১
শরিয়া বিধানের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য
লেখকঃ ইকবাল হোসাইন মাসুম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮
সহজীকরণ ও জটিলতার নিরসন
শরয়ি বিধি-বিধান প্রবর্তনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, সহজসাধ্যতা ও মানুষের ওপর সহজ করণ, তাদের থেকে জটিলতা ও সঙ্কীর্ণতা নিরসন করণ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণের অন্যতম তাৎপর্যও এটিই । এরশাদ হচ্ছে:
الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ فَالَّذِينَ آَمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ أُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴿157﴾) الأعراف :157(
যারা অনুসরণ করে রাসূলের, যে উম্মী নবি; যার গুণাবলী তারা নিজেদের কাছে তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়, যে তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ দেয় ও বারণ করে অসৎ কাজ থেকে এবং তাদের জন্যে পবিত্র বস্ত্ত হালাল করে আর অপবিত্র বস্ত্ত হারাম করে। আর তাদের থেকে বোঝা ও শৃংখল- যা তাদের উপরে ছিল- অপসারণ করে। সুতরাং যারা তার প্রতি ইমান আনে, তাকে সম্মান করে, তাকে সাহায্য করে এবং সাথে যে নূর নাযিল করা হয়েছে তা অনুসরণ করে, তারাই সফলকাম। [সূরা আরাফ (১৫৭)।]
কোরআনুল করিমের বিভিন্ন আয়াতে একথা খুবই সুস্পষ্ট আকারে ব্যক্ত করা হয়েছে যে, শরয়ি বিধান প্রবর্তনের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে এ তাইসির বা সহজীকরণ। তবে সহজসাধ্যতা শরীয়তের লক্ষ্য হলেও এ কথা ভাবার অবকাশ নেই যে শরীয়তের সব বিধানই এ তাইসীরের ওপর চলবে এবং সকল মানুষ সর্বাবস্থায় ও সকল ব্যাপারে সহজসাধ্যতা বজায় রেখে কাজ করবে। বরং উদ্দেশ্য হচ্ছে যেখানে তাইসির বা সহজীকরণের পরিবেশ ও শর্তাদি বিদ্যমান থাকবে কেবল সেখানেই এটি বাস্তবায়িত হবে। সুতরাং সহজীকরণ একটি সাধারণ শরয়ি উদ্দেশ্য। তবে অন্যান্য উদ্দেশ্যের ন্যায় এটিও প্রারম্ভিক উদ্দেশ্য যার বাস্তবায়নের জন্যে শর্তের বিদ্যমানতা অপরিহার্য।
আল্লামা শাতবী রহ. এদিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ইসলামে সহজসাধ্যতার অর্থ এই নয় যে, শরিয়ত আরোপিত দায়িত্ব আদায় ও বিধান পালনে কোন কষ্ট নেই। সকল বিধান পালনই কষ্টমুক্ত। কেননা এমন ধারণা কোন কোন দায়িত্ব অর্পণের উদ্দেশ্যের সাথে অসঙ্গতি বরং বিরোধপূর্ণ। যেমন বিভিন্ন পরীক্ষা ও কষ্ট-মুসিবত। [আল মুওয়াফাকাত: (২/১৩১)।]
الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ فَالَّذِينَ آَمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ أُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴿157﴾) الأعراف :157(
যারা অনুসরণ করে রাসূলের, যে উম্মী নবি; যার গুণাবলী তারা নিজেদের কাছে তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়, যে তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ দেয় ও বারণ করে অসৎ কাজ থেকে এবং তাদের জন্যে পবিত্র বস্ত্ত হালাল করে আর অপবিত্র বস্ত্ত হারাম করে। আর তাদের থেকে বোঝা ও শৃংখল- যা তাদের উপরে ছিল- অপসারণ করে। সুতরাং যারা তার প্রতি ইমান আনে, তাকে সম্মান করে, তাকে সাহায্য করে এবং সাথে যে নূর নাযিল করা হয়েছে তা অনুসরণ করে, তারাই সফলকাম। [সূরা আরাফ (১৫৭)।]
কোরআনুল করিমের বিভিন্ন আয়াতে একথা খুবই সুস্পষ্ট আকারে ব্যক্ত করা হয়েছে যে, শরয়ি বিধান প্রবর্তনের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে এ তাইসির বা সহজীকরণ। তবে সহজসাধ্যতা শরীয়তের লক্ষ্য হলেও এ কথা ভাবার অবকাশ নেই যে শরীয়তের সব বিধানই এ তাইসীরের ওপর চলবে এবং সকল মানুষ সর্বাবস্থায় ও সকল ব্যাপারে সহজসাধ্যতা বজায় রেখে কাজ করবে। বরং উদ্দেশ্য হচ্ছে যেখানে তাইসির বা সহজীকরণের পরিবেশ ও শর্তাদি বিদ্যমান থাকবে কেবল সেখানেই এটি বাস্তবায়িত হবে। সুতরাং সহজীকরণ একটি সাধারণ শরয়ি উদ্দেশ্য। তবে অন্যান্য উদ্দেশ্যের ন্যায় এটিও প্রারম্ভিক উদ্দেশ্য যার বাস্তবায়নের জন্যে শর্তের বিদ্যমানতা অপরিহার্য।
আল্লামা শাতবী রহ. এদিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ইসলামে সহজসাধ্যতার অর্থ এই নয় যে, শরিয়ত আরোপিত দায়িত্ব আদায় ও বিধান পালনে কোন কষ্ট নেই। সকল বিধান পালনই কষ্টমুক্ত। কেননা এমন ধারণা কোন কোন দায়িত্ব অর্পণের উদ্দেশ্যের সাথে অসঙ্গতি বরং বিরোধপূর্ণ। যেমন বিভিন্ন পরীক্ষা ও কষ্ট-মুসিবত। [আল মুওয়াফাকাত: (২/১৩১)।]