hadith book logo

ইসলামের প্রাথমিক শিক্ষা

লেখকঃ অনুবাদ ও গবেষণা বিভাগ, জুবাইল দাওয়া এন্ড গাইডেন্স সেন্টার • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮

নারী

ইসলাম নারীকে পুরুষের সাথী হিসেবে নির্ধারণ করেছে। তাদের একজন অপরজন ছাড়া অচল। দুজনই দুজনার মুখাপেক্ষী।

স্ত্রীকে সম্মান করা ইসলাম আবশ্যক করেছে। মোহর এবং নারীর ভরণ-পোষণ পুরুষের উপর অনিবার্য করা হয়েছে। সৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পিতার আগে মাতাকে অগ্রগণ্য করা হয়েছে।

ইসলাম নারীকে অধিকার দিয়েছে- সে শিক্ষা অর্জন করবে, সম্পদ উপার্জন করবে, সম্পদের মালিক হবে, উত্তরাধিকার হবে, বিবাহের প্রস্তাব দানকারী পুরুষকে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে।

নারী পুরুষের মতই আল্লাহ্‌র সৃষ্টিকুলের অন্তর্গত। ইসলামে প্রবেশ করা এবং আল্লাহ্‌র ইবাদত করা তার উপরও আবশ্যক। নারীর উপর আবশ্যক হল সন্তানদেরকে ইসলামের শিক্ষা এবং সচ্চরিত্রের উপর প্রতিপালিত করা। স্বামীর আনুগত্য ও তাকে সম্মান করা, তাকে নেক কাজে ও অন্যায় পরিত্যাগ করতে সহযোগিতা করা। আর তার উপর অপরিহার্য হল অপর নারীকেও ইসলাম ও কল্যাণের পথে আহ্বান জানানো।

ইবাদতের ক্ষেত্রে, নিষিদ্ধ বিষয়ে এবং ইসলামের অন্যান্য বিধি-বিধানে পুরুষ এবং নারীর মাঝে কোন পার্থক্য নেই। অবশ্য যে সমস্ত বিষয় ইসলাম পুরুষের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছে সেগুলো ব্যতিক্রম।

ইসলাম নারী ও পুরুষের মধ্যে সৃষ্টিগত পার্থক্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করে। বিশেষ দৃষ্টি রাখে নারীর প্রাকৃতিক বিষয়গুলোর প্রতি। যেমন: নারীর ঋতু, গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব ইত্যাদি।

মুসলিম নারী ঋতু এবং নেফাস (সন্তান প্রসবোত্তর স্রাব) অবস্থায় ছালাত-ছিয়াম কিছুই করবে না। যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হবে না। ঋতু বা নেফাস শেষ হলে পরিপূর্ণরূপে গোসল করে পবিত্র হবে। তারপর ঋতু বা নেফাস অবস্থায় ছুটে যাওয়া ছিয়ামগুলো শুধু ক্বাযা করবে কিন্তু ছালাতের ক্বাযা আদায় করতে হবে না।

ইসলাম নারীর সম্ভ্রম রক্ষা করে। তাকে অসম্মান এবং ব্যভিচারের অনিষ্ট থেকে বাঁচিয়ে রাখে। তাই তার উপর আবশ্যক করেছে- সমস্ত শরীর আচ্ছাদিত করে পোষক পরিধান করা- যা তাকে এবং অন্যদেরকে ফিৎনা-ফাসাদ থেকে রক্ষা করবে। তার উপর নিষিদ্ধ করা হয়েছে পরপুরুষের সাথে নির্জনে দেখা-সাক্ষাৎ করা। (এমন ব্যক্তি যে তার স্বামী নয় বা চিরকাল বিবাহ হারাম এমন কোন পুরুষ নয়। যেমন, পিতা, ছেলে, ভাই, চাচা, মামা।)

মুসলিম নারীর জন্য বৈধ নয় কোন অমুসলিম ব্যক্তিকে বিবাহ করা।