hadith book logo

শাস্তি প্রদান শরয়ি দৃষ্টিকোণ

লেখকঃ আমর ইব্রাহীম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০

শাস্তি প্রয়োগের পর প্রশিক্ষনার্থীর সাথে প্রশিক্ষকের সম্পর্ক ও ব্যবহার কেমন হবে?

শাস্তি প্রদানের পর প্রশিক্ষক শাস্তিপ্রাপ্ত প্রশিক্ষনার্থীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দেখবেন। যদি দেখা যায় যে শাস্তিতে কাজ হয়েছে, অপরাধ থেকে ফিরে এসেছে। অবস্থার উন্নতি সাধিত হয়েছে। স্বভাব ও চালচলনে স্বাভাবিকতা ফিরে এসেছে। তাহলে প্রশিক্ষক তার সাথে স্বাভাবিক হয়ে যাবেন। উদারতা ও স্নেহ সুলভ ব্যবহার করবেন। হাসিমুখে কথা বলবেন। আচরণের মাধ্যমে বুঝাতে চেষ্টা করবেন যে, আমি কেবল তোমার ভালর জন্যই শাস্তি দিয়েছি। তোমার দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের জন্যই কঠোরতা অবলম্বন করেছি। আমার নিজের কোনো স্বার্থ ছিল না এতে। তোমার মঙ্গলই ছিল আমার উদ্দেশ্য। এটিই ছিল দয়াময় ও স্বার্থক প্রশিক্ষক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশিক্ষণ রীতি। এ নীতির অনুবর্তিতায় তিনি নিজ সাহাবিদের প্রশিক্ষণ দান করতেন। শাস্তি প্রদানের পর তিনি তাদের সাথে এরূপ কোমল ব্যবহারই করতেন। দেখুন, তাবুক যুদ্ধে অনুপস্থিত থাকার কারণে শাস্তির সম্মুখীন হওয়া সাহাবি কা’ব বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু’র সাথে তাঁর মাধুর্য্যপূর্ণ ব্যবহারের নমুনা। ইমাম বোখারি রহ. নিজ ‘সহিহ’তে উদ্ধৃত করেছেন, কা’ব রা. বলেন,

فلما سلّمت على رسول الله صلى الله عليه وسلم قال وهو يبرق وجهه من السرور : أبشر بخير يوم مرّ عليك مذ ولدتك أمّك .

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম দিলাম। তিনি আমাকে বললেন, -তখন তাঁর চেহারা খুশিতে চমকাচ্ছিল- তোমার মাতা তোমাকে জন্মদানের পর থেকে আজ পর্যন্ত অতিবাহিত হওয়া সবচে উত্তম দিনের সুসংবাদ গ্রহণ কর।

এটি ছিল তাঁর তাওবা কবুল হবার পরের ঘটনা। বাচ্চা শাস্তি প্রয়োগের পর যখন দেখতে পাবে যে শিক্ষক শাস্তিদানের পরও তার সাথে ভাল ব্যবহার করছেন। তাকে আদর-স্নেহ করছেন। তখন সে বুঝে নিবে যে শিক্ষক তার সংশোধন ও ভালর জন্যই শাস্তি দিয়েছেন। তিনি তার কল্যাণই কামনা করেছেন। এতে তার উপর খুব প্রভাব পড়বে। মন্দ অভ্যাস পরিত্যাগে উদ্যোগী হবে। ভুল রাস্তা ছেড়ে ভাল পথে ফিরে আসার উৎসাহ অনুভব করবে। এবং শিক্ষকের প্রতি কোনো বিদ্বেষ বা মন্দ ধারণা জন্মাবে না। মনে এরূপ কিছুই থাকবে না।