hadith book logo

আল্লাহর পথের অভিযাত্রী

লেখকঃ ড. লুতফুল্লাহ ইবন মোল্লা আব্দুল আযীম খাজা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

জান্নাত অভিমুখে সফরের রুকনসমূহ: এক. ইসলামের ওপর মারা যাওয়া:

মৃত্যু ছাড়া দুনিয়া থেকে আখিরাত জগতে যাবার আর কোনো উপায় নেই। জান্নাতে প্রবেশের প্রথম ধাপই হচ্ছে মৃত্যু।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ كُلُّ نَفۡسٖ ذَآئِقَةُ ٱلۡمَوۡتِۗ وَإِنَّمَا تُوَفَّوۡنَ أُجُورَكُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۖ فَمَن زُحۡزِحَ عَنِ ٱلنَّارِ وَأُدۡخِلَ ٱلۡجَنَّةَ فَقَدۡ فَازَۗ وَمَا ٱلۡحَيَوٰةُ ٱلدُّنۡيَآ إِلَّا مَتَٰعُ ٱلۡغُرُورِ ١٨٥ ﴾ [ ال عمران : ١٨٥ ]

“প্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর অবশ্যই কিয়ামতের দিনে তাদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দেওয়া হবে। সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলতা পাবে। আর দুনিয়ার জীবন কেবল ধোঁকার সামগ্রী।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৫]

হজের ইহরামের সাথে ইসলামের উপর মৃত্যুর অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। যেমন,

উভয়টিতেই মানুষ আল্লাহর একত্বের স্বীকৃতি দেয়। মুখে উচ্চারণ করে ঘোষণা প্রদান করে আল্লাহর লা শরিকত্বের। ইহরামকারী লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক... বলে তালবিয়া পাঠ করে। আর মৃত্যু পথযাত্রী মুসলিমকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর তালকীন করা হয়।

উভয় ক্ষেত্রে স্বাভাবিক পোষাক খুলে, সেলাই বিহীন চাদর সদৃশ সাদা কাপড় পরিধান করতে হয়। মরদেহকে পরানো হয় কাফন। আর ইহরামকারী ইহরামের জন্য নির্দিষ্ট দু’টুকরো কাপড়।

উভয়টিতে রয়েছে পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা, গোসল ও সুগন্ধি ব্যবহারের বিধান।

উভয় ক্ষেত্রেই আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের নিমিত্তে সালাত আদায় করা হয়। পার্থক্য শুধু ইহরামের ক্ষেত্রে ইহরামকারী নিজে আদায় করে আর মৃত্যুর ক্ষেত্রে আদায় করে তার পরিজন ও মুমিন ভ্রাতৃবৃন্দ।

ইহরাম হজকারীকে তার শেষ ঠিকানা ও জীবনের পরিসমাপ্তি বিষয়ে স্মরণ করিয়ে দেয়। আরো স্মরণ করিয়ে দেয়, কয়েক টুকরো কাফন ব্যতীত একেবারে শূন্য হয়ে কিভাবে বের হতে হবে তাকে এ নশ্বর পৃথিবী থেকে। নিজ অভ্যাস পরিপন্থী পরিচ্ছদে কিভাবে দেখা করবে সে মহান আল্লাহর ঘরের সাথে। অনুরূপভাবে দেখা করতে হবে তাকে আল্লাহর সাথে নিজ আদত পরিবর্তিত বেশ-ভূষায়।

ইহরাম অবস্থায় একটি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করতে হয় একজন হাজি সাহেবকে। এটি তাকে কিয়ামতের ময়দানের সেই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। স্মরণ করিয়ে দেয়, তোমাকে অবশ্যই সে পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। তাই সে দিনের ভয়াবহতা হতে রক্ষা পাবার জন্য তোমাকে প্রস্তুতি নিতে হবে নানা উপায়ে। যেমন প্রস্তুতি নিয়েছ তুমি হজের দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি দূর করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ, নানাভাবে।