hadith book logo

শাস্তি প্রদান শরয়ি দৃষ্টিকোণ

লেখকঃ আমর ইব্রাহীম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৯

২. আঘাতের সংখ্যা নির্ধারণ

প্রহার করার আগে প্রশিক্ষককে অপরাধ ও অপরাধীর অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে আঘাতের সংখ্যা নির্ধারণ করে নিতে হবে। কারণ কোনো কোনো অপরাধীর ক্ষেত্রে কেবল একটি বেত্রাঘাত অপরাধ থেকে ফেরাতে যথেষ্ট। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে আরও বেশির প্রয়োজন হতে পারে। তবে উত্তম হচ্ছে, আঘাতের সংখ্যা দশ-এর বেশি না হওয়া। এ দিকটির প্রতি কঠিন ভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ ইমাম বোখারি রহ. নিজ ‘সহিহ’তে সাহাবি আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন,

أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان لا يجلد فوق حد من حدود الله فوق عشر جلدات .

অর্থাৎ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নির্ধারিত হদের বেশি-দশ বেত্রাঘাতের বেশি কাউকে বেত্রঘাত করতেন না।

তবে বাচ্চা যদি বয়োপ্রাপ্তির সন্ধিক্ষণে উপনীত হয় আর সম্পাদিত আরাধের চাহিদা আরো বেশি হয় তাহলে পরিস্থিতির বিচারে দশ-এর অধিকও আঘাত করা যাবে।

৩. শরীরের একই স্থানে প্রহার না করে বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করা। এবং খুব হালকাভাবে প্রহার করা। মনে রাখতে হবে, প্রহার করা হচ্ছে শিষ্টতা শেখানোর জন্য, প্রতিশোধ নেবার জন্য নয়।

৪. মাথা, বক্ষদেশ, পেট ও লজ্জাস্থানের মত স্পর্শকাতর জায়গায় প্রহার করা যাবে না।

৫. প্রহারের সময় প্রহারকারী প্রশিক্ষককে শান্ত ও স্বাভাবিক অবস্থায় থাকতে হবে। রাগান্বিত অবস্থায় প্রহার করা যাবে না। এতে জুলুম হয়ে যেতে পারে এবং শাস্তিপ্রাপ্ত শিশু প্রয়োজনের অতিরিক্ত কষ্ট পেতে পারে।

৬. অপর কোনো শিশু বিশষত: তার সাথীকে প্রহারের কতৃত্ব দিবে না।

৭. পেটানোর জন্য লাঠি বাছাই করা। উত্তম হলো সোজা ও মাঝারি আকারের কাঁচা বেত।