hadith book logo

মুসলিমের আদব বা শিষ্টাচার

লেখকঃ আহমদ আল-মাযইয়াদ/আদেল ইবন আলী আশ-শিদ্দী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪

2. আল্লাহ রাববুল ‘আলামীনের সাথে শিষ্টাচার

একজন মুসলিম এটা ভালোভাবে অবগত যে আল্লাহ রাববুল ‘আলামীনই তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই তাকে রিযিক দিয়েছেন, তিনিই তাকে সকল নি‘আমত দিয়েছেন এবং তার উপর থেকে সকল প্রকার কষ্ট বিদূরিত করেছেন। সুতরাং তাকে অবশ্যই তার রবের সাথে সর্বোচ্চ শিষ্টাচার প্রদর্শন করতে হবে।

আল্লাহর সাথে শিষ্টাচারের অন্যতম একটি দিক হলো- তাঁর শরীয়তের পরিপূর্ণ অনুসরণ, আর তা হবে আদিষ্ট বিষয়াবলী পালন এবং নিষেধকৃত বিষয়াবলী বর্জনের মাধ্যমে।

আল্লাহর সাথে আদবের মধ্যে শরী‘আত বিধৃত কোনো কাজের বিপক্ষে যুক্তি পেশ করা থেকে বিরত থাকা। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿ وَمَا كَانَ لِمُؤۡمِنٖ وَلَا مُؤۡمِنَةٍ إِذَا قَضَى ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥٓ أَمۡرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ ٱلۡخِيَرَةُ مِنۡ أَمۡرِهِمۡۗ ﴾ [ الاحزاب : ٣٦ ]

‘‘কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা নারীর উচিৎ নয় আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দেওয়া ফয়সালার ওপর নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।’’ [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৬]

আল্লাহ রাববুল ‘আলামীন আরো বলেন,

﴿ إِنَّمَا كَانَ قَوۡلَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ إِذَا دُعُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ لِيَحۡكُمَ بَيۡنَهُمۡ أَن يَقُولُواْ سَمِعۡنَا وَأَطَعۡنَاۚ ﴾ [ النور : ٥١ ]

‘‘মুমিনদের কথাতো এমনই হবে যে, যখনই তাদের মধ্যকার কোনো ফয়সালার জন্য তাদেরকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দিকে আহ্বান করা হবে, তখন তারা বলবে: শুনলাম এবং মানলাম।’’ [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৫১]

আল্লাহর সাথে আদব রক্ষার অপর একটি দিক হলো- তার নি‘আমাতের শুকরিয়া আদায় করা এবং তার স্ত্ততি করা, তাঁকে বেশি বেশি স্মরণ করা এবং অধিক পরিমাণে দো‘আ করা এবং তাঁর সকল কাজেই তাঁর কাছে আশ্রয় গ্রহণ করা, তাঁকে ভালোভালোবাসা, তাঁর সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করা, তাঁর শাস্তিকে ভয় করা, তাঁর কাছে সাওয়াব তথা পূণ্যের আশা করা, তাঁর মহান কিতাব পবিত্র কুরআন অধিক তিলাওয়াত করা, সকল প্রকার কবীরা ও সগীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা।