hadith book logo

ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

কেন ইতিবাচক মূল্যায়ন জরুরি?

ইতিবাচক দিকের আলোচনা মানুষের মধ্যে সৎকাজের আগ্রহ সৃষ্টি করে। ব্যক্তিসত্তা ও মূল্যবোধ জাগ্রত করে। তাকে এ বিশ্বাস করতে শেখায় যে, সে এ সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যাকে যে গুণের কারণে মূল্যায়ন করা হবে সে তার সেই গুণটির গুরুত্ব দেবে। সে বিশ্বাস করবে, আমাকে যখন এর জন্য প্রশংসা করা হয়েছে তখন এটি আমার সম্পদ। এ সম্পদ আমাকে রক্ষা করতে হবে। এর ওপর অবিচল থাকতে হবে। সাথে সাথে সে এর অতিরিক্ত ভালো গুণটি অর্জন করার জন্য আগ্রহ দেখাবে। দেখুন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে আমার উম্মতের মধ্যে দয়ার্দ্র। আর উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সম্পর্কে বললেন, সে আল্লাহর আদেশের ব্যাপারে কঠোর। ফলে উভয়ে চেষ্টা করলেন অন্যের গুণটিকে নিজে আয়ত্ত করতে। তাই আমরা দেখি ধর্মদ্রোহীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্তের বেলায় আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কঠোর হয়েছিলেন আর উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হয়েছিলেন দয়ার্দ্র। আবার কারো ইতিবাচক গুণের প্রকাশ্যে মূল্যায়ন করলে বা স্বীকৃতি দিলে যার মধ্যে এ গুণটির অভাব আছে সে এটি অর্জনের জন্য আগ্রহী হয়ে থাকে। যখন মানুষের মধ্যে সকলের ভালো গুণগুলোর ইতিবাচক মূল্যায়নের সংস্কৃতি চালু হয়ে যাবে তখন পরনিন্দা, গীবত, পরদোষ-চর্চা, অপবাদ, গালিগালাজ ইত্যাদি খারাপ আচরণগুলো দূর হয়ে যাবে।

এমনিভাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণের কাউকে উপাধি দিয়েছেন, সাইফুল্লাহ, কাউকে আসাদুল্লাহ, কাউকে তাইয়ার আবার কাউকে আমীনুল উম্মাহ বলে। এগুলো সবই ছিল ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ও ইতিবাচক দৃষ্টিতে মূল্যায়ন।