hadith book logo

ইসলামের প্রাথমিক শিক্ষা

লেখকঃ অনুবাদ ও গবেষণা বিভাগ, জুবাইল দাওয়া এন্ড গাইডেন্স সেন্টার • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১

ঈমানের রুকন সমূহ:

ইসলামে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বাস হচ্ছে ছয়টি। এগুলো সম্পর্কে একজন মুসলিম ব্যক্তির পূর্ণ বিশ্বাস রাখা অতি আবশ্যক।

প্রথমত: আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস: আল্লাহ্‌ নভোমন্ডলের উপরে থাকেন। তিনি আমাদের পালনকর্তা। তিনি সমস্ত বস্তুর সৃষ্টিকারী। সব কিছুর তত্বাবধানকারী। সর্ব বিষয়ে জ্ঞানী। সর্বক্ষমতাবান। তিনি স্বীয় নাম, গুণাবলী ও কর্মে সুমহান ও পরিপূর্ণ। তাঁর কোন সঙ্গীনি ও সন্তান নেই। জম্মদাতা নেই। তাঁর সমকক্ষ কেহ নেই। তিনিই এককভাবে আমাদের মাবূদ (উপাস্য)। পৃথিবীর সবকিছুই তাঁর গোলাম ও আজ্ঞাবহ।

দ্বিতীয়ত: ফেরেস্তাদের প্রতি বিশ্বাস: এরা আল্লাহ্‌র সৃষ্টিকুলের অন্তর্গত। তারা আল্লাহ্‌র সৎবান্দা। তাঁর কাছে সম্মানিত। তাঁদের সংখ্যা অগণিত। আল্লাহ্‌র নির্দেশে তাঁরা এ পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরণের কর্মে নিয়োজিত আছেন। যেমন, মানব জাতির অন্তর্গত নবী-রাসূলদের নিকট ওহী (প্রত্যাদেশ) নিয়ে আগমণ করা। মানুষের কর্ম সমূহ লিপিবদ্ধ করা ইত্যাদি।

তৃতীয়ত: আসমানী কিতাব সমূহের প্রতি বিশ্বাস: আল্লাহ্‌ তাওআলা কতিপয় নবী (আ:)এর প্রতি কিছু কিছু গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন। তাঁরা এসমস্ত গ্রন্থ মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। এগুলো আল্লাহ্‌র বাণী। যেমন, তাওরাত মূসা (আ:)এর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। ইঞ্জিল অবতীর্ণ হয়েছে ঈসা (আ:)এর প্রতি। যাবুর নাযিল হয়েছে দাঊদ (আ:)এর প্রতি। আর শেষ গ্রন্থ হচ্ছে কুরআন। যা জিবরীল এর মাধ্যমে অবতীর্ণ করা হয়েছে আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর প্রতি। এ গ্রন্থ পূর্ববর্তী সকল গ্রন্থের বিধানকে রহিত করে দিয়েছে। আমরা আসমানী সমস্ত গ্রন্থের প্রতি বিশ্বাস রাখব। কিন্তু জীবন পরিচালনা করব শুধু কুরআন ভিত্তিক।

চতুর্থত: নবী-রাসূলদের প্রতি ঈমান: আল্লাহ্‌ তাআলা মানব জাতির মধ্যে থেকে কতিপয় ব্যক্তিকে নির্বাচন করে তাঁদের কাছে ওহী (প্রত্যাদেশ) প্রেরণ করেছেন। তাঁদের প্রেরণ করেছেন এই আদেশ দিয়ে যে তাঁরা মানুষকে শুধুমাত্র এককভাবে আল্লাহ্‌র ইবাদত (দাসত্ব) করার প্রতি আহ্বান জানাবেন। নূহ, ইবরাহীম, মূসা, ঈসা প্রমুখ (আ:) আমরা তাঁদের সবার প্রতি ঈমান রাখব। কিন্তু আমরা কর্ম জীবন পরিচালনা করব শুধুমাত্র শেষ নবী মুহাম্মাদ বিন আদুল্লাহ্‌ আল কুরাইশী আল আরাবী (ছা:) কর্তৃক প্রদত্ব বিধানের ভিত্তিতে। যিনি ঈসা (আ:)এর জম্মের ৫৭০ বছরের চাইতে বেশী সময় পর মক্কায় জম্ম গ্রহণ করেন।

পঞ্চমত: শেষ দিবসের উপর বিশ্বাস: মৃত্যুর পর আল্লাহ্‌ তাওআলা সমস্ত মানুষকে পূণর্জীবিত করবেন। তাদের কর্মের হিসাব নিবেন এবং প্রতিদান দিবেন। আল্লাহ্‌র আনুগত্যকারী মুওমিনদেরকে জান্নাত দান করবেন এবং তাঁর অবাধ্য কাফেরদেরকে প্রবেশ করাবেন জাহান্নামে। এজীবনের কোন শেষ নেই, যার পরে নেই কোন মৃত্যু। رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল্‌ আখিরাতি হাসানাতাঁও ওয়াক্বিনা আযাবান্নার। অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ দান কর এবং আমাদেরকে দোযখের আযাব হতে রক্ষা কর। (সূরা বাকারা- ২০১)

ষষ্ঠত: তক্বদীরের প্রতি বিশ্বাস: আল্লাহ্‌ তাআলা প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি হওয়ার পূর্বে তা পরিমাপ করেছেন এবং তা নির্ধারণ করেছেন। প্রত্যেক বস্তু আল্লাহ্‌র নির্দেশে ও তাঁর জ্ঞান অনুযায়ী হয়ে থাকে। এমনকি ঈমান, কুফরী, বিপদাপদ, জীবিকা, জীবন-মৃত্যু। তিনি তা নির্ধারণ করেছেন বিরাট একটি কৌশলের কারণে- যে ব্যাপারে একমাত্র আল্লাহ্‌ই অধিক জ্ঞান রাখেন। আল্লাহ্‌ এসমস্ত বিষয় তাঁর নিকট একটি গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। আল্লাহ্‌ যা নির্ধারণ করেছেন এবং লিপিবদ্ধ করেছেন তার বাইরে কোন কিছু ঘটবে না। আর আল্লাহ্‌ তাঁর অসীম ক্ষমতাবলে মানুষের জন্য যা নির্ধারণ করা আছে তা নির্বাচন করার জন্য তাকে তাওফীক (আনুকুল্য) দিয়ে থাকেন।