hadith book logo

শরিয়া বিধানের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য

লেখকঃ ইকবাল হোসাইন মাসুম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২

শরিয়া বিধানের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য

ধর্মে বিশ্বাসী প্রতিটি ব্যক্তিই নিজ নিজ বিশ্বাস মতে কোন না কোনভাবে এবাদত-বন্দেগী, অর্চণা-উপাসনা করে থাকে। বরং এটি প্রতিটি মানুষের সৃষ্টিগত প্রকৃতির চিরন্তন বৈশিষ্ট্য। এবাদত-আনুগত্যের স্বভাব নিয়েই পৃথিবীতে তার আবির্ভাব। প্রকৃতির টানেই সে এবাদত-উপাসনা করতে বাধ্য। তবে সব উপাসক-এবাদতকারীর সকল এবাদত-উপাসনাই প্রকৃত উপাস্য ও মা’বুদ মহাবিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। বরং তিনি সেসব এবাদত-উপাসনাই গ্রহণ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যার অনুমোদন তিনি দিয়েছেন এবং যা সম্পাদিত হবে তাঁর মনোনীত ব্যক্তিবর্গ-আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম-এর আদর্শের অনুবর্তিতায়। পৃথিবীর শুরু থেকেই যুগে যুগে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন বিধি-বিধান দিয়ে অসংখ্য নবি-রাসূল প্রেরণ করেছেন, যার ধারা সমাপ্ত হয়েছে নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণের মধ্য দিয়ে। আর আল্লাহ প্রদত্ত সেসব বিধি-বিধান ও আদেশ-নিষেধকেই শরিয়ত বলা হয়।

এখন জানার বিষয় হচ্ছে মাকাসিদুশ শরিয়া তথা এ শরিয়ত প্রবর্তনের উদ্দেশ্য কী? এর দ্বারা শরিয়ত অনুগামীদের লাভ কী? যেসব বিধি-বিধান তাদের মেনে চলতে হয়, সেসবের তাৎপর্য ও হিকমত তাদের পক্ষে অনুধাবন করা কি সম্ভব? বা আদৌ কি সেগুলোর পিছে কোন হিকমত লুকিত আছে?

এ প্রসঙ্গে সর্ব প্রথম কলম ধরেন উসূলে ফিকহ (ইসলামি আইনের মূলনীতি) এর প্রখ্যাত ইমাম আল্লামা শাতবী রহ.। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আরো ব্যাপকভাবে গবেষণা করেন যুগে যুগে বহু গবেষক। যেমন আল্লামা মুহাম্মাদ তাহির বিন আশুর রহ., ড. মুহাম্মাদ আল আকলাহ, আল্লামা শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলভী রহ. প্রমুখ। আমরা বক্ষমাণ নিবন্ধে এ বিষয়ে কিছু ধারণা নেয়ার প্রয়াস পাব।