hadith book logo

ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে ইতিবাচকে পরিণত করার দৃষ্টান্ত:

উহুদের যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু্ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। এ কারণে মদীনাবাসীর হৃদয়ে উহুদ পাহাড় সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছিল। উহুদ পাহাড়ের দিকে তাকালে যুদ্ধে তাদের দুরবস্থার কথা মনে পড়ে যেত। মনে পড়ে যেত যুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া আপনজনদের কথা। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাবাসীদের এ নেতিবাচক ধারণা পাল্টে দিলেন। তিনি বললেন, “উহুদ আমাদের ভালোবাসে আমরাও উহুদকে ভালোবাসি।”

মানুষ যখন বিপদে পড়ে, তার কোনো আপনজন মারা যায় তখন তা তার জন্য এক বিশাল বিপদ হয়ে দেখা দেয়। এ অবস্থায় মানুষ যাতে নৈরাশ্যে আক্রান্ত না হয়, বরং আশায় বুক বাঁধে, এ অবস্থাতেও ইতিবাচক সৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে যায় তার জন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যখন কারো বিপদ আসে তখন সে বলবে,

إنا لله وإنا إليه راجعون، اللهم أجرني في مصيبتي هذه واخلف لي خيرا منها

“আমরা আল্লাহর জন্য এবং তার কাছেই ফিরে যাব। হে আল্লাহ! এ বিপদে আমাকে আপনি পুরস্কার দান করুন। আর এর বিনিময়ে এর চেয়ে উত্তম বস্তু আমাকে দিন।” তাহলে তার চলে যাওয়া বিষয় থেকে উত্তম নি‘আমত আল্লাহ তা‘আলা তাকে দান করবেন।

দেখুন, কীভাবে তিনি একটি নেতিবাচক অবস্থানকে সম্পূর্ণ ইতিবাচকে পরিণত করার ব্যবস্থা দিলেন।

আরেকটি দৃষ্টান্ত দেখুন! সহীহ হাদিসে এসেছে,

«كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا سمع قبيحا غيره، فمر على قرية يقال لها عفرة فسماها خضرة» .

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খারাপ কোনো নাম শুনতেন তখন তা পরিবর্তন করে দিতেন। তিনি এক গ্রামের উপর দিয়ে যাচ্ছিলেন যার নাম ছিল ‘আফরাহ’ (ধুলায় ধুসরিত) তিনি গ্রামের নামটি পরিবর্তন করে নতুন নাম দিলেন ‘খাদরাহ’ (সবুজ-শ্যামল)”। (তাবরানি: ৩৭১/১)

আমরা দেখি যখন কোনো নদীতে লঞ্চ ডুবে যায় বা ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় তখন অনেকে নদীকে গালি দেয়, বলে রাক্ষুসে নদী! ঝড়কে গালি দেয়, বলে সর্বনাশী সিডর ইত্যাদি। এটা একটা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। এটা পরিবর্তন করার জন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন। তিনি বলেছেন, তোমরা বাতাসকে গালি দেবে না। তোমরা যুগ বা সময়কে গালি দেবে না। তোমরা মোরগ-মুরগীকে গালি দেবে না। কোনো বস্তু বা বিষয়কে তোমরা কুলক্ষণ মনে করবে না। সবকিছুকে সুলক্ষণ মনে করা আমার কাছে প্রিয়। এভাবে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে ইতিবাচকে পরিণত করে দেওয়ার অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে হাদীস ও সীরাতে রাসূলে।