hadith book logo

সূরা কাফিরুন ও ইখলাস আমাদেরকে যা শেখায়

লেখকঃ ফায়িয বিন সাঈদ আয-যাহরানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৭

দ্বাদশতম পর্ব: প্রকৃত স্বাধীনতা

সূরা ইখলাসে সন্নিবেশিত বিষয়াদি সম্পর্কে বুঝ ও বিশ্বাস অন্তরে প্রগাঢ়রূপে স্থাপিত হলে নির্দ্বিধায় বলা যায়, অন্তর লোভ-লালসা, কাম-রিপু ও প্রবৃত্তিগত চাহিদার বন্ধন হতে মুক্ত হয়ে যাবতীয় ভয়-ডর-শঙ্কা কাটিয়ে কেবল অদ্বিতীয়-অমুখাপেক্ষী আল্লাহর প্রতি ধাবিত হবে এবং তাঁর কাছেই যাবতীয় আরজি-আরাধনা উপস্থাপন করবে। কেবল তাঁকেই ভয় করবে। তাঁর কাছেই আশা করবে। তাঁর ওপরই নির্ভর করবে।

একজন মানুষ তারই মত দুর্বল-সামর্থহীন অপর মানুষ বা অন্য কোনো সৃষ্টির ওপর নির্ভর করবে কি করে? কিভাবেই বা তাদের নিকট প্রত্যাশার হাত সম্প্রসারিত করবে? তাদের ভয় করবে? অথচ এতটাই অসহায় তারা, অপরতো দূরের কথা নিজেরই উপকার সাধন কিংবা ক্ষতিরোধ করার ক্ষমতা রাখে না। নিজের সাহায্য করতে পারে না। জীবন-মরণ-রিজিকের ব্যাপারে তাদের কোনো দখল নেই... এটিই আল-কোরআনের মৌলিক শিক্ষা। এ শিক্ষায়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ সাহাবিদের গড়ে তুলেছেন। নির্মাণ করেছেন মহা পরাক্রমশালী আল্লাহর ওপর তাদের বিশ্বাসের সুদৃঢ় সৌধ।

বিশিষ্ট সাহাবি আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রা. বলেন, একদিন আমি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে ছিলাম, তিনি আমার উদ্দেশে বললেন, হে বালক, আমি তোমায় কয়েকটি কথা শেখাব, তুমি আল্লাহর (বিধি-বিধান) বিষয়ে যত্নবান হও আল্লাহ তোমাকে হিফাযত করবেন। আল্লাহর বিষয়ে যত্নবান হও, তাঁকে তোমার কাছে পাবে। যখন কিছু প্রার্থনা করবে তখন তাঁর কাছেই প্রার্থনা করবে। আর যখন সাহায্য চাইবে কেবল তাঁর কাছেই চাইবে। শোন_ তোমার উপকার্থে যদি মানব জাতি সকলেই এক হয়ে চেষ্টা করে, তারা কেবল সে উপকারটুকুই করতে পারবে যা আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। আর যদি অপকার করার জন্য একত্রিত হয় তাহলে সে অপকারটুকুই কেবল করতে পারবে যা আল্লাহ তোমার বিপক্ষে লিখে রেখেছেন। কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে, আর (লিখিত) কাগজ শুকিয়ে গেছে। {তিরমিজি, সূত্র হাসান}

হাদিসটি জামে তিরমিজি ব্যতীত অন্যান্য গ্রন্থেও কিছুটা ভিন্নতায় বর্ণিত হয়েছে, যেমন, তুমি আল্লাহর (বিধি-বিধান) বিষয়ে যত্নবান হও তাঁকে তোমার সামনে পাবে। সাচ্ছন্দের সময় আল্লাহর (বিধি-বিধান)-কে স্মরণে রেখে চলবে দুর্দিনে আল্লাহ তোমাকে স্মরণে রাখবেন। জেনে রাখ, যা তোমার হয়নি তা হওয়ার ছিল না। আর যা হয়েছে তা না হওয়ার ছিল না। আরো জেনে রাখ, সাহায্য ধৈর্য্য-সবরের সাথে (সম্পৃক্ত)। আর দুর্দশা-পেরেশানির সাথেই রয়েছে স্বস্তি-আনন্দ । কষ্টের সাথেই রয়েছে সুখ। {বর্ণনায়, তিরমিজি ২৫১৬, ইমাম আহমদ ১/২৯৩ ক্রমিক নং ২৬৬৯}

এটিই হচ্ছে প্রকৃত স্বাধীনতা, নিখাদ আজাদি। যা এখনো আমাদের অনেকেই বুঝে উঠতে পারছে না। তাইতো অন্তরে দুনিয়া প্রীতিকে সাধনার আসনে বসিয়ে রেখেছে একান্ত নিবিষ্টতায়। আয় আল্লাহ, আমাদের বুদ্ধির মুক্তি দান করুন।