hadith book logo

আল্লাহর পথের অভিযাত্রী

লেখকঃ ড. লুতফুল্লাহ ইবন মোল্লা আব্দুল আযীম খাজা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

আর এর উদাহরণই হচ্ছে সাফা মারওয়ার সা‘ঈ।

-সা‘ঈ বলা হয়, বারংবার যাওয়া-আসাকে। নিষ্ঠাবান-আন্তরিক-মুখলিস ব্যক্তি কবুলের আশায় প্রাণান্তকর শ্রম ব্যয় করে, যদি প্রথম বারে না হয় তাহলে দ্বিতীয় বার, না হয় তৃতীয় বার...

-সঠিক পন্থায় নিরবচ্ছিন্ন সা‘ঈ, দুনিয়াতে জান্নাতের রাস্তাও এমনই; সিরাতে মুস্তাকীম- তথা বক্রতা বিহীন সঠিক-সরল রাস্তা।

-সা‘ঈতে রয়েছে দীর্ঘতা, উর্দ্ধারোহন, অধগমন...। অনুরূপ জান্নাতের রাস্তাও দীর্ঘ এবং কষ্ট সঙ্কুল। আল্লাহর সামগ্রী মহা মূল্যবান।

-হজের সা‘ঈতে নিদর্শনদ্বয়ের মাঝে শ্রম ব্যয় করতে হয় নিদারুণ কষ্ট স্বীকার করে। তেমনি করে জান্নাতের রাস্তায়ও চলতে গেলে প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়। কষ্ট-শ্রম ব্যয় করে জয় ছিনিয়ে আনতে হয়।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে, চেষ্টা ও শ্রম ব্যয়ের মাধ্যমে সঠিক পথের দিশা পাওয়া যায়। ধারণা লাভ হয় ঐ রাস্তার গুণাগুণ, ইখলাস, ইস্তিকামাত ও তালবিয়ার সারকথা -হে আল্লাহ আমি তোমার নিরবচ্ছিন্ন আনুগত্যে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, সার্বক্ষণিক তাতেই থাকব নিমজ্জিত- সম্বন্ধে। এবং সে রাস্তার পরিচয় ও নির্ধারিত যে কার্যাদি রয়েছে সে সম্পর্কেও অবহিত হওয়া যায় নির্ভুলভাবে।

অতএব, বর্ণিত রুকন চতুষ্টয়ের অনুপুঙ্খ বাস্তবায়ন ভিন্ন হজের সফরকে যেমন সাওয়াব, মাতৃগর্ভ থেকে সদ্য ভূমিষ্ট শিশুর ন্যায় পাপমুক্তি ও কবুলিয়াতের বন্দরে নোঙ্গর করানো যায় না। অনুরূপভাবে উল্লিখিত চার কাজের বাস্তবায়ন ভিন্ন দুনিয়ার সফরকেও জান্নাতের বন্দরে নোঙ্গর করানো যাবে না।

বাকি থাকল ওয়াজিবসমূহের সম্পাদন ও নিষিদ্ধ বিষয়গুলো বর্জন প্রসঙ্গ। ওযরের কারণে কোনো ওয়াজিব বাদ পড়ে গেলে ফিদিয়া প্রদান আবশ্যিক করে বিষয়টিকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। অনুরূপভাবে ভুল করে বা অজ্ঞতা বশতঃ কিংবা বাধ্য হয়ে কোনো নিষিদ্ধ কাজ সম্পাদনের বিষয়টিকেও এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে আর ইচ্ছাকৃতভাবে করলে ফিদিয়া বা কাফফারা আবশ্যক করে ছাড় দেওয়া হয়েছে। উভয় প্রকার সফরেও বিষয়টি একই রকম।

সুতরাং পার্থিব জীবন ছেড়ে জান্নাত পানে সফরের সাথে হজের সফরের বড়ই চমৎকার মিল রয়েছে। সঠিক বুঝ ও উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য সুযোগটি খুবই ফলপ্রদ। গভীর মনোযোগ সহকারে উপলব্ধি ও চিন্তা-গবেষণার জন্যই মহা গ্রন্থ পবিত্র কুরআনকে নাযিল করা হয়েছে।

আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

﴿كِتَٰبٌ أَنزَلۡنَٰهُ إِلَيۡكَ مُبَٰرَكٞ لِّيَدَّبَّرُوٓاْ ءَايَٰتِهِۦ وَلِيَتَذَكَّرَ أُوْلُواْ ٱلۡأَلۡبَٰبِ ٢٩﴾ [ص: ٢٩ ]

“আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি এক বরকতময় কিতাব, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং যাতে বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে।” [সূরা সাদ, আয়াত: ২৯]

﴿أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ ٱلۡقُرۡءَانَ أَمۡ عَلَىٰ قُلُوبٍ أَقۡفَالُهَآ ٢٤﴾ [ محمد : ٢٤ ]

“তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করে না? নাকি তাদের অন্তরসমূহে তালা রয়েছে?” [সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ২৪]