hadith book logo

শাস্তি প্রদান শরয়ি দৃষ্টিকোণ

লেখকঃ আমর ইব্রাহীম • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২

উপসংহার:

উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে পরিস্কার হয়েছে যে প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতাপূর্ণ শাস্তিপ্রদান প্রশিক্ষনার্থীর আচরণিক বৈরিতা পরিবর্তন ও চারিত্রিক উন্নতি সাধনে একটি কার্যকর, ফলপ্রসূ ও সফল প্রশিক্ষণ পদ্ধতি। বিশেষত: যখন সেখানে গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলী ও বিজ্ঞান সম্মত নীতি-পদ্ধতির প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়। আরও লক্ষ্য রাখা হয় শাস্তির সম্মুখীন অপরাধী ও অপরাধের প্রকৃতির প্রতি। যেমনিভাবে পরিস্কার হয়েছে শাস্তি প্রদান পদ্ধতির অনুবর্তিতায় শিষ্টতা প্রশিক্ষণ, বদ অভ্যাস ও মন্দ আচরণের মাঝে বেড়ে উঠার ধারা প্রতিরোধ করে। পাশাপাশি প্রশিক্ষনার্থীর মাঝে একটি অনুভূতি ও আত্মমর্যাদাবোধ সঞ্চারিত করে যার মাধ্যমে সে সেসব বৈরি আচরণ ও মন্দ অভ্যাস ত্যাগ করার প্রেরণা লাভ করে। আর শাস্তি বিহীন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সে অপরাধের প্রবণতা নিয়েই বেড়ে উঠে এবং তার মাঝে এক ধরনের পশুত্ব বিরাজিত থাকে। সব সময় নিষিদ্ধ ও মন্দ কাজ কর্মের মাঝে ঘোরাঘুরি করে। বিশ্ববিখ্যাত দার্শনিক আল্লামা মুহাম্মদ কুতুব রহ.-এর দর্শনও আমাদের বক্তব্যকে সমর্থন করছে জরালোভাবে। তিনি বলেন,

“শাস্তি প্রদান রীতির অনুবর্তন ব্যতীত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রজন্ম মূলত: অকর্মন্য ও নির্বোধ প্রজন্ম, জীবনের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ও উন্নতির ক্ষেত্রে যারা কোনোই ভূমিকা রাখতে পারে না। দর্শন যতই আকর্ষনীয় ও শ্রুতিমধুর হোক না কেন অনুবর্তনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাই অগ্রাধিকার যোগ্য। বাচ্চাদের প্রতি প্রকৃত মায়া-মমতা হচ্ছে সেটিই যা তাদেরকে সোনালী ভবিষ্যৎ গড়তে সহযোগিতা করে। যে মায়া-মমতা তার মূল্যবোধকে বিনষ্ট করে দেয়, ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন করে ফেলে তাকে কোনোভাবেই মমতা বলা যায় না।”

সমাপ্ত