hadith book logo

সূরা কাফিরুন ও ইখলাস আমাদেরকে যা শেখায়

লেখকঃ ফায়িয বিন সাঈদ আয-যাহরানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

নবম পর্ব: আত্মিক ও মানসিক বিভক্তি

কুফর ও কাফেরদের জীবনাচার, চাল-চলন, সভ্যতা-সংষ্কৃতি এক কথায় তাদের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের প্রতি ঘৃণাবোধ এবং অসার মতবাদ এড়িয়ে চলার মানসিকতা লালন করা ঈমান ও তাওহীদের চূড়ান্ত দাবি। একজন মুসলমান নিজেকে তাওহীদের এ স্তরে উন্নীত করতে সমর্থ হলে ঈমানের স্বাদ অনুভব করতে পারবে। সহিহ হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, (যে ব্যক্তি তিনটি বিশেষ গুণ অর্জনে সমর্থ হবে সে ঈমানের স্বাদ অনুভব করতে পারবে। যার নিকট আল্লাহ ও রাসূল অপরাপর সকল মানুষ অপেক্ষা অধিক প্রিয় হবেন, কেবল আল্লাহর জন্যই যে অপরকে ভালবাসবে এবং একবার কুফর হতে নিষ্কৃতি পাবার পর পুনরায় তাতে ফিরে যাওয়াকে (জ্বলন্ত) অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হবার ন্যায় ঘৃণা করবে।) {বর্ণনায় বোখারি ও মুসলিম}

এটিই হচ্ছে একজন মুসলিমের ঈমানের মৌল-দাবি। এমনটিই হওয়া উচিত তার অনুভূতি। তার আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে যে, আপন স্বকীয়তায় সমুজ্জ্বল সে এক স্বতন্ত্র সত্তা-অমুসলিমদের সাথে কোনো ক্ষেত্রেই তার কোনো মিল নেই। তাদের দীন ভিন্ন আর তার দীন ভিন্ন। উভয়ের পথ আলাদা আলাদা। তার ঈমান অমুসলিমদের সাথে তাল মিলিয়ে এক কদম চলারও অনুমতি দেয় না। তার দায়িত্ব হচ্ছে নিজস্ব অবস্থান থেকে বিন্দু পরিমাণও ছাড় না দিয়ে এবং কোনোরূপ তোষামোদ না করে তাবত অমুসলিমকে হেদায়াতের পথে চালানোর ব্রত গ্রহণ করা। {ফী যিলালিল কোরআন ৩৯৯২/৬}

নবীজির সকল সাহাবির অবস্থা ছিল এমনই। নারী কিংবা পুরুষ যে-ই ইসলাম গ্রহণ করেছেন। উচ্চারণ করেছেন শাহাদাতের দীপ্ত কালিমা। জাহেলি আচার-আচরণের আচ্ছাদন শরীর থেকে ঝেড়েফেলেই তা করেছেন। জাহেলি সভ্যতার যাবতীয় আবিলতা মাড়িয়েই ইসলামের অনাবিল শান্তিময় নীড়ে প্রবেশ করেছেন। মন ও মানসে, বাসনা ও অনুভূতিতে বিরাজিত ছিল কেবল ইসলাম আর ইসলাম। কোরআন তাদেরকে এমন করেই গড়ে তুলেছে। আর তারাও ছিলেন এমনই। আল্লাহই সাহায্য কর্তা।