমাদেরকে এখানে একত্রিত করা হবে, তোমাদেরকে এখানে একত্রিত করা হবে, কথাটি তিনবার বললেন। আরোহিত অবস্থায়, পদব্রজে এবং মুখের উপর টেনে-হিচঁড়ে একত্রিত করা হবে। অতঃপর তিনি শামের দিকে ইঙ্গিত করলেনমুমিন। [- মুসনাদে আহমাদ, তিরমিযী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান, মুসনাদে আহমাদ। ইমাম তিরমিজী বলেনঃ হাদীছটি হাসান সহীহ। তুহফাতুল আহওয়াযী, (৬/৪৩৪-৪৩৫)।]

২) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

الشَّامِ أَرْضُ المَحْشَرِ وَ الْمَنْشَرِ

শাম হলো হাশর ও পুনরুত্থানের স্থানমুমিন। [- আল-জামেউস্ সাগীর, হাদীছ নং- ৩৬২০।]

৩) ইবনে হাজার আসকালানী (রঃ) বলেনঃ শামের যমিন হাশরের মাঠ হওয়ার ব্যাপারে যে ব্যক্তি সন্দেহ পোষণ করবে সে যেন সূরা হাশরের প্রথম কয়েকটি আয়াত পাঠ করে। বনী নযীরের ইহুদীরা যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করল তখন তিনি তাদেরকে বললেনঃ তোমরা মদীনা থেকে বের হয়ে যাও। তারা বললোঃ আমরা কোথায় যাবো? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হাশরের যমিনের দিকে। [- ফাতহুল বারী, (১১/৩৮০) ও তাফসীরে ইবনে কাছীর, (৪/৩৩০)] অর্থাৎ তিনি তাদেরকে শামের দিকে বিতাড়িত করলেন এবং শামকে হাশরের যমিন হিসেবে ব্যক্ত করলেন।

৪) হাফেজ ইবনে রজব বলেনঃ আখেরী যামানায় কিয়ামতের পূর্বে পৃথিবীতে যখন শুধু নিকৃষ্ট লোকেরাই অবশিষ্ট থাকবে তখন বিরাট একটি আগুন বের হয়ে মানুষকে শামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে তথায় একত্রিত করবে। [- লাতায়েফুল মাআরেফ, লিল-হাফেয ইবনে রজব।]

মানুষকে হাঁকিয়ে নেয়ার অবস্থা সম্পর্কে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

يُحْشَرُ النَّاسُ عَلَى ثَلَاثِ طَرَائِقَ رَاغِبِينَ رَاهِبِينَ وَاثْنَانِ عَلَى بَعِيرٍ وَثَلَاثَةٌ عَلَى بَعِيرٍ وَأَرْبَعَةٌ عَلَى بَعِيرٍ وَعَشَرَةٌ عَلَى بَعِيرٍ وَيَحْشُرُ بَقِيَّتَهُمُ النَّارُ تَقِيلُ مَعَهُمْ حَيْثُ قَالُوا وَتَبِيتُ مَعَهُمْ حَيْثُ بَاتُوا وَتُصْبِحُ مَعَهُمْ حَيْثُ أَصْبَحُوا وَتُمْسِي مَعَهُمْ حَيْثُ أَمْسَوْا

মানুষকে তিনভাবে একত্রিত করা হবে। (১) একদল লোককে আশা ও ভয় মিশ্রিত অবস্থায় হাঁকিয়ে নেয়া হবে। (২) দুহজনকে একটি উটের উপর, তিনজনকে একটি উটের উপর, চারজনকে একটি উটের উপর এবং দশজনকে একটি উটের উপর আরোহিত অবস্থায় হাশরের দিকে হাঁকিয়ে নেয়া হবে। (৩) বাকী সব মানুষকে আগুন হাঁকিয়ে নিবে। মানুষ যেখানে দুপুরের বিশ্রাম নেয়ার জন্যে অবস্থান করবে অগ্নিও সেখানে থেমে যাবে। মানুষ যে স্থানে রাত অতিবাহিত করার জন্যে অবস্থান করবে অগ্নিও সেখানে থেমে যাবে। এরপর আবার তাদেরকে নিয়ে চলবে। তারা যেখানে সকাল করবে আগুনও সেখানে সকাল করবে। তারা যেস্থানে বিকালে অবস্থান করবে আগুনও সেস্থানে অবস্থান করবে। এরপর আবার তাদেরকে হাঁকিয়ে নিবে। [- বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুর্ রিকাক।] অন্য বর্ণনায় এসেছে, আদনের গর্ত হতে একটি অগ্নি বের হয়ে মানুষকে বেষ্টন করে নিবে। চতুর্দিক থেকে তাদেরকে হাশরের মাঠের দিকে হাঁকিয়ে নিবে। যে পিছিয়ে থাকবে আগুন তাকে ধ্বংস করে ফেলবে। [- নিহায়া, অধ্যায়ঃ ফিতান ওয়া মালাহিম।] এই আগুনটি সর্বশেষে যাদেরকে হাঁকিয়ে নিবে তারা হলো মুযায়না গোত্রের দুহজন রাখাল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

يَتْرُكُونَ الْمَدِينَةَ عَلَى خَيْرِ مَا كَانَتْ لَا يَغْشَاهَا إِلَّا الْعَوَافِ يُرِيدُ عَوَافِيَ السِّبَاعِ وَالطَّيْرِ وَآخِرُ مَنْ يُحْشَرُ رَاعِيَانِ مِنْ مُزَيْنَةَ يُرِيدَانِ الْمَدِينَةَ يَنْعِقَانِ بِغَنَمِهِمَا فَيَجِدَانِهَا وَحْشًا حَتَّى إِذَا بَلَغَا ثَنِيَّةَ الْوَدَاعِ خَرَّا عَلَى وُجُوهِهِمَا

মদীনা ভাল হওয়া সত্ত্বেও লোকেরা তা থেকে চলে যাবে। তারা চলে যাওয়ার পর হিংস্র পশু-পাখিরাই কেবল তাতে আশ্রয় নিবে। সর্বশেষে যে দুহজন লোককে হাঁকিয়ে নেয়া হবে তারা হলো মুযায়না গোত্রের দুহজন রাখাল। তারা ছাগলের পাল নিয়ে মদীনার দিকে আসতে থাকবে। মদীনার কাছে এসে দেখবে হিংস্র পশু-পাখিরা মদীনাতে বসবাস শুরু করেছে। ওছানিয়াতুল ওয়াদাহ নামক স্থানে পৌঁছার পর তারা মুখের উপর উপুড় হয়ে পড়ে যাবেমুমিন। [- বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল হাজ্জ।] চেহারার উপর পড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে,

فَيَنْزِل إِلَيْهِمَا مَلَكَانِ فَيَسْحَبَانِهِمَا عَلَى وُجُوههمَا حَتَّى يُلْحِقَاهُمَا بِالنَّاسِ

তাদের দুজন যেহেতু পিছনে পড়েছে, তাই দুহজন ফেরেশতা আগমণ করে তাদের চেহারার উপর উপুড় করে টেনে হিঁচড়ে শামের দিকে চলমান মানুষের সাথে মিলিয়ে দিবেমুমিন। [- ফাতহুলবারী, (৬/১০৪)]