১
আল্লাহর পথের অভিযাত্রী
লেখকঃ ড. লুতফুল্লাহ ইবন মোল্লা আব্দুল আযীম খাজা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫
তিন. অন্তর আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করা ও সার্বক্ষণিক তাঁর যিকিরে নিবিষ্ট থাকা:
তাঁর স্মরণ ও যিকিরে যার অন্তর সদা মশগুল। অনুরাগ, ভক্তি, ভালোবাসায় তাঁর প্রতি যে অনুরক্ত। শতভাগ উজাড় করে যে ব্যক্তি নিজ হৃদয়কে করেছে তাঁর প্রতি নিবিষ্ট, সেই মূলতঃ তাঁর নৈকট্য পেয়ে হয়েছে ধন্য। সুতরাং ঈমানের শর্ত হচ্ছে অন্তর আল্লাহর প্রতি নিবিষ্ট করা অর্থাৎ মন-প্রাণ উজাড় করে তাঁকে ভালোবাসা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ ٱللَّهِ أَندَادٗا يُحِبُّونَهُمۡ كَحُبِّ ٱللَّهِۖ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَشَدُّ حُبّٗا لِّلَّهِۗ وَلَوۡ يَرَى ٱلَّذِينَ ظَلَمُوٓاْ إِذۡ يَرَوۡنَ ٱلۡعَذَابَ أَنَّ ٱلۡقُوَّةَ لِلَّهِ جَمِيعٗا وَأَنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعَذَابِ ١٦٥﴾ [ البقرة : ١٦٥ ]
“আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে, যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে আল্লাহর সমকক্ষরূপে গ্রহণ করে, তাদেরকে আল্লাহকে ভালোবাসার মত ভালোবাসে। আর যারা ঈমান এনেছে, তারা আল্লাহর জন্য ভালোবাসায় দৃঢ়তর। আর যদি যালিমগণ দেখে- যখন তারা ‘আযাব দেখবে যে, নিশ্চয় সকল শক্তি আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আল্লাহ ‘আযাব দানে কঠোর।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৬৫]
মুমিনরাই হচ্ছেন যিকিরকারী দল, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ٱلَّذِينَ يَذۡكُرُونَ ٱللَّهَ قِيَٰمٗا وَقُعُودٗا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمۡ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلۡقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ رَبَّنَا مَا خَلَقۡتَ هَٰذَا بَٰطِلٗا سُبۡحَٰنَكَ فَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ ١٩١﴾ [ ال عمران : ١٩١ ]
“যারা আল্লাহকে স্মরণ করে (তাঁর যিকির করে) দাঁড়িয়ে, বসে ও কাত হয়ে এবং আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে। (বলে) হে আমাদের রব, তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি কর নি। তুমি পবিত্র মহান। সুতরাং তুমি আমাদেরকে আগুনের ‘আযাব থেকে রক্ষা কর।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯১]
তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ:
-তাওয়াফ পাক খাওয়া ও ঘূর্ণন-এর নাম। ভালোবাসা ও সান্নিধ্য প্রত্যাশী, অনুরাগী- প্রেমিকদের অবস্থাও তাই। প্রেমাষ্পদের চতুরপার্শ্বে ঘুরপাক খায়। প্রদক্ষিণ করে তার বাসস্থান, স্মৃতিচিহ্ন ইত্যাদি বার বার, নিরলস, বিরামহীন। প্রহরের প্রহর অপেক্ষায় কাটিয়ে দেয়। ক্লান্তি কভু পরাজিত করতে পারে না এদের, পরিশ্রান্তও হয় না তারা কখনো। ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে ফিরে যায় না প্রেমাষ্পদের সান্নিধ্য থেকে। প্রেমাষ্পদের সন্তুষ্টি, ভালবাসা, তার সাথে কথা বলা, তার দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে নিজেকে ধন্য ও গৌরবান্বিত করা অবধি সে চেষ্টা অব্যাহত থাকে অনাবরত...।
-তাওয়াফ অবস্থায় সম্পাদনকারীর হৃদয়-মন জুড়ে থাকে যার জন্য তাওয়াফ করা হচ্ছে তার নাম। অন্তর কেবল তাকেই স্মরণ করে। মেজাজ-মস্তিষ্ক থাকে শুধু তার চিন্তায়ই বিভোর। মানসপটে ভেসে ওঠে বার বার তার প্রতিচ্ছবি। মহান আল্লাহ তা‘আলাকে যারা অধিক হারে স্মরণ করে, তাঁর প্রেমে যারা আত্মহারা তাদের অবস্থাও তা-ই।
সুতরাং তাওয়াফ এমনই এক ইবাদত যা দীনের মূল ও মগজ আল্লাহর প্রেম ও যিকিরকে স্মরণ করিয়ে দেয়। নির্ভেজাল প্রেম, নিখাদ অনুরাগ ও বুকভরা ভালোবাসা নিয়ে তাওয়াফকারী তাওয়াফ সম্পাদন করে। আর শিক্ষা গ্রহণ করে যে পার্থিব জীবনে প্রকৃত মুমিনের অবস্থা এমনটিই। কোনো কিছুকেই সে মহান মাওলার উপর প্রাধান্য দেয় না। না ভক্তি-ভালবাসায়, না অনুরাগ-স্মরণে। এটিই তালবিয়ার মূলকথা,
لبيك اللهم لبيك لبيك لا شريك لك لبيك .......
“আমি হাযির হে মা‘বূদ আমি হাযির, আমি হাযির তোমার কোনো শরীক-সমকক্ষ নেই, আমি হাযির...।”
যা উচ্চারিত হয় প্রতিটি হাযির মুখে ইহরামের সময়, তারবিয়ার দিন, ‘আরাফা ও মুযদালিফায়, এমনকি ঈদের দিন জামরায়ে ‘আকাবার প্রাককালে। এ কথা বলে হাজী সাহেব নিজ উপস্থিতি ঘোষণা করে, ভালোবাসা ব্যক্ত করছেন মহান প্রেমাষ্পদ সকাশে; হে প্রেমময় মাওলা, তোমার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে ধন্য হতে আমি তোমার দরবারে এসে উপস্থিত হয়েছি সব কিছুকে পেছনে ফেলে। মন-প্রাণ-দেহ সব নিয়েই উপস্থিত হয়েছি আমি। প্রতিজ্ঞা করছি তোমার অনুগত হয়ে চলার। তোমার সন্তুষ্টি ও ভারবাসায় সব কিছু উৎসর্গ করার...।
﴿وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ ٱللَّهِ أَندَادٗا يُحِبُّونَهُمۡ كَحُبِّ ٱللَّهِۖ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَشَدُّ حُبّٗا لِّلَّهِۗ وَلَوۡ يَرَى ٱلَّذِينَ ظَلَمُوٓاْ إِذۡ يَرَوۡنَ ٱلۡعَذَابَ أَنَّ ٱلۡقُوَّةَ لِلَّهِ جَمِيعٗا وَأَنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعَذَابِ ١٦٥﴾ [ البقرة : ١٦٥ ]
“আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে, যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে আল্লাহর সমকক্ষরূপে গ্রহণ করে, তাদেরকে আল্লাহকে ভালোবাসার মত ভালোবাসে। আর যারা ঈমান এনেছে, তারা আল্লাহর জন্য ভালোবাসায় দৃঢ়তর। আর যদি যালিমগণ দেখে- যখন তারা ‘আযাব দেখবে যে, নিশ্চয় সকল শক্তি আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আল্লাহ ‘আযাব দানে কঠোর।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৬৫]
মুমিনরাই হচ্ছেন যিকিরকারী দল, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ٱلَّذِينَ يَذۡكُرُونَ ٱللَّهَ قِيَٰمٗا وَقُعُودٗا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمۡ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلۡقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ رَبَّنَا مَا خَلَقۡتَ هَٰذَا بَٰطِلٗا سُبۡحَٰنَكَ فَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ ١٩١﴾ [ ال عمران : ١٩١ ]
“যারা আল্লাহকে স্মরণ করে (তাঁর যিকির করে) দাঁড়িয়ে, বসে ও কাত হয়ে এবং আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে। (বলে) হে আমাদের রব, তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি কর নি। তুমি পবিত্র মহান। সুতরাং তুমি আমাদেরকে আগুনের ‘আযাব থেকে রক্ষা কর।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯১]
তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ:
-তাওয়াফ পাক খাওয়া ও ঘূর্ণন-এর নাম। ভালোবাসা ও সান্নিধ্য প্রত্যাশী, অনুরাগী- প্রেমিকদের অবস্থাও তাই। প্রেমাষ্পদের চতুরপার্শ্বে ঘুরপাক খায়। প্রদক্ষিণ করে তার বাসস্থান, স্মৃতিচিহ্ন ইত্যাদি বার বার, নিরলস, বিরামহীন। প্রহরের প্রহর অপেক্ষায় কাটিয়ে দেয়। ক্লান্তি কভু পরাজিত করতে পারে না এদের, পরিশ্রান্তও হয় না তারা কখনো। ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে ফিরে যায় না প্রেমাষ্পদের সান্নিধ্য থেকে। প্রেমাষ্পদের সন্তুষ্টি, ভালবাসা, তার সাথে কথা বলা, তার দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে নিজেকে ধন্য ও গৌরবান্বিত করা অবধি সে চেষ্টা অব্যাহত থাকে অনাবরত...।
-তাওয়াফ অবস্থায় সম্পাদনকারীর হৃদয়-মন জুড়ে থাকে যার জন্য তাওয়াফ করা হচ্ছে তার নাম। অন্তর কেবল তাকেই স্মরণ করে। মেজাজ-মস্তিষ্ক থাকে শুধু তার চিন্তায়ই বিভোর। মানসপটে ভেসে ওঠে বার বার তার প্রতিচ্ছবি। মহান আল্লাহ তা‘আলাকে যারা অধিক হারে স্মরণ করে, তাঁর প্রেমে যারা আত্মহারা তাদের অবস্থাও তা-ই।
সুতরাং তাওয়াফ এমনই এক ইবাদত যা দীনের মূল ও মগজ আল্লাহর প্রেম ও যিকিরকে স্মরণ করিয়ে দেয়। নির্ভেজাল প্রেম, নিখাদ অনুরাগ ও বুকভরা ভালোবাসা নিয়ে তাওয়াফকারী তাওয়াফ সম্পাদন করে। আর শিক্ষা গ্রহণ করে যে পার্থিব জীবনে প্রকৃত মুমিনের অবস্থা এমনটিই। কোনো কিছুকেই সে মহান মাওলার উপর প্রাধান্য দেয় না। না ভক্তি-ভালবাসায়, না অনুরাগ-স্মরণে। এটিই তালবিয়ার মূলকথা,
لبيك اللهم لبيك لبيك لا شريك لك لبيك .......
“আমি হাযির হে মা‘বূদ আমি হাযির, আমি হাযির তোমার কোনো শরীক-সমকক্ষ নেই, আমি হাযির...।”
যা উচ্চারিত হয় প্রতিটি হাযির মুখে ইহরামের সময়, তারবিয়ার দিন, ‘আরাফা ও মুযদালিফায়, এমনকি ঈদের দিন জামরায়ে ‘আকাবার প্রাককালে। এ কথা বলে হাজী সাহেব নিজ উপস্থিতি ঘোষণা করে, ভালোবাসা ব্যক্ত করছেন মহান প্রেমাষ্পদ সকাশে; হে প্রেমময় মাওলা, তোমার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে ধন্য হতে আমি তোমার দরবারে এসে উপস্থিত হয়েছি সব কিছুকে পেছনে ফেলে। মন-প্রাণ-দেহ সব নিয়েই উপস্থিত হয়েছি আমি। প্রতিজ্ঞা করছি তোমার অনুগত হয়ে চলার। তোমার সন্তুষ্টি ও ভারবাসায় সব কিছু উৎসর্গ করার...।