hadith book logo

দাঈদের প্রতি বার্তা

লেখকঃ শাইখ মোহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

তৃতীয় অধ্যায়ঃ আল্লাহর প্রতি আহবানের ক্ষেত্র

আল্লাহর দিকে দাওয়াতের মাজাল বলতে আমরা বুঝি দাওয়াতের বিভিন্ন ক্ষেত্র। আল্লাহর পথে দাওয়াত কোন নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে :

১. ব্যক্তিগত যোগাযোগ : আহবানকারী কোন ব্যক্তিকে দাওয়াত দানের ইচ্ছা করবে। অতঃপর তার দ্বিতীয় অধ্যায়ে উল্লেখিত ধারাবাহিক পদ্ধতিতে আল্লাহর পথে আহবান করবে।

২. গুরুত্বপূর্ণ স্থান : যেমন মসজিদ, একত্রিত হওয়ার অনুষ্ঠান, যথা- হজ্জ মওসুম, সভা সম্মেলন, হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও অন্যান্য স্থানে পরিবেশ-পরিস্থিতি ও প্রয়োজনের আলোকে দাওয়াত দেয়া। আর এ জন্য রাসূল ﷺ বিভিন্ন মেলা ও মওসুমে অনেক গোত্রের কাছে নিজেকে পেশ করতেন এবং তাদেরকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতেন। ইমাম আহমদ (রহ.) রাবিয়াহ বিন ইবাদ আদ্দাহলী (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,

رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَصَرَ عَيْنِي بِسُوقِ ذِي الْمَجَازِ ، يَقُولُ : يَا أَيُّهَا النَّاسُ قُولُوا : لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ، تُفْلِحُوا

অর্থাৎ আমি রাসূল ﷺ কে যুলমাজায বাজারে দেখেছি, তিনি বলতেছেন, হে মানুষেরা! তোমরা বলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, তবেই মুক্তি পাবে। [মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬০৬৬।]

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَعْرِضُ نَفْسَهُ عَلَى النَّاسِ فِى الْمَوْقِفِ فَقَالَ : أَلاَ رَجُلٌ يَحْمِلُنِى إِلَى قَوْمِهِ فَإِنَّ قُرَيْشًا قَدْ مَنَعُونِى أَنْ أُبَلِّغَ كَلاَمَ رَبِّى

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ বিভিন্ন স্থানে মানুষের কাছে নিজেকে পেশ করতেন। অতঃপর বলতেন, কে আছ যে আমাকে তার গোত্রের কাছে নিয়ে যাবে? কেননা কুরাইশরা আমাকে আমার রবের কথা পৌঁছাতে নিষেধ করেছে। [আবু দাউদ, হা/৪৭৩৬; তিরমিযী, হা/২৯২৫।]

قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقِ بْنِ يَسَارٍ : وَكَانَ رَسُوْلُ اللهِ عَلٰى ذٰلِكَ مِنْ أَمْرِه كُلُّمَا اِجْتِمَعُ النَّاسُ بِالْمُوَسَّمِ أَتَاهُمْ يَدْعُو الْقَبَائِلَ إِلَى اللهِ وَإِلَى الْاِسْلَامِ وَيُعْرِضُ عَلَيْهِمْ نَفْسَه وَمَا جَاءَ بِه مِنَ اللهِ مِنَ الْهُدٰى وَالرَّحْمَةَ وَلَا يَسْمَعُ بِقَادِمٍ يَقْدِمُ مَكَّةَ مِنَ الْعَرَبِ لَه اِسْمٌ وَشَرْفٌ، إِلَّا تُصَدّٰى لَه وَدَعَاهُ إِلَى اللهِ تَعَالٰى، وَعَرَضَ عَلَيْهِ مَا عِنْدَه

ইবনে ইসহাক বলেন, রাসূল ﷺ এর অবস্থা এমন ছিল যে, কোন মওসুমে মানুষ যখন একত্রিত হতো, তখন তিনি তাদের কাছে আসতেন এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়কে আল্লাহর দিকে ও ইসলামের দিকে ডাকতেন। তাদের সামনে নিজেকে এবং যে হেদায়েত ও রহমত তিনি নিয়ে এসেছেন, তা পেশ করতেন। আর যখনই তনি আরবের কোন সম্ভ্রান্ত নামকরা ব্যক্তির মক্কা আগমনের খবর শুনতেন, তখনই তার কাছে আসতেন এবং তাকে আল্লাহর পথে দাওয়াত দিতেন, তার কাছে দ্বীন পেশ করতেন। [বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩/১৭৯।]

৩. শিক্ষাঙ্গন : যেমন- ইনস্টিটিউট, মাদরাসা, স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি- সেখানে বক্তৃতা ও সাধারণ সভার মাধ্যমে হোক অথবা বিশেষ ক্লাসের মাধ্যমেই হোক দ্বীনের দাওয়াত দেয়া যায়। স্বীয় ধর্মের প্রতি একনিষ্ঠ শিক্ষক পাঠের মধ্য দিয়ে কথার মাধ্যমে আল্লাহর পথে আহবান করতে সক্ষম। অথবা তার ইবাদাতের অবস্থা, উত্তম চরিত্র, ন্যায়-নীতি ইত্যাদির মাধ্যমেও আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজ করতে পারে। কেননা শিক্ষক হচ্ছে ছাত্রদের আদর্শ। তার কাজ-কর্ম ও চরিত্র তাদের মন-মানসে গেঁথে থাকে এবং তাদের আমল ও আখলাকে তা প্রকাশ পায়।